Middle East Crisis

আমেরিকার আধিকারিক-নাগরিকদের ওপরে হামলার ছক কষছে ইরান, গোয়েন্দাকর্তার দাবিতে শোরগোল

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নাগরিক ও সরকারি আধিকারিকদের নিশানা করার ছক কষার অভিযোগ তুলেছেন গোয়েন্দাপ্রধান জে ক্লেটন। সতর্কবার্তার জেরে মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক মার্কিন দূতাবাসে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • শেষ আপডেট: ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ০১:৪৭

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়ানোর আশঙ্কার মধ্যেই আমেরিকার নাগরিক ও সরকারি আধিকারিকদের নিশানা করার চেষ্টা বাড়িয়েছে ইরান। এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন আমেরিকার জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান জে ক্লেটন। তাঁর দাবি, মধ্যপ্রাচ্য-সহ বিশ্বের একাধিক জায়গায় মার্কিন নাগরিকদের খুনের পরিকল্পনা আরও অগ্রসর পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই সতর্কবার্তাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

২৩ অক্টোবর তারিখের একটি গোপনীয় নয়, এমন এক পাতার স্মারকলিপিতে মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়োকে এই বিষয়ে সতর্ক করেন ক্লেটন। ওই স্মারকলিপিতে তিনি জানান, বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন কর্মীদের নিশানা করার প্রচেষ্টা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে ইরান। সিআইএ-র প্রধান জন র‍্যাটক্লিফকেও এই স্মারকলিপির প্রতিলিপি পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আনে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। পরে মার্কিন আধিকারিকরাও স্মারকলিপিটির সত্যতা নিশ্চিত করেন।

তবে ঠিক কোন ব্যক্তি বা কোন দেশের কোথায় হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। এমনকী, সম্ভাব্য হামলা অবিলম্বে ঘটতে পারে কি না, তা-ও স্পষ্ট করেননি গোয়েন্দাপ্রধান। ক্লেটনের বক্তব্য, বর্তমানে যে সংখ্যক আধিকারিক এই গোয়েন্দা তথ্য জানেন, তার চেয়ে আরও বেশি কর্মীর কাছে সতর্কবার্তাটি পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন। সেই কারণে সংবেদনশীল তথ্যের কিছু অংশ প্রকাশের উপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে মার্কিন দূতাবাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হচ্ছে। সৌদি আরবের রিয়াধে মার্কিন দূতাবাস এবং জেড্ডা ও ধাহরানের কনস্যুলেট থেকে জরুরি নয় এমন কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, লেবানন, কাতার ও জর্ডনের মার্কিন দূতাবাসগুলিতেও কর্মীসংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হুথি বিদ্রোহীদের হামলার আশঙ্কাও এই সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ।

এদিকে, ইরানের সঙ্গে আমেরিকার সংঘাত ফের বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সমঝোতা না হলে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনার কথা বলেছেন। ফলে গোয়েন্দা সতর্কবার্তা ও দূতাবাসগুলিতে কর্মী কমানোর সিদ্ধান্তে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।


Share