Jagadhatri Puja Safety

বুড়িমার দর্শনে জনস্রোত, চোরবাগান থেকে শিক্ষা নিয়ে ভিড় সামলাতে কতটা প্রস্তুত কৃষ্ণনগর?

চোরবাগানের দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে কৃষ্ণনগরের বুড়িমার পুজোয় ভিড় নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা ও জরুরি পরিষেবার প্রস্তুতিতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে প্রশাসন।

কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী পুজো।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ০২:৫১

কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনের দুর্গাপুজোয় পদপিষ্টের মর্মান্তিক ঘটনার পর এ বার কৃষ্ণনগরের ঐতিহ্যবাহী জগদ্ধাত্রী পুজোয় নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। বিশেষ করে চাষাপাড়া বুড়িমার দর্শনে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক ভক্তের সমাগম হয়। তাই ভিড় নিয়ন্ত্রণ, প্রবেশ ও বেরোনোর পথ এবং জরুরি পরিষেবার প্রস্তুতি নিয়ে প্রশাসন ও পুজো উদ্যোক্তাদের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন সাধারণ মানুষ।

রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের শহর কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী পুজো বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় উৎসব। এখানকার চাষাপাড়া বুড়িমার পুজোয় থিম বা জাঁকজমকের চেয়ে বড় আকর্ষণ দেবীর অপরূপ রূপ ও ভক্তদের বিশ্বাস। মানতের সোনার গয়নায় সজ্জিত বুড়িমাকে দর্শন করতে ভোররাত থেকেই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ান পুণ্যার্থীরা। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড়ও বাড়ে। সরু গলি ও সীমিত জায়গায় এই বিপুল জনসমাগম সামলানোই এ বার বড় চ্যালেঞ্জ।

চোরবাগানের ঘটনার পর স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, কৃষ্ণনগরে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে? পর্যাপ্ত ব্যারিকেড, বড় প্রবেশ ও প্রস্থান পথ, সিসিটিভি নজরদারি, পুলিশ মোতায়েন, স্বেচ্ছাসেবক এবং জরুরি চিকিৎসা পরিষেবার প্রস্তুতি—সবকিছুর ওপরই জোর দেওয়ার দাবি উঠছে।

চাষাপাড়া বুড়িমা পুজো কমিটির সাধারণ সম্পাদক কেষ্ট পাল জানিয়েছেন, ভিড় নিয়ন্ত্রণ-সহ যাবতীয় ব্যবস্থা পুলিশ প্রশাসনের নির্দেশ মেনেই করা হবে। তাঁর কথায়, কলকাতায় সদ্য বিপর্যয় ঘটেছে। তাই কোনও রকম ঝুঁকি নিতে চান না উদ্যোক্তারা। প্রশাসন যে নির্দেশ দেবে, তা-ই মেনে চলবেন তাঁরা।

অন্যদিকে, কাঁঠালপোতা ছোটোমা পুজো কমিটির প্রাক্তন কর্তা দেবাশিস রায়ের দাবি, কৃষ্ণনগরে বিভিন্ন জায়গায় পুজো ছড়িয়ে থাকায় একসঙ্গে সর্বত্র বিপুল ভিড় হয় না। তবে বুড়িমার মণ্ডপে ভিড় বেশি থাকে। ছোটোমার পুজোয় সিসিটিভি, পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকদের সাহায্যে পরিস্থিতি সামলানো হয় বলেও জানান তিনি।

কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্রের বিধায়ক তারকনাথ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, পুলিশ ও পুজো উদ্যোক্তাদের নিয়ে সমন্বয় বৈঠক হবে। প্রবেশ ও বেরোনোর পথ বড় করা, রাস্তার পুজোয় যথাযথ তল্লাশি এবং বেশি সংখ্যায় স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েনের বিষয়ে তিনি পুলিশকে বলবেন।

এ দিকে, বিসর্জনের ‘সাঙ’ ঘিরেও উদ্বেগ রয়েছে। রাজবাড়ির নহবতখানা ছুঁয়ে কদমতলা ঘাটে যাওয়ার পথে বিভিন্ন প্রতিমার শোভাযাত্রা মুখোমুখি হলে সমস্যা তৈরি হতে পারে। কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার সুপার অতুল ভি জানিয়েছেন, জেলাশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে পুজো উদ্যোক্তাদের নিয়ে সমন্বয় সভা করা হবে। সেখানেই নিরাপত্তার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

চোরবাগানের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনা কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর কৃষ্ণনগরবাসীর


Share