Murder Case

সম্পত্তি না পারিবারিক বিবাদ, কী কারণে এমন নৃশংসতা? দু'বছরের শিশুকে জলে ডুবিয়ে খুনের স্বীকারোক্তি জেঠিমার, গাজোলে আটক দু’জন

অভিযোগ, শ্বাসরোধ করে খুনের পর শিশুটির চোখ উপড়ে নেওয়া হয়। শুক্রবার সকালে বাড়ির ভিতর একটি বস্তা থেকে উদ্ধার হয় তার দেহ।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, গাজোল
  • শেষ আপডেট: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ০৭:৫৯

পারিবারিক অশান্তির জেরে নৃশংস হত্যার শিকার দু'বছরের শিশু। মালদহের গাজলে শিশুটিকে খুনের অভিযোগ উঠেছে তার জেঠু ও জেঠিমার বিরুদ্ধে। অভিযোগ, শ্বাসরোধ করে খুনের পর শিশুটির চোখ উপড়ে নেওয়া হয়। শুক্রবার সকালে বাড়ির ভিতর একটি বস্তা থেকে উদ্ধার হয় তার দেহ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

মৃত শিশুটির বাবা-মা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই নিখোঁজ ছিল তাঁদের ছেলে। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না মেলায় গাজল থানার পুলিশের দ্বারস্থ হন তাঁরা। পুলিশও দিনভর তল্লাশি চালায়। কিন্তু বৃহস্পতিবার শিশুটির কোনও খোঁজ মেলেনি। শুক্রবার ভোরে বাড়ির ভিতর একটি বস্তা দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। বস্তার মুখ খুলতেই প্রথমে চোখে পড়ে প্লাস্টিকের সামগ্রী। সেগুলি সরাতেই বেরিয়ে আসে পরিবারের খুদে সদস্যের দেহ।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় গাজল থানার পুলিশ। শিশুটিকে উদ্ধার করে গাজল স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানোর জন্য আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বাবা-মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে শিশুটির জেঠু মুকলেশুর রহমান এবং জেঠিমা বিউটি খাতুনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।

জেলা পুলিশ সুপার অনুপম সিংহ জানিয়েছেন, নিখোঁজের অভিযোগ পাওয়ার পরই গ্রামবাসীদের সঙ্গে নিয়ে শিশুটির খোঁজ শুরু করে পুলিশ। শুক্রবার সকালে বাড়ি থেকেই তার দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের মধ্যে অশান্তি ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে পুলিশ। অভিযোগের ভিত্তিতে দু’জনকে আটক করা হয়েছে এবং খুনের মামলা রুজু করা হচ্ছে। পুলিশ সুপারের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় বিউটি খাতুন শিশুটিকে জলে ডুবিয়ে মেরে ফেলার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর আরও দাবি, ঘটনার পর একটি ঘরে শিশুটির দেহ লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং এর পিছনে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।


Share