President Draupadi Murmu

চা বাগানের মাটিতে সাইকেলে ঘুরে স্বাস্থ্যসেবা, রাষ্ট্রপতির হাত থেকে ‘ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল’ সম্মান গীতা কর্মকারের

অসামান্য নিষ্ঠা, মানবিকতা ও সমাজসেবার স্বীকৃতিস্বরূপ মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে মর্যাদাপূর্ণ ‘ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল’ পুরস্কার গ্রহণ করলেন জলপাইগুড়ির গীতা কর্মকার।

'ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল’ পুরস্কার গ্রহণ করলেন গীতা কর্মকার
নিজস্ব সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি
  • শেষ আপডেট: ১৩ মে ২০২৬ ০৫:৫৪

চা বলয়ের অন্ধকার ভেদ করে স্বাস্থ্যসেবার আলো ছড়িয়ে দেওয়া এক লড়াকু নারীর জীবনসংগ্রামকে কুর্নিশ জানাল দেশ। অসামান্য নিষ্ঠা, মানবিকতা ও সমাজসেবার স্বীকৃতিস্বরূপ মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে মর্যাদাপূর্ণ ‘ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল’ পুরস্কার গ্রহণ করলেন জলপাইগুড়ির গীতা কর্মকার। আন্তর্জাতিক নার্সিং দিবস উপলক্ষে নয়াদিল্লিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেশের ১৫ জন নির্বাচিত নার্সের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের একমাত্র প্রতিনিধি ছিলেন তিনি।

১৯৮৩ সালের জুন মাসে ফিমেল হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন গীতা দেবী। দীর্ঘদিন তাঁর কর্মক্ষেত্র ছিল ডেঙ্গুয়াঝাড় চা বাগান এলাকা। সেই সময় চা বাগানের শ্রমিক মহল্লাগুলিতে প্রায় সমস্ত প্রসবই হতো বাড়িতে, ফলে মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর হার ছিল অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কুসংস্কার, অশিক্ষা এবং স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাব কাটিয়ে মানুষকে সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার আওতায় আনা ছিল অত্যন্ত কঠিন কাজ।

তখন এলাকায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পাকা পরিকাঠামোও ছিল না। সাইকেলে চেপে গ্রামে গ্রামে ঘুরে, হাট-বাজারে চেয়ার-টেবিল পেতে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দিতেন তিনি। ২০০৮ সালে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ৪০ শতাংশ শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার হলেও দায়িত্ব থেকে একদিনের জন্যও পিছিয়ে যাননি। চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি বেলাকোবা গ্রামীণ হাসপাতালের হেলথ সুপারভাইজার পদ থেকে অবসর নেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি ভবনে গীতা দেবীর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার দৃশ্য টেলিভিশনে সম্প্রচারিত হতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে জলপাইগুড়ি জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডা. অসীম হালদার বলেন, “গীতা দেবীর হাত ধরে এই জেলায় আরও একটি নাইটিঙ্গেল পুরস্কার এল। এটি আমাদের জন্য পরম প্রাপ্তি।” ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ডা. প্রীতম বসুও দিনটিকে জেলার জন্য ‘গর্বের দিন’ বলে উল্লেখ করেছেন।

গীতা দেবীর স্বামী যুগল কিশোর কর্মকারও স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মী ছিলেন। তাঁদের একমাত্র সন্তান রজতশুভ্র বর্তমানে তাইওয়ানে বায়ো-মেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে উচ্চতর গবেষণায় যুক্ত।


Share