Politics Over Alipurduar

আলিপুরদুয়ারের ‘আলি’ ঘিরে নতুন বিতর্ক, নাম বদলের ইঙ্গিতে বিজেপি সভাপতি নীতিন নবীনের

তিনি বলেন, নীতিন নবীনের মন্তব্যের পেছনে কী যুক্তি রয়েছে, তা স্পষ্ট হওয়া দরকার এবং আলিপুরদুয়ার নামের ইতিহাস নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন আছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার
  • শেষ আপডেট: ০৯ এপ্রিল ২০২৬ ০৫:৩০

এলাহাবাদ থেকে প্রয়াগরাজ, মোগলসরাই থেকে দীনদয়াল উপাধ্যায় নগর নাম পরিবর্তনের রাজনীতিতে বিজেপির আগ্রহ নতুন নয়। এবার সেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে আলিপুরদুয়ার। জেলার নামের ‘আলি’ অংশ নিয়ে আপত্তি তুলে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন মন্তব্য করেছেন, এই নামের কারণেই নাকি এলাকায় উন্নয়ন নয়, বরং ‘বিনাশ’ এসেছে। বুধবার আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের সোনাপুরে দলীয় জনসভায় তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে জেলায় তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।

সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে নীতিন প্রথমে মঞ্চে উপস্থিত নেতাদের কাছে জায়গার নাম জানতে চান। তারপরই বলেন, আলিপুরদুয়ার নাম বদলে এমন নাম আনা উচিত যা উন্নয়নের দরজা খুলে দেবে এবং ঘরে ঘরে আলো পৌঁছে দেবে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল, বর্তমান নামের সঙ্গে তিনি উন্নয়নের অভাবকে যুক্ত করছেন।

এই মন্তব্যের পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে, হঠাৎ কেন আলিপুরদুয়ারের নাম বদলের প্রসঙ্গ সামনে আনলেন বিজেপির শীর্ষ নেতা। জেলার প্রবীণ প্রাবন্ধিক পরিমল দে মনে করেন, ‘আলি’ শব্দের সঙ্গে মুসলিম সংস্কৃতির যোগ আছে বলেই হয়তো এই ভাবনা এসেছে। তবে তাঁর মতে, কোনও স্থানের নামের সঙ্গে ইতিহাস, সংস্কৃতি ও স্থানীয় পরিচয়ের গভীর সম্পর্ক থাকে তাই তা হঠাৎ বদলে ফেলা যায় না।

একই সুর শোনা গিয়েছে লোকসংস্কৃতি গবেষক প্রমোদ নাথের বক্তব্যেও। তিনি বলেন, নীতিন নবীনের মন্তব্যের পেছনে কী যুক্তি রয়েছে, তা স্পষ্ট হওয়া দরকার এবং আলিপুরদুয়ার নামের ইতিহাস নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন আছে।

আলিপুরদুয়ারের নামের উৎস নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে একাধিক মত রয়েছে। আলিপুরদুয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক সুজয় দেবনাথ জানিয়েছেন, তিনটি প্রধান ধারণা প্রচলিত। প্রথমত, স্থানীয় ঐতিহাসিক চরিত্র আলি মেচের নামে এই নাম হতে পারে। দ্বিতীয়ত, রাজবংশী ভাষায় জমির সীমানা বোঝাতে ব্যবহৃত ‘আলি’ বা ‘আল’ শব্দ থেকে নামটির উৎপত্তি। তৃতীয় ধারণা অনুযায়ী, দ্বিতীয় ইন্দো-ভুটান যুদ্ধে অংশ নেওয়া কর্নেল হেদায়েত আলির নাম থেকে এই নাম এসেছে, যদিও এই তত্ত্ব তুলনামূলকভাবে দুর্বল।

সুজয় দেবনাথের মতে, একটি জায়গার নামের সঙ্গে বহুস্তরীয় ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট জড়িয়ে থাকে, এবং নামের সঙ্গে উন্নয়ন বা অনুন্নয়নের সরাসরি সম্পর্ক নেই।

রাজনৈতিক মহলেও এই মন্তব্য ঘিরে প্রতিক্রিয়া তীব্র। সিপিএম-এর জেলা সম্পাদক কিশোর দাস মনে করেন, এটি ধর্মীয় মেরুকরণের কৌশল। অন্যদিকে তৃণমূলের জেলা সভাপতি প্রকাশ চিকবড়াইক বলেন, ‘আলিপুরদুয়ার জেলা হওয়ার পর একের পর এক কাজ হয়েছে। বিজেপির নেতাদের হয়তো সেটা চোখে পড়ে না। এই নাম পরিবর্তন করার কথা হল রাজনৈতিক গিমিক।’


Share