Suicide case

পরিবারের অশান্তির জেরে বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ! পরে দু'ই ভাই বোনের অশান্তি, আত্মঘাতী ১৩ বছরের নাবালিকা

পরিবার সূত্রের খবর, দু'ই ভাই বোনের জন্মের পর বাবা তাদের ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়। সংসার চালানোর তাগিদে মা ব্যাঙ্গালোরে পরিচারিকার কাজ করে। ছোট থেকেই মামার বাড়িতে থাকে। বোনের বয়স ১৩ এবং দাদার বয়স ১৭।

১৩ বছরের নাবালিকা সৌমি দেবনাথ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, শান্তিপুর
  • শেষ আপডেট: ১৩ মে ২০২৬ ০২:০২

সংসারে অশান্তির জেরে বাবা-মা থাকতেও স্নেহ থেকে বঞ্চিত দু'ই ভাই বোন। শেষে দু’জনের মধ্যে ঝগড়া। তার ফলেই বড় সিদ্ধান্ত বোনের। মাত্র ১৩ বছর বয়সেই গলায় ফাঁস লাগিয়ে বোন আত্মঘাতী হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার শান্তিপুর থানার বাইগাছি পাড়া এলাকায়। মৃত ওই নাবালিকার নাম সৌমি দেবনাথ। ঘটনায় গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পরিবার সূত্রের খবর, দু'ই ভাই বোনের জন্মের পর বাবা তাদের ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়। সংসার চালানোর তাগিদে মা বেঙ্গালুরুতে পরিচারিকার কাজ করেন। ছোট থেকেই মামার বাড়িতে থাকত তাঁরা। বোনের বয়স ১৩ এবং দাদার বয়স ১৭। পরিবারের দাবি, তার দাদা মাঝেমধ্যে পড়াশোনা নিয়ে বোনকে বকুনি দিত।

গতকাল দু'ই ভাই বোনের মধ্যে পড়াশুনা নিয়ে বিবাদ সৃষ্টি হয়। পরিবারের অনুমান তার জেরে ফাঁকা বাড়িতে ওই নাবালিকা গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই নাবালিকার দেহ উদ্ধার করেছে। প্রথমে শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করে। রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে নাবালিকার মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে ওই নাবালিকার মাসি বলেন, “ছোট থেকেই তারা মামার বাড়িতে মানুষ। মাঝেমধ্যেই দাদা পড়াশুনা বিষয় নিয়ে বকুনি দিত। তবে এই কাজ করবে কিছুতেই আমরা বুঝে উঠতে পারিনি। সৌমি শরৎকুমারী হাই স্কুলে সপ্তম শ্রেনীর ছাত্রী ছিল।”

ঘটনায় নাবালিকার দাদুর দাবি, “আমি কাজে গিয়েছিলাম সেখানেই শুনি নাতনি এই ঘটনা ঘটিয়েছে। তড়িঘড়ি বাড়িতে এসে দেখি আমার নাতনি ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। তিনি আরও বলেন, “ভাই বোনের বিবাদের কারণে অভিমানে আত্মঘাতী হয়ে থাকতে পারে।”

তবে মৃতদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে এলেই স্পষ্ট হবে তার মৃত্যুর কারণ অন্য। অন্য দিকে, শান্তিপুর পুলিশ পরিবারের সঙ্গে কথা বলে এই ঘটনার তদন্ত করছে।


Share