Suvendu Adhikari

দুর্নীতিগ্রস্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে তদন্ত চালিয়ে যেতে আর নিতে হবে না অনুমোদন, জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

তৃণমূল জমানায় কেন্দ্র-রাজ‍্য সংঘাত চরমে উঠেছিল। কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তকে বাস্তবায়িত করার বদলে তার বিরুদ্ধে হাই কোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়েছিল। তাতে রাজ‍্যবাসীর কোনও লাভ হয়নি।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৩ মে ২০২৬ ০৪:৪৯

দুর্নীতিগ্রস্ত আমলা এবং আধিকারিকদের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে আর লাগবে না রাজ্য সরকারের অনুমোদন। সেক্ষেত্রে তদন্তের জন‍্য কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে কোনও অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

নির্বাচনী প্রচারপর্বেও বিজেপি বারবার সেই আশ্বাস রাজ‍্যবাসীকে দিয়ে এসেছিল। ক্ষমতায় আসার পর তা কার্যকর করে দেখানোর পালা। নবান্নের সাংবাদিক বৈঠক করে রাজ‍্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁর সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, রাজ্য সরকারের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে, সিবিআই বা অন্য কোনও তদন্তকারী সংস্থাকে চার্জশিট দিতে হলে সরকারের অনুমতি নিতে হত। পূর্বতন সরকার সেই অনুমোদন দীর্ঘ দিন আটকে রেখেছিল। বুধবার কেন্দ্রীয় সংস্থাকে সেই ছাড়পত্র দিয়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন রাজ‍্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “সিবিআইয়ের চারটি মামলা গত চার বছর ধরে রাজ্য সরকার আটকে রেখেছিল। যে সমস্ত আধিকারিকেরা দুর্নীতিগ্রস্ত, সিবিআই বা আদালত নিযুক্ত যে কোনও তদন্তকারী সংস্থাকে তাঁদের শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য বা তাঁদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়ার জন্য আইন অনুযায়ী রাজ্য সরকারের অনুমতি নিতে হয়। দুর্নীতিগ্রস্ত আমলা ও আধিকারিকদের বাঁচানোর জন্য পূর্বতন সরকার এই অনুমতি আটকে রেখেছিল। তিনটি দফতরের দুর্নীতিগ্রস্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন আমরা সিবিআইয়ে দিয়ে দিলাম। ছাড়পত্রের কপি ইতিমধ্যেই সিবিআই পেয়ে গিয়েছে।”

কোন কোন দুর্নীতির ক্ষেত্রে সিবিআই-কে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে সেটাও স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, শিক্ষা দফতরের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি, পুরনিয়োগ দুর্নীতি এবং সমবায় দফতরের ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশে যে সমস্ত তদন্ত হচ্ছে, তাতে যুক্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, “আমাদের এই সরকার অনেক প্রত্যাশা জাগিয়ে এসেছে। দুর্নীতির ক্ষেত্রে আমরা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিচ্ছি। প্রচারের সময়ও বার বার তা বলেছিলাম। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপের কথা আমাদের দলের সংকল্পপত্রে বলা হয়েছিল। আগামী দিনে সে বিষয়ে আরও পদক্ষেপ রাজ্যের মানুষ দেখতে পাবেন। তা নিয়ে কাজ আমরা শুরু করে দিয়েছি।’’

তৃণমূল জমানায় কেন্দ্র-রাজ‍্য সংঘাত চরমে উঠেছিল। কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তকে বাস্তবায়িত করার বদলে তার বিরুদ্ধে হাই কোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়েছিল। তাতে রাজ‍্যবাসীর কোনও লাভ হয়নি। বিজেপির অভিযোগ ছিল, এতে রাজ‍্যবাসীর ট‍্যাক্সের টাকা খরচ হয়েছিল। এ বার ভোটের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের লক্ষ‍্যে আরও একধাপ এগিয়ে যাওয়া হল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।


Share