Murder Case

বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে প্রেমিকার প্ররোচনায় স্ত্রীকে খুনের অভিযোগ, প্রেমিকাকে নিয়ে পলাতক স্বামী

মুর্শিদাবাদের ভরতপুরে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ককে কেন্দ্র করে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে খুনের পর ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। মৃতার নাম নুরবানু বিবি (৩৯)।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, মুর্শিদাবাদ
  • শেষ আপডেট: ১৫ আগস্ট ২০২৬ ১১:৩১

বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ককে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের দাম্পত্য অশান্তির জেরে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে খুনের পর ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। ঘটনায় স্বামীকে তাঁর প্রেমিকা সাহায্য করেছেন বলেও অভিযোগ। শুক্রবার রাতে মুর্শিদাবাদের ভরতপুর থানা এলাকায় এই ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

মৃতার নাম নুরবানু বিবি (৩৯)। বাড়ি থেকে পুলিশ তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে। ঘটনার পর থেকেই তাঁর স্বামী ফিরোজ শেখ এবং অভিযুক্ত প্রেমিকা রুবিলা খাতুনের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। পুলিশ তাঁদের সন্ধানে তল্লাশি শুরু করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পেশায় টোটোচালক ফিরোজের সঙ্গে নুরবানুর দীর্ঘদিনের দাম্পত্য সম্পর্ক ছিল। তাঁদের চার সন্তান রয়েছে। বড় মেয়ের ইতিমধ্যেই বিয়ে হয়ে গিয়েছে। তবে বেশ কিছুদিন ধরেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল বলে স্থানীয়দের দাবি। গ্রামেরই এক মহিলাকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে প্রায়ই অশান্তি হত বলে অভিযোগ।

মৃতার দশম শ্রেণির পড়ুয়া মেজো মেয়ের বক্তব্যেও সেই ঘটনার ইঙ্গিত মিলেছে। তার দাবি, মা বাড়ির বাইরে থাকলে বাবা রুবিলা নামে ওই মহিলাকে বাড়িতে নিয়ে আসতেন। শুক্রবার বিষয়টি জানতে পেরে নুরবানু বাড়িতে ফিরে আসেন। এরপরই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র বচসা শুরু হয়।

কিশোরীর দাবি, সে তখন পাশের ঘরে ছিল। বন্ধ ঘরে তার বাবার সঙ্গে ওই মহিলার কথাবার্তা চলছিল। কিছুক্ষণ পর দু’জনকে তাড়াহুড়ো করে ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে দেখে তার সন্দেহ হয়। এরপর ঘরে ঢুকে সে মায়ের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পায়। মেয়ের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। পুলিশকে খবর দেন।

পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নুরবানুকে উদ্ধার করে ভরতপুর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরে দেহ ময়নাতদন্তের জন্য কান্দি মহকুমা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ঘটনায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। পাশাপাশি, আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক ভাবে দীর্ঘদিনের পারিবারিক অশান্তির বিষয়টি তদন্তে উঠে এসেছে। নুরবানুকে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল, নাকি তিনি আত্মহত্যা করেছেন—তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই স্পষ্ট হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। মৃতার পরিবারের সদস্যদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।


Share