Arrest

বিসিএস প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে থাকা জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার অভিযোগ, কর্নাটকে ধৃত বাদুড়িয়ার যুবক

আশাফুল ২০২৫ সাল থেকে বেঙ্গালুরুর জিগানি শিল্পাঞ্চলের একটি বেসরকারি সংস্থায় নিরাপত্তাকর্মী হিসাবে কাজ করতেন। তিনি ওই এলাকায় এপিসি সার্কেলে থাকতেন। অনলাইনে তাঁর সন্দেহজনক গতিবিধি পুলিশের নজরে আসে।

ধৃতদের নাম আশারুফ মালিক।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বাদুড়িয়া
  • শেষ আপডেট: ১৫ আগস্ট ২০২৬ ০৯:৫৪

পাকিস্তানের নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-র সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে কর্নাটকের বেঙ্গালুরু থেকে গ্রেফতার করা হল পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ার নোয়াপাড়ার এক যুবককে। ধৃতের নাম আশাফুল মালিক। পুলিশ সূত্রের খবর, পাকিস্তানের সেনা অত‍্যাচারে আশাফুল ব‍্যথিত। তাই সে ওই সংগঠনে যোগ দেওয়ার জন‍্য যোগাযোগ করেছিল। শনিবার বাদুড়িয়ায় আসাফুলের বাড়িতেও তল্লাশি অভিযান চালায় কর্নাটক পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আশাফুল ২০২৫ সাল থেকে বেঙ্গালুরুর জিগানি শিল্পাঞ্চলের একটি বেসরকারি সংস্থায় নিরাপত্তাকর্মী হিসাবে কাজ করতেন। তিনি ওই এলাকায় এপিসি সার্কেলে থাকতেন। অনলাইনে তাঁর সন্দেহজনক গতিবিধি পুলিশের নজরে আসে। এরপর এপিসি সার্কেল এলাকায় পুলিশ তল্লাশি অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে।

কর্নাটক পুলিশের দাবি, বোম্মাসান্দ্রা শিল্পাঞ্চলে টহলদারির সময় খবর আসে, পশ্চিমবঙ্গের এক যুবক সন্দেহজনক কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত। সেই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। পরে এপিসি সার্কল এলাকায় আশাফুলের সন্ধান মেলে। পুলিশের দাবি, জেরায় আশাফুল জানান, অনলাইনের মাধ্যমে জঙ্গি কার্যকলাপে যোগ দেওয়ার জন্য তিনি প্ররোচিত হন। এরপরই তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-র সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন।

পুলিশ সূত্রে খবর, জেরায় আসাফুল দাবি করেছেন, পাকিস্তানে মুসলিমদের উপর সে দেশের সেনার অত্যাচার তাঁকে ক্ষুব্ধ করেছিল। সেই কারণেই পাক জঙ্গিগোষ্ঠীতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে তিনি আগ্রহী হয়ে ওঠেন এবং পরবর্তী সময়ে টিটিপি-র সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ইজরায়েল-প্যালেস্টাইন সংঘাতের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়েও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বলে দাবি পুলিশের।

পুলিশ সূত্রে খবর, জেরায় আশাফুল দাবি করেছেন, পাকিস্তানে মুসলিমদের উপর সে দেশের সেনার অত্যাচার তাঁকে ব‍্যথিত করেছিল। সেই কারণেই পাক জঙ্গিগোষ্ঠীতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে তিনি আগ্রহী হয়ে ওঠেন এবং পরবর্তী সময়ে টিটিপি-র সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ইজরায়েল-প্যালেস্টাইন সংঘাতের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়েও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বলে দাবি পুলিশের।

কর্নাটক পুলিশের দাবি, সমাজমাধ্যমে আফগানিস্তানের বাসিন্দা ইমরান হায়দার নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে আশাফুলের যোগাযোগ হয়। পুলিশের সন্দেহ, হায়দার টিটিপির সঙ্গে যুক্ত। তদন্তকারীদের দাবি, হায়দারের সহযোগিতায় আশাফুল আফগানিস্তানে যাওয়ার পরিকল্পনাও করেছিলেন। সেই উদ্দেশ্যে ভিসার জন্য তিনি আবেদনও করেছিলেন। তবে পুলিশকে আশাফুল জানিয়েছেন, পরে আর্থিক সমস্যার কারণে আফগানিস্তান যাওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করেন। পুলিশ তাঁর ফোন বাজেয়াপ্ত করেছে। তদন্তকারীদের দাবি, ওই ফোন থেকে হায়দারের সঙ্গে আসাফুলের একাধিক কথোপকথন এবং ভয়েস মেসেজ উদ্ধার হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বাদুড়িয়ার বাড়িতে রয়েছেন আশাফুলের মা ফিরোজা বিবি। তাঁর দাবি, গোবরডাঙা কলেজ থেকে আসাফুল বিএ পাশ করার পর ২০২৪ সাল পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে চাকরির পরীক্ষায় বসছিলেন। কিন্তু চাকরি না পেয়ে হতাশ হয়ে বেঙ্গালুরুতে একটি সংস্থায় নিরাপত্তারক্ষীর কাজ নেন। এর পর থেকে তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। তবে ছেলে মেধাবী বলে দাবি করে ফিরোজা বলেন, এমন কোনও ঘটনায় আশাফুল জড়িত থাকতে পারেন, তা তিনি মানতে নারাজ। এ দিকে, আশাফুলের বাবাকে বেঙ্গালুরু পুলিশ ডেকে পাঠিয়েছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে।

পরিবারের দাবি, এক সময়ে সিআরপিএফের চাকরির জন্য আসাফুল পরীক্ষা দিয়েছিল। পাশাপাশি তিনি ডব্লুবিসিএস-সহ বিভিন্ন সরকারি চাকরির পরীক্ষারও প্রস্তুতি নিত। আশাফুলের কাকা মোকসেদ মালিক জানান, বেঙ্গালুরু যাওয়ার পর প্রথমে একটি কারখানায় কাজ করত আশাফুল। পরে সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি নেয়। বাদুড়িয়ার বাড়িতে বসে মোকসেদ বলেন, ‘শিক্ষিত ছেলে ও। মতিগতিও ভালো ছিল। ২০২৪ সালে আর্মির চাকরির পরীক্ষা দিয়েছিল। সেই ছেলের সঙ্গে এমন যোগ, আমরা তো বিশ্বাসই করতে পারছি না।’

উল্লেখ্য, এর আগে কয়েক বছর আগে বাদুড়িয়ার মলয়াপুর থেকে তানিয়া খাতুন নামে এক কলেজছাত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। রাজ্য পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) তাঁকে গ্রেফতার করলেও পরে জঙ্গি-যোগের প্রমাণ মেলায় এনআইএ তদন্তভার নেয়। তানিয়ার সঙ্গে লস্কর-ই-তৈবার যোগেরও ইঙ্গিত মিলেছিল। অভিযোগ ছিল, সমাজমাধ্যমে দেশের সশস্ত্র বাহিনীর জওয়ানদের হানি ট্র্যাপে ফেলে তানিয়া গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করতেন। সেই তথ্য পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থার কাছে পাচার করার অভিযোগও ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। তদন্তে তানিয়ার নামে পাকিস্তানে একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেরও হদিস মিলেছিল বলে জানা যায়। তিনি এখনও জেলেই রয়েছে। এ বার ফের জঙ্গি-যোগের অভিযোগে শিরোনামে উঠে এল উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া।


Share