RG Kar Hospital

আরজি কর মামলায় নির্মল ঘোষকে জামিন, লটারি প্রতারণায় আট দিনের পুলিশি হেফাজত, ব্যারাকপুর আদালত চত্বরে তুমুল বিক্ষোভ

দীর্ঘ শুনানির পর নির্মলের আইনজীবী জানান, লটারি প্রতারণার মামলায় আদালত তাঁকে আট দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। তবে তিনি আরজি কর মামলায় জামিন পেয়েছেন।

আরজি কর মামলায় জামিন পেলেন নির্মল ঘোষ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৫ আগস্ট ২০২৬ ০৮:৫০

আরজি কর-কাণ্ডে বৃহস্পতিবার ওড়িশা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষকে। শুক্রবার তাঁকে ব্যারাকপুর আদালতে পেশ করা হয়। শুনানি চলাকালীন তাঁর বিরুদ্ধে আরজি কর মামলার পাশাপাশি আরও একটি লটারি প্রতারণার মামলা যুক্ত করা হয়। দীর্ঘ শুনানির পর নির্মলের আইনজীবী জানান, লটারি প্রতারণার মামলায় আদালত তাঁকে আট দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। তবে তিনি আরজি কর মামলায় জামিন পেয়েছেন।

আরজি করের ঘটনায় দেহ পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে নির্মল ঘোষের বিরুদ্ধে মোট ন'টি জামিনযোগ্য ধারায় মামলা করা হয়েছিল। সেই মামলায় তাঁর আইনজীবী আদালতে জামিনের আবেদন করেন। বিচারকের কাছে তিনি জানান, নির্মলের বয়স ৭৮ বছর। তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং নিয়মিত চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে। এই কারণ দেখিয়েই তাঁর জামিনের আবেদন করা হয়।

জামিনের সওয়াল করতে গিয়ে নির্মল ঘোষের আইনজীবী সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেন, তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে যে ধারাগুলিতে অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলির সবকটিই জামিনযোগ্য। পাশাপাশি তাঁর যুক্তি, কোনও নির্দিষ্ট ঘটনা নিয়ে একটি তদন্তকারী সংস্থা তদন্ত চালালে একই মামলায় অন্য কোনও সংস্থা এসে সেই তদন্তে হস্তক্ষেপ করতে পারে না।

এ দিকে, নির্মল ঘোষকে আদালতে পেশ করার আগে থেকেই খড়দহ থানা ও আদালত চত্বরে উত্তেজনা ছড়ায়। তাঁকে ঘিরে স্থানীয়দের একাংশ ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁর দিকে ইট, কাদা, জুতো-সহ নানা জিনিস ছোড়া হয়। ব্যারাকপুর মহকুমা আদালতে তাঁকে পেশ করার সময় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে, আশঙ্কা করে পুলিশ আগে থেকেই কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে। নিরাপত্তার ঘেরাটোপে হেলমেট পরিয়ে নির্মল ঘোষকে থানা থেকে বের করা হয়। তাতেও অবশ্য বিক্ষোভ থামানো যায়নি। থানার সামনে জড়ো হওয়া ক্ষুব্ধ জনতা তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ে। তাঁর দিকে জুতোর মালাও ছোড়া হয়। এমনকি তাঁকে চড়-লাথি মারারও অভিযোগ ওঠে।

উল্লেখ্য, গত ৯ অগস্ট মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আরজি কর-কাণ্ডের ঘটনার পুনর্তদন্তের নির্দেশ দেন। নির্যাতিতার মৃত্যুর রাতে শ্মশানঘাটে ঠিক কী ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখতে ব্যারাকপুরের সিপিকে বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ, সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় এবং সোমনাথ দে-র বিরুদ্ধেও তদন্ত শুরু করার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর নির্যাতিতার বাবা খড়দহ থানায় লিখিত এফআইআর দায়ের করেন। অভিযোগ দায়েরের দু’দিনের মধ্যেই ওড়িশা থেকে গ্রেফতার হন প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বালেশ্বরের সিমুলিয়া থানার অন্তর্গত একটি হোটেলে তিনি আত্মগোপন করেছিলেন তিনি। রাজ্য পুলিশের নজর এড়াতে নিজের পুরনো মোবাইল নম্বরটি নির্মল সুইচড অফ করে রেখেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত মোবাইল টাওয়ার লোকেশনের সূত্র ধরে রাজ্য পুলিশ তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে। সিমুলিয়া থানার পুলিশের সহায়তায় ওই হোটেলে অভিযান চালিয়ে নির্মল ঘোষকে গ্রেফতার করা হয়।


Share