Calcutta High Court

সল্টলেকের জমি-বাড়ির হস্তান্তর কি বৈধ? কলকাতা হাই কোর্টের রায়ের পরে প্রশ্নের মুখে সরকারি নিয়ম

২০১২ সালে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানায়, সল্টলেকে সম্পত্তি হস্তান্তরে কাঠা-পিছু পাঁচ লক্ষ টাকা দিতে হবে। তার আগে বাম আমলে অনেক ক্ষেত্রেই জমি-বাড়ি বিক্রি বা হস্তান্তর হত, যার একটি অংশ বেআইনি বলেও অভিযোগ ছিল।

কলকাতা হাই কোর্ট
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:২৬

সল্টলেকে জমি, বাড়ি বা কোঅপারেটিভ আবাসনের ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে প্রতি কাঠা পাঁচ লক্ষ টাকা করে হস্তান্তর মূল্য (ট্রান্সফার ফি) নেওয়ার সরকারি পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে আইনি প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের এক রায়ের জেরে ২০১২ সালের পর এই নিয়মে যাঁরা সম্পত্তি কিনেছেন বা কেনার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন, তাঁদের ভবিষ্যৎ আইনি জটিলতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। যদিও পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যাবে।

২০১২ সালে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানায়, সল্টলেকে সম্পত্তি হস্তান্তরে কাঠা-পিছু পাঁচ লক্ষ টাকা দিতে হবে। তার আগে বাম আমলে অনেক ক্ষেত্রেই জমি-বাড়ি বিক্রি বা হস্তান্তর হত, যার একটি অংশ বেআইনি বলেও অভিযোগ ছিল।

গত ২৭ জানুয়ারি একটি মামলার রায়ে হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, এই হস্তান্তর ফি সংক্রান্ত সরকারি বিজ্ঞপ্তি আগেই ২০১৮ সালে সিঙ্গল বেঞ্চ খারিজ করেছিল। তারপরও ২০২২ সালে ভাষায় সামান্য পরিবর্তন এনে একই ধরনের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। ডিভিশন বেঞ্চ সেই বিজ্ঞপ্তিকে ‘নতুন বোতলে পুরনো মদ’ বলে উল্লেখ করে এবং আইনি ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে তা নস্যাৎ করে। পাশাপাশি বিধাননগরের ল্যান্ড ম্যানেজারের উপর ১০ হাজার টাকা জরিমানাও ধার্য করা হয়।

মামলাটি দায়ের করেন দীনেশ গয়াল নামে এক ব্যক্তি, যিনি উইলের মাধ্যমে সল্টলেকের একটি বাড়ির মালিকানা পান এবং মিউটেশনের জন্য আবেদন করেন। তাঁর আইনজীবীর দাবি, দফতর হস্তান্তর মূল্য দাবি করায় তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হন। সিঙ্গল বেঞ্চ হস্তান্তর মূল্য ছাড়াই মিউটেশনের নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশ মানা না হলে আদালত অবমাননার মামলা হয়। পরে দফতর ডিভিশন বেঞ্চে আপিল করলেও সেখানেও হস্তান্তর ফি চাওয়াকে বেআইনি বলা হয়। আদালত ল্যান্ড ম্যানেজারকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মিউটেশন সম্পন্ন করে হলফনামা জমা দিতেও নির্দেশ দিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, এত বছর ধরে হস্তান্তর ফি বাবদ যে বিপুল অর্থ আদায় হয়েছে তার আইনি বৈধতা কী। যাঁরা ইতিমধ্যে টাকা দিয়েছেন, তাঁরা ফেরত পাবেন কি না, তা নিয়েও জল্পনা বাড়ছে।

এই বিষয়ে রাজ্যের পুর ও নগরন্নোয়ন দফতরের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, “আমরা সুপ্রিম কোর্টে আপিল করছি। বাম আমলে জমি বেআইনি ভাবে হস্তান্তর হত। সরকার কিছুই পেত না। আমরা রাজ‍্য মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে এই ব‍্যবস্থা করেছি। যাতে সাধারণ মানুষ উপকৃত হতে পারেন। তাঁরা খুশি মনে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরকে মূল্য দিয়ে নিজেদের নামে বাড়ি পাচ্ছেন।”


Share