Kolkata Municipal Corporation

কলকাতা-হাওড়ায় পুরভোটের দামামা! নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচনের পরিকল্পনা, প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলরদের বিজেপিতে যোগদান ঘিরে জোর জল্পনা

তবে ভোটগ্রহণ নভেম্বরেই হবে, নাকি তা গড়াবে ডিসেম্বর পর্যন্ত, সেই সিদ্ধান্ত এখনও চূড়ান্ত হয়নি। রাজ্য সরকারের শীর্ষ সূত্রের দাবি, দিনক্ষণ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও নির্ধারিত পাঁচ বছরের মেয়াদের মধ্যেই কলকাতা পুরসভার নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

কলকাতা পুরসভা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ০৫:১৪

পাঁচ বছরের মাথাতেই কলকাতা পুরসভার নির্বাচন হতে চলেছে। তবে ভোটগ্রহণ নভেম্বরেই হবে, নাকি তা গড়াবে ডিসেম্বর পর্যন্ত, সেই সিদ্ধান্ত এখনও চূড়ান্ত হয়নি। রাজ্য সরকারের শীর্ষ সূত্রের দাবি, দিনক্ষণ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও নির্ধারিত পাঁচ বছরের মেয়াদের মধ্যেই কলকাতা পুরসভার নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সময়ের আশপাশে হাওড়া পুরসভার নির্বাচনও হতে পারে। তবে বালি পুরসভায় এখনই ভোট হবে, নাকি অন্য পুরসভাগুলির সঙ্গে একই সময়ে নির্বাচন হবে, তা নিয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি।

২০২১ সালের ১৯ ডিসেম্বর কলকাতা পুরসভার নির্বাচন হয়েছিল। ভোটের ফল ঘোষণা করা হয় ২১ ডিসেম্বর। এ বারও ওই সময়সীমার মধ্যেই ভোটগ্রহণ থেকে শুরু করে নতুন পুরবোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর।

রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের এক মাসের মাথাতেই কলকাতা পুরসভার পুরবোর্ডের অবলুপ্তি ঘটে। গত জুন মাসে তৃণমূল পরিচালিত পুরবোর্ড ভেঙে যাওয়ার পর প্রশাসক নিয়োগ করে রাজ্য সরকার। অতীতে কোনও পুরসভায় প্রশাসক নিয়োগ করা হলে ছ’মাসের মধ্যে নির্বাচন করানোর নিয়ম ছিল। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে সেই নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়। বর্তমানে অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রশাসকের অধীনে পুরসভা পরিচালনার ব্যবস্থা রয়েছে।

২০২০ সালে কলকাতা-সহ রাজ্যের শতাধিক পুরসভা ও কর্পোরেশনে নির্বাচন না করিয়ে প্রশাসক নিয়োগ করেছিল তৎকালীন তৃণমূল সরকার। রাজনৈতিক মহলে চর্চা ছিল, এর পিছনে ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শ কাজ করেছিল। তবে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচিত পুরবোর্ড ছাড়া রয়েছে হাওড়া পুরসভা। সেখানে শেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০১৩ সালে। ২০১৮ সালে পুরবোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে প্রশাসকের অধীনেই চলছে পুরসভা। অর্থাৎ, প্রায় আট বছর ধরে হাওড়ার বাসিন্দারা কোনও নির্বাচিত কাউন্সিলর পাননি। এর প্রভাব পড়েছে শহরের দৈনন্দিন নাগরিক পরিষেবা পরিচালনার ক্ষেত্রেও।

এ দিকে, বিরোধী শিবিরে সাংগঠনিক দুর্বলতা থাকলেও কলকাতা পুরসভার নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা বাড়ছে। তৃণমূলের বেশ কয়েকজন প্রাক্তন কাউন্সিলর বিজেপিতে যোগ দিয়ে আসন্ন নির্বাচনে টিকিট পেতে পারেন বলে চর্চা চলছে। যদিও সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, “মানুষ তৃণমূলকে প্রত্যাখ্যান করেছে। মানুষ জামা বদলের জন্য ভোট দেননি। জামার ভিতর মানুষটাকে বদল করতে ভোট দিয়েছেন।”

তবে শমীকের এই বক্তব্য বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কারণ, সম্প্রতি রাজ্যসভাকে কেন্দ্র করে দলবদলের এমন নজির সামনে এসেছে। তৃণমূলের টিকিটে রাজ্যসভায় যাওয়া চার সাংসদ পরপর পদত্যাগ করার পর সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব, প্রকাশ চিক বরাইক এবং কোয়েল মল্লিককে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছে বিজেপি। পদত্যাগের পর এবং বিজেপির মনোনয়ন পাওয়ার আগে প্রত্যেকেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে দেখা করেছিলেন।

ফলে রাজ্যসভায় দলবদলের যে রাজনৈতিক সমীকরণ দেখা গিয়েছে, কলকাতা পুরসভার নির্বাচনেও তার ছায়া পড়বে কি না, তা নিয়ে কৌতূহল বাড়ছে রাজনৈতিক মহলে। প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলরদের বিজেপিতে যোগদান এবং টিকিট পাওয়ার জল্পনা শেষ পর্যন্ত কতটা বাস্তবায়িত হয়, এখন সেটাই দেখার।


Share