Holiday Cancelled

পুজোর ছুটিতে হাসপাতালে গরহাজির চিকিৎসক-আধিকারিকরা! ‘উৎসবের অজুহাতে দায়িত্ব এড়ানো চলবে না’, স্বাস্থ্যকর্তাদের কড়া সতর্কবার্তা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

রাজ্যের সমস্ত মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ, সুপার, উপাধ্যক্ষ, অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার এবং সাফাইকর্মীদের উপস্থিতিতে হাসপাতালগুলির পরিষেবা ও কর্মীদের হাজিরা নিয়ে পর্যালোচনা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:৪৯

পুজোর মরসুমে সরকারি হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসক ও আধিকারিকদের অনুপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। কাজের জন্যও কি আলাদা করে নির্দেশিকা জারি করতে হবে? শুক্রবার স্বাস্থ্য ভবনে আয়োজিত বৈঠকের আগে এই প্রশ্নই তোলেন তিনি। রাজ্যের সমস্ত মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ, সুপার, উপাধ্যক্ষ, অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার এবং সাফাইকর্মীদের উপস্থিতিতে হাসপাতালগুলির পরিষেবা ও কর্মীদের হাজিরা নিয়ে পর্যালোচনা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

চোরবাগান সর্বজনীনের দুর্ঘটনার পর কলকাতার একাধিক সরকারি হাসপাতালের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছিল। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বড় হাসপাতালগুলিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে মেডিক্যাল টিমও প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। কিন্তু উৎসবের দিনগুলিতে একাধিক হাসপাতাল থেকে চিকিৎসক ও আধিকারিকদের বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি নজরে আসতেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য, সরকারি কর্মীরা জনগণের সেবক। জনগণের করের টাকাতেই সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা পরিচালিত হয়। স্বাস্থ্য দফতর একটি জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় এখানে উৎসবের অজুহাতে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার কোনও সুযোগ নেই।

চোরবাগান দুর্ঘটনার পর কলকাতা মেডকেল কলেজের জুনিয়র চিকিৎসকদের একাংশের বিবৃতি এবং আহতদের বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। নবমীর দিন স্বাস্থ্য ভবনের কন্ট্রোল রুম থেকে ডিউটি বাদ দিয়ে রাজনৈতিক বিবৃতি দেওয়ার অভিযোগে রিপোর্ট তলব করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়মিত হাজিরা নিশ্চিত করার প্রাথমিক দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। কে ডিউটিতে রয়েছেন, আর কে অনুপস্থিত, তা দেখার দায়িত্ব সরাসরি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নয়। অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ এবং স্বাস্থ্য বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকেই এই বিষয়গুলি নজরে রাখতে হবে বলে জানান তিনি।

এ দিকে, পুরুলিয়ার দেবেন মাহাত মেডিকেল কলেজের অপরিচ্ছন্নতা নিয়েও সম্প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন স্থানীয় সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাত। হাসপাতাল চত্বর থেকেই তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ফোন করে পরিস্থিতির কথা জানান। ওই ঘটনায় হাসপাতালের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ এবং পাঁচ অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারকে শো-কজ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কথায়, হাসপাতালগুলিতে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং রোগীদের পরিষেবায় যাতে কোনও ঘাটতি না থাকে, তা নিশ্চিত করতেই এই বৈঠক ডাকা হয়েছে। কর্মী কিংবা প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাব না থাকা সত্ত্বেও বিনা অনুমতিতে ছুটি নেওয়ার প্রবণতা বরদাস্ত করা হবে না বলেও স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি।


Share