High Court

বেআইনি নির্মাণ মামলায় জেলাশাসকের রিপোর্টে অসন্তুষ্ট কলকাতা হাইকোর্ট, ২৩ জুলাই উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসককে সশরীরে হাজিরার নির্দেশ

ভিআইপি রোড থেকে উল্টোডাঙা পর্যন্ত বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ নিয়ে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে আদালত কড়া মন্তব্য করে জানায়, রিপোর্টে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের স্পষ্ট উল্লেখ নেই। তাই হলফনামা-সহ জেলাশাসককে ব্যক্তিগতভাবে আদালতে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৬ ১১:৩৬

বেআইনি নির্মাণ, নয়ানজুলি ভরাট এবং সরকারি জমি জবরদখল সংক্রান্ত একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসকের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাই কোর্ট। আদালতের একাধিক নির্দেশের পরও সন্তোষজনক রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়নি। ফলে জেলাশাসক শিল্পা গৌরীসারিয়াকে আগামী ২৩ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টায় সশরীরে আদালতে হাজির থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে।

শুনানির সময় আদালত জানায়, ভিআইপি রোড থেকে উল্টোডাঙা পর্যন্ত এলাকায় বেআইনি নির্মাণ, নয়ানজুলি ভরাট এবং জবরদখল সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে জেলাশাসকের কাছ থেকে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছিল। সেই রিপোর্ট আদালতের কাছে সন্তোষজনক মনে হয়নি। বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, আদালতের আগের নির্দেশগুলির পর কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তার স্পষ্ট উল্লেখ রিপোর্টে নেই।

এই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, আদালতের নির্দেশ বারবার দেওয়া সত্ত্বেও কেন তা কার্যকর করা হয়নি। তিনি মন্তব্য করেন, "আমাদের মনে হচ্ছে ইচ্ছাকৃতভাবে নির্দেশ মানা হচ্ছে না। উনি কি নিজেকে ডিভিশন বেঞ্চের থেকেও বড় মনে করেন?" একইসঙ্গে বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায় বলেন, "প্রধান বিচারপতিকে অসম্মান করছেন। আপনি এত ব্যস্ত?" এ সময় ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি আরও সতর্ক করে বলেন, “আমাদের ধৈর্যের পরীক্ষা নেবেন না।”

জানা গিয়েছে, ২০২২ সালে অর্ধেন্দু নাগ নামে এক ব্যক্তি এই বিষয়ে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, রাস্তার ধারে বেআইনি পার্কিং ও একটি বিয়েবাড়ি নির্মাণের জন্য নয়ানজুলি ভরাট করে সরকারি জমি দখল করা হয়েছে। সে সময় প্রশাসন জবরদখলের বিষয়টি স্বীকার করে। কিন্তু আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযানের অগ্রগতি নিয়ে দীর্ঘদিন কোনও পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা পড়েনি।

সাম্প্রতিক রিপোর্টেও প্রয়োজনীয় তথ্যের অভাব থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত জেলাশাসককে হলফনামা-সহ সশরীরে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আগামী ২৩ জুলাই এই মামলার পরবর্তী শুনানিতে তাঁকে আদালতে হাজির থাকতে হবে বলে জানানো হয়েছে।


Share