Nipah Virus

খেজুর রসের দাম পড়লেও ভয় পায়নি মাজডিহা, নিপা আতঙ্কে বাদুড় তাড়াতে নারাজ গ্রামবাসী

নিপা আতঙ্কে রাজ্য সতর্ক হলেও বাঁকুড়ার ওন্দার মাজডিহায় ভয়ের ছায়া নেই। হাজার হাজার বাদুড়কে ‘প্রতিবেশী’ মেনে সতর্ক থেকেও শতাব্দীপ্রাচীন মানুষ–বাদুড় সম্পর্ক অটুট গ্রামবাসীদের।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বাঁকুড়া
  • শেষ আপডেট: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:৩৭

করোনা ভাইরাসের পর এ বার নতুন আতঙ্কের নাম নিপা ভাইরাস। এই সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সর্তক থাকার জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা দিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। তবে নিপা ভাইরাস সম্পর্কে বাদুড় বিষয়ে বিভিন্ন জায়গায় ভীতি তৈরী হয়েছে। পাশাপাশি, গ্রাম বাংলার জনপ্রিয় খেজুর রসের দাম রাজ্যের গ্রামাঞ্চলে অনেকটাই কমে গিয়েছে। তবে বাঁকুড়ার ওন্দায় সে সব কেউ মানছে না বললেই চলে। সেখানকার স্থানীয়দের মধ্যে বাদুড় সম্পর্কে কিছু বিধি-নিষেধ মানার কোনও বালাই নেই। তাদের মধ্যে কোনও আতঙ্কও দেখা যাচ্ছে না। যা দেখেশুনে স্বাস্থ্য দফতরের পর্যবেক্ষণ, ‘সম্পর্ক’ আগের মতোই থাকুক। সেই সঙ্গে সতর্ক থাকাও জরুরি।

ওন্দা ব্লকের মাজডিহা গ্রামকে বাদুড়ের স্বর্গরাজ্য বললে কম বলা হবে। এই গ্রামের গাছে গাছে বাস করে হাজার হাজার বাদুড়। বছরের পর বছর, প্রজন্মের পর প্রজন্ম পাশাপাশি থাকতে থাকতে এই গ্রামের মানুষজন মনে করেন, বাদুড়েরা তাদের প্রতিবেশী। বাদুড় বাহিত নিপা সংক্রমণ সংক্রান্ত তথ্য গ্রামের মানুষের অজানা নয়। কিন্তু এতে ভয়ের কিছু দেখছেন না গ্রামবাসীরা।

বাঁকুড়ার চায়ের দোকান অথবা পাড়ার মোড় সমস্ত জায়গাতেই বিতর্ক চলে এই বাদুড় নিয়ে। তাদের তর্কের বিষয় থাকে এই গ্রামে বাদুড় আগে বাস করতে শুরু করেছিল নাকি মানুষ! একটি বিষয়ে তাঁরা সকলে একমত, বাদুড়ের দল তাঁদের গ্রামেরই বাসিন্দা। তাদের রক্ষা করতেই হবে। বছরের পর বছর চোরাশিকারীদের হাত থেকে বাদুড়দের রক্ষা করে এসেছে এই গ্রাম। বাদুড় নিধন তো দূরের কথা, আশপাশের প্রতিবেশী গ্রাম থেকে কেউ বাদুড়কে সামান্য ‘বিরক্ত’ করতে গেলেও বাধা দেন মাজডিহার মানুষেরা। তাই মাজডিহা বাদুড়দের নিরাপদ আশ্রয়।

যেভাবে নিপা ভাইরাস সংক্রমণ বাড়ন্ত সেই সময় চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীরা মনে করছেন বাদুড়ের দেহরস থেকে দূরে থাকা জরুরি। কথা মেনে চলছেন মাজডিহাবাসীরা। কিন্তু নিপার আতঙ্কে কয়েকশো বছরের সম্পর্কে ছেদ ঘটাতে নারাজ তাঁরা। তাদের মতে, পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে তাকে তাড়িয়ে দেওয়া হয় না, ঠিক তেমনই তেমনই নিপা ভাইরাসের সংক্রমণের ভয়ে আমাদের গ্রামেরই বাসিন্দা বাদুড়গুলিকে তাড়িয়ে দিতে পারবেন না তাঁরা।

কিন্তু মানুষ-বাদুর সম্পর্ক যতই নিবিড় হোক না কেন স্বাস্থ্য দফতর বলছে, সাবধানের মার নেই। তারা সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছে। বাঁকুড়া স্বাস্থ্য জেলার উপ-মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সজল বিশ্বাসের মন্তব্য, ‘‘বাদুড় নিপা ভাইরাসের বাহক। বাদুড়ের দেহরসের মাধ্যমে এই ভাইরাস মানুষের শরীরে সংক্রমিত হয়। তাই এই সময় বাদুড়ের সংস্পর্শ যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলাই ভাল। মাজডিহা গ্রামে যেহেতু হাজার হাজার বাদুড়ের বাস, তাই সেই গ্রামের মানুষকে এই সময় আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে।’’


Share