Mamata Banerjee

ভোটার তালিকা থেকে ৫০ লক্ষ নাম বাদ! বড়জোড়ার সভা থেকে নির্বাচন কমিশনকে তোপ মমতার

ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনে ৫০ লক্ষের বেশি নাম বাদ পড়া নিয়ে বড়জোড়ার সভা থেকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। লিখিত নির্দেশ ছাড়া কিছুই মানা হবে না বলে হুঁশিয়ারি।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
নিজস্ব সংবাদদাতা, বড়জোড়া
  • শেষ আপডেট: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ ০৯:১৯

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় রাজ্যে ৫০ লক্ষেরও বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে শুনানি প্রক্রিয়া, তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে ভবিষ্যতে আরও বহু নাম তালিকা থেকে বাদ যেতে পারে। এই পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার বাঁকুড়ার বড়জোড়া সভা থেকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নাম না করে তিনি নির্বাচন কমিশনের এক শীর্ষ আধিকারিক সীমা খান্নার বিরুদ্ধে তোপ দাগেন।

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, “দিল্লিতে কমিশনে বিজেপির লোক বসে আছেন। তিনি ইলেকশন কমিশনের অফিসে বসে ইআরওদের নামে মিথ্যে কথা বলে, ওই নামগুলো নাম বাদ দিয়েছে। ইআরওদের অ্যাসোসিয়েশন চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, ওরা এই কাজ করেনি।” মমতা আরও বলেন, “এগুলি ছেড়ে দেবেন না। তালিকায় নাম তোলা আপনাদের অধিকার। না হলে ঘিরে বসে থাকবেন।”

উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের ডিআইজি পদে কর্মরত সীমা খান্নার বিরুদ্ধে আগেও অভিযোগ তুলেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি ছিল, কমিশনের অ্যাপের মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা নিচ্ছেন সীমাই। এবার বড়জোড়ার সভা থেকে সেই অভিযোগকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী।

ভোটারদের উদ্দেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁরা ফের ৭ ও ৮ নম্বর ফর্ম পূরণ করুন। তালিকায় নাম তোলা প্রত্যেকের সাংবিধানিক অধিকার। নাম বাদ যাওয়া নিয়ে উদাহরণ দিয়ে বলেছেন, “কারও পদবি সিংহ। ইংরেজিতে সেটা সিনহা হয়। ব্যস নাম বাদ।” 

তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দোস্তিদারের ছেলেদের শুনানিতে ডাকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি, বিএলএদের হিয়ারিং রুমে ঢুকতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর প্রশ্ন, কোন আইনে এই নির্দেশ জারি করা হচ্ছে?

নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্টভাবে বলেন, লিখিত নির্দেশিকা ছাড়া কোনও নির্দেশ মানা হবে না। পাশাপাশি কমিশনের উদ্দেশ্যে বলেন, “লিখিত নির্দেশিকা দিন। হোয়াটসঅ্যাপ করছে। হোয়াটসঅ্যাপের কোনও ভ্যালু নেই। আমি আদালতে যাব। জনতার ও মানুষের আদালতে যাব।”


Share