Blood Transfusion

টাকার প্রলোভন দেখিয়ে নাবালকদের রক্তদান করানোর অভিযোগ দুর্গাপুরে, তদন্তে পুলিশ

দুর্গাপুরে অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে নাবালক স্কুলপড়ুয়াদের দিয়ে রক্তদান করানোর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট। ঘটনায় কড়া বার্তা দিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর
  • শেষ আপডেট: ০৬ আগস্ট ২০২৬ ০৬:০৪

দুর্গাপুরে নাবালক স্কুলপড়ুয়াদের অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে রক্তদান করানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনায় কড়া বার্তা দিয়েছেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।

অভিযোগ উঠেছে, গত কয়েক মাস ধরে দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি স্কুলের উচ্চ শ্রেণির কয়েক জন ছাত্রকে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকার লোভ দেখিয়ে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। দালালের মাধ্যমে তাদের সেখানে পৌঁছে দেওয়া হয়। অভিযোগ, রোগীর আত্মীয় পরিচয় দিয়ে ওই নাবালকদের রক্তদান করানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, সরকারি নথিতে রক্তদাতাদের প্রকৃত বয়স লোকানো হয়েছে। পরিবর্তে বেশি বয়স দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ। এই ঘটনায় স্কুলেরই এক প্রাক্তন ছাত্রের নাম সামনে এসেছে।

রক্তদান করা কয়েকজন ছাত্র স্বীকার করেছে, প্রত্যেকে ৩০০ টাকা করে পেয়েছিল। অভিযোগ, তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া ওই যুবক ১০০ টাকা করে কমিশন নিয়েছে।

কয়েকজন অভিভাবক এই ঘটনার কথা প্রথম জানতে পারেন। তাঁদেরই একজন কবিতা দাস জানান, কিছুদিন আগে ছেলের স্কুলব্যাগে একটি বেসরকারি হাসপাতালের ব্লাড ডোনেশনের কাগজ দেখতে পান। বিষয়টি জানতে চাইলে ছেলে জানায়, একজন অসুস্থ ব্যক্তির জন্য সে রক্ত দিয়েছে। তখন তিনি ছেলেকে বোঝান, আইন অনুযায়ী রক্তদানের বয়স না হওয়ায় এটি অপরাধ। ছেলে জানায়, সে একবারই রক্ত দিয়েছে। পরে অন্য অভিভাবকদের কাছ থেকেও একই ধরনের অভিযোগ শোনার পর তিনি পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

এই ঘটনার নেপথ্যে কোনও রক্তপাচারকারী চক্র সক্রিয় রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদিও পুলিশ জানিয়েছে, সমস্ত অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের কমিশনার প্রণব কুমার।

এ দিকে, অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী তথা আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পল বলেন, নাবালকদের ব্যবহার করে এ ধরনের বেআইনি কাজ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

এখন তদন্তের দিকেই নজর সকলের। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে এর সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।


Share