Mysterious Death

দুর্গাপুরের মেডিকেল কলেজের হস্টেলে রহস্যমৃত্যু! ঘরের দরজা ভেঙে উদ্ধার প্রথম বর্ষের পড়ুয়ার ঝুলন্ত দেহ

প্রাথমিক ভাবে আত্মহত্যা বলে মনে করা হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে পুলিশ এখনও নিশ্চিত নয়। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

দুর্গাপুরের একটি মেডিক্যাল কলেজের প্রথম বর্ষের পড়ুয়া ছিলেন অভিষেক কুমার।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর
  • শেষ আপডেট: ২৯ আগস্ট ২০২৬ ১০:৪৩

পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হস্টেল থেকে এক চিকিৎসক পড়ুয়ার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার। মৃত যুবক বিহারের বাসিন্দা। ডাক্তারি পড়াশোনার জন্য তিনি পশ্চিমবঙ্গে এসেছিলেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হস্টেলের ঘর থেকেই তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক ভাবে আত্মহত্যা বলে মনে করা হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে পুলিশ এখনও নিশ্চিত নয়। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এখনও পর্যন্ত ঘটনাস্থল থেকে কোনও সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়নি।

২০ বছরের অভিষেক কুমার দুর্গাপুরের কাঁকসার রাজবাঁধের একটি মেডিকেল কলেজের প্রথম বর্ষের পড়ুয়া ছিলেন। তিনি বিহারের সীতামারি এলাকার বাসিন্দা। তিনি কলেজের হস্টেলেই থাকতেন। তাঁর এক সহপাঠীও একই ঘরে থাকতেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই সহপাঠী নমাজ পড়তে বাইরে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে দেখেন, ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। দীর্ঘ সময় ডাকাডাকি করেও অভিষেকের কোনও সাড়া না পেয়ে তিনি কলেজ ও হস্টেল কর্তৃপক্ষকে খবর দেন। পরে দরজা ভেঙে ঘরে ঢোকা হলে অভিষেককে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করা হলেও শেষরক্ষা হয়নি। ঘটনা ঘিরে ইতিমধ্যেই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

ঘটনার পর তড়িঘড়ি ওই পড়ুয়াকে উদ্ধার করে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। হস্টেল কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই বিহারে থাকা তাঁর পরিবারের সদস্যদের খবর দিয়েছেন। যদি প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী তিনি আত্মহত্যা করে থাকেন, তা হলে কী কারণে এমন চরম সিদ্ধান্ত নিলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। হস্টেলের ওই ঘরে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি তদন্তকারীরা মৃত পড়ুয়ার সহপাঠীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। কোনও কারণে তিনি মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন কি না, কিংবা তাঁর উপর কোনও ধরনের চাপ ছিল কি না, তা-ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

দুর্গাপুরের মেডিকেল কলেজের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার শুভঙ্কর ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘হস্টেলের একটি ঘরে ওই পড়ুয়া এবং তাঁর এক সহপাঠী থাকতেন। এক জন নমাজ পড়তে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে ডাকাডাকি করে সাড়া পাননি। সামনে পরীক্ষা রয়েছে, সেই কারণে কোনও মানসিক চাপ থাকতে পারে। কী কারণে মৃত্যু, এখনও জানা যায়নি।’’


Share