Special Intensive Revision

‘ওপর থেকে নির্দেশ ছিল,’ সাসপেন্ড হওয়ার পরে দাবি ময়নাগুড়ির এইআরও ডালিয়ার, কমিশনের নির্দেশ পালন না করায় পড়েছেন বেকায়দায়

বারবার বলা সত্ত্বেও তার পরেও ভুল না সংশোধন করে এই পথে হাঁটার কারণে এমন কঠর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হল নির্বাচন কমিশন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছে, এই সাত জন সরকারি আধিকারিককে সাসপেন্ড করায় বাকিদের মধ্যে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন।

সাসপেন্ড হওয়া সরকারি আধিকারিক ডালিয়া রায়চৌধুরী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:৪৮

রাজ্যে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-শুনানি শেষ হয়েছে। অনিয়মের অভিযোগে সরাসরি চাকরি থেকেই সাতজন এইআরও-কে সাসপেন্ড করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে একজন রয়েছেন ডালিয়া রায়চৌধুরী। তাঁর দাবি, তাঁকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যা নির্দেশ দিয়েছিল, তিনি সেটাই করেছেন।

ডালিয়া রায়চৌধুরী ময়নাগুড়ি উন্নয়ন ব্লকের নারী উন্নয়ন আধিকারিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি বর্তমানে অ‍্যাসিসটেন্ট ইলেকট্রোরাল অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি কমিশনের নিয়মের বাইরে গিয়ে এসআইআর-এর কাজ করেছেন। সেই অসদাচরণ এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।

কয়েক জন ইআরও এবং এইআরও-র কাজে যে একেবারেই সন্তুষ্ট ছিল না কমিশন তা কার্যত বারবার কমিশনের কর্তারা কথায় কথায় বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। বারবার বলা সত্ত্বেও তাঁরা কথা শোনেননি। নিজেদের ভুল সংশোধন না করে তাঁরা একই পথে হেঁটেছেন। তাই তাঁদেরকে সাসপেন্ড করতে বাধ্য হয়েছে নির্বাচন কমিশন।

ময়নাগুড়ির সাসপেন্ড হওয়া ডালিয়া রায়চৌধুরীর কথায়, তাঁকে কর্তৃপক্ষ যা নির্দেশ দিয়েছে তিনি সেটাই করেছেন। তিনি ভোটারের নথি যাচাই না করে কমিশনের ওয়েবসাইটে আপলোড করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাহলে প্রশ্ন হল, তাঁকে কোন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এমন নির্দেশ দিয়েছিল? যদিও ডালিয়া সেই প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট করে দিতে দেননি। তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আর কিছু বলব না।’

এইআরও ডালিয়া রায়চৌধুরী এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সঠিক নির্দেশ দিয়েছে। তা মেনেই আমি সঠিক কাজই করেছি। আমার তরফ থেকে ১০০ শতাংশ দিয়েছি। এরপরে আমি আর কিছু বলব না।” ডালিয়ার কথায়, তিনি এমন কাজ করেননি। তাঁকে কেন সাসপেন্ড করা হল তা তিনি বুঝতে পারছেন না। এই বিষয়ে তিনি বলেন, আমায় কেন সাসপেন্ড করা হল, তা তাঁরাই (নির্বাচন কমিশন) বলতে পারবেন। তবে সাসপেন্ড হওয়ার পরে বেকায়দায় পড়ে গিয়েছেন সরকারি আধিকারিক ডালিয়া রায়চৌধুরী। বলেন, “এখনও আমি জানি না কী করব ..”

উল্লেখ্য, সোমবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল বলেন, এসআইআর যবে থেকে শুরু হয়েছে, একটাই বার্তা যে সবাইকে কমিশনের নিয়ম মেনে কাজ করতে হবে। সিইও-র কথায়, কেউ অপরিসীম ক্ষমতা পায়নি। কেউ ‘লাগামছাড়া’ হতে পারে না। আইন আছে। নিয়ম রয়েছে। তা মেনেই কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে। তাঁদেরকে তা মেনেই কাজ করতে হবে।” সবাইকে নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করতে হবে বলেও ফের একবার তাঁদের দায়িত্ব মনে করিয়ে দিয়েছেন রাজ‍্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের অনেক বার কাগজপত্র যাচাই করে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর এবং জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর কাগজপত্র যাচাই করেন। তিনি ইআরও এবং এইআরও-দের উদ্দেশ্যে এ-ও বলেন, তাঁরা অনেক অভিজ্ঞ। তাঁরা জানেন কী করতে হবে। তাই হাতে এখনও অনেকটাই সময় আছে। আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় আছে। তাই যত এন্ট্রি করা হয়েছে বা নিস্পতি বাকি রয়েছে তা পুনরায় একবার যাচাই করে নেবেন।” নির্বাচন কমিশনের কাজে আগে থেকেই অনেক অভিযোগ আসছিল।

বারবার বলা সত্ত্বেও তার পরেও ভুল না সংশোধন করে এই পথে হাঁটার কারণে এমন কঠর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হল নির্বাচন কমিশন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছে, এই সাত জন সরকারি আধিকারিককে সাসপেন্ড করায় বাকিদের মধ্যে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন।


Share