ISI Agent Arrested

বাংলাদেশ হয়ে নেপালে পালানোর ছক! পাক জঙ্গি সন্দেহ ধৃত দু’জনের ১৪ দিনের হেফাজতের নির্দেশ আদালতের

এসটিএফের এক কর্তা জানিয়েছেন, ২০১২ সালে ওয়াহাব এই রাজ‍্যে আসে। তার আগে সে নেপালে ছিল। এখানে এসে ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, প্যান কার্ড বানায়।

ধৃতের নাম ওয়াহাব আলম।
নিজস্ব সংবাদদাতা, পাকিস্তান
  • শেষ আপডেট: ১২ আগস্ট ২০২৬ ০৭:০৮

বাংলাদেশ হয়ে নেপালে পালানোর চেষ্টা করেছিল রানা রউফ ওরফে ওয়াহাব আলম। এমনকী, নেপালে কয়েক জন পাকিস্তানি চরের সঙ্গে ওয়াহাবের সরাসরি যোগাযোগ ছিল। তাদের মাধ্যমে ভারতের বিভিন্ন সংস্থার তথ‍্য আইএসআইয়ের কাছে পাঠানো হয়েছিল বলে আদালতে পুলিশ দাবি করেছে। পাকিস্তানের গুপ্তচর সন্দেহে ধৃত রানা রউফ ওরফে ওয়াহাব আলম এবং মহম্মদ ইজাজের ১৪ দিনের পুলিশের হেফাজতে পাঠিয়েছে বারাসত আদালত।

মঙ্গলবার গভীর রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এসটিএফ রানা রউফ ওরফে ওয়াহাবকে গ্রেফতার করেছে। বনগাঁর বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে তাকে পুলিশ পাকড়াও করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, ওয়াহাব প্রথমে বাংলাদেশ যেত তার পরে সেখান থেকে নেপালে যাওয়ার ছক কষেছিল। পুলিশ আরও জানতে পেরেছে, বাংলাদেশে ওয়াহাবের বেশ কিছু পরিচিত রয়েছে। তারা নিয়মিত টাকা পাঠাত। শুধু বাংলাদেশ নয়, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান এবং নেপালের বেশ কিছু নম্বর পাওয়া গিয়েছে।

এসটিএফের এক কর্তা জানিয়েছেন, ২০১২ সালে ওয়াহাব এই রাজ‍্যে আসে। তার আগে সে নেপালে ছিল। এখানে এসে ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, প্যান কার্ড বানায়। এই জাল নথিপত্র তৈরি করতে মহম্মদ ইজাজ বলে এক যুবককে সাহায্য নেয়। ওই যুবক তিলজলার বাসিন্দা। বেশ কিছু দিন তিলজলাতে কাঠের মিস্ত্রি হিসেবেও ছিল। এই মহম্মদ ইজাজকেও রাজ্য পুলিশের এসটিএফ গ্রেফতার করেছে।

তিলজলার স্থানীয়দের দাবি, মহম্মদ ইজাজ টাকার বিনিময়ে এই জাল নথিপত্র তৈরি করত। তিলজলায় ইজাজের পরিবার থাকে। কিন্তু পারিবারিক কারণে সেও নেপালে চলে যায়। সেখানেই ওয়াহাবের সঙ্গে পরিচয় হয় বলেই মনে করছে পুলিশ। ওয়াহাবের পরিচিত আর কাউকে ভারতীয় ভুয়ো পরিচয়পত্র বানিয়ে দিয়েছিল কি না তা হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে ওই কর্তা জানিয়েছেন।

এসটিএফ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, পাক গুপ্তচর সন্দেহে ধৃত যুবক ওয়াহাব ২০২৬ সালে এসআইআর ঘোষণা হওয়ার পর থেকে পাত্তারি গুটিয়ে পালানোর পরিকল্পনা করেছিল। তার মোবাইল ফোনে ভারতীয় সেনা এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গতিবিধি সংক্রান্ত ভিডিয়ো পাওয়া গিয়েছে। এ ছাড়াও, ফোর্ট উইলিয়াম, ভারতীয় রেল সংক্রান্ত ভিডিয়ো পাওয়া গিয়ে। পাওয়া গিয়েছে মানচিত্র। তবে বেশ কিছু ভিডিয়ো ফোন থেকে মুছে দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। সেই সমস্ত ডিজিটাল নথি পুনরুদ্ধারের করার চেষ্টা করছে পুলিশ। তার কাছ থেকে একটি মেয়াদ উত্তীর্ণ পাকিস্তানের ভিসার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

বুধবার ধৃত দু’জনকে বারাসত আদালতে হাজির করানো হয়েছিল। পুলিশ ১৪ দিনের জন‍্য হেফাজতের দাবি করেছিল। আদালত পুলিশের আবেদন মঞ্জুর করেছে।


Share