Fire Incident

দিল্লির বহুতলে অগ্নিকাণ্ড! এখনও পর্যন্ত ন’জনের মৃত্যু, সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা

স্থানীয় সূত্রের খবর, এ দিন ভোররাতে হঠাৎ ওই বহুতল থেকে বিস্ফোরণের মতো একটি শব্দ শোনা যায়। এর পরেই একটি ফ্ল্যাটে দেখা যায় আগুন। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন বহু দলের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে। ক্রমেই পরিচিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

এখনও পর্যন্ত ন’জনের মৃত্যু হয়েছে।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ০৩ মে ২০২৬ ০১:২৭

রবিবার ভোররাতে দিল্লির শাহদরা এলাকার বিবেক বিহারে অগ্নিকাণ্ড। একটি চারতলা বিল্ডিংয়ে আচমকাই আগুন লেগে যায়। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ন’জনের মৃত্যু হয়েছে। দমকল কর্মীরা ১৬ জনকে উদ্ধার করতে পেরেছেন। তবে আগুনের তীব্রতা এতই যে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

স্থানীয় সূত্রের খবর, এ দিন ভোররাতে ওই বহুতল থেকে বিস্ফোরণের মতো একটি শব্দ শোনা যায়। এর পরেই একটি ফ্ল্যাটে দেখা যায় আগুন। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন বহুতলের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে। ক্রমেই পরিচিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ঘটনার সময়ে অধিকাংশ বাসিন্দাই ঘুমিয়ে ছিলেন। ফলে কেউ আগুন লাগার কথা বুঝে উঠতে পারেননি। ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা এলাকা। 

বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে শ্বাস নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অনেকেই ঘরের ভিতরেই আটকে পড়েন। আগুনের লেলিহান শিখা দ্রুত একতলা থেকে ওপরের তলাগুলিতে ছড়িয়ে পড়ে, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে। ঘন ধোঁয়া এবং আগুনের তীব্রতার কারণে বহু মানুষ ঘরের ভিতরেই আটকে পড়েন। প্রাণ বাঁচাতে কেউ কেউ বারান্দা বা জানালা দিয়ে বেরোনোর চেষ্টা করেন, কিন্তু অনেকেই আর সেই সুযোগ পাননি।

ঘটনায় অন্তত ন’জনের মৃত্যু হয়েছে। যাঁদের মধ্যে কয়েক জন অগ্নিদগ্ধ হন। তবে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে দমকল কর্মীরা। এ ছাড়াও, অন্তত ১০-১২ জন গুরুতর জখম হয়েছেন। তাঁদের দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আগুন লাগার খবর পেয়ে দমকল বাহিনীর একাধিক ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়। দীর্ঘ সময় ধরে আগুন নেভানো ও উদ্ধারকাজ চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কিছু মানুষ বাঁচার জন্য জানালা ও বারান্দায় দাঁড়িয়ে সাহায্যের জন্য চিৎকার করছিলেন। কেউ কেউ নিচে ঝাঁপ দেওয়ারও চেষ্টা করেন আতঙ্কে।

দমকল ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বহুতলের ভিতরে আরও এখনও অনেকের আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। সেই কারণে এখনও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। অনেককে বারান্দা দিয়ে বের করে আনা হয়। স্থানীয় মানুষও উদ্ধারকাজে হাত লাগান। অনেককে সিঁড়ি ও জানালা ভেঙে বাইরে বের করে আনা হয়। তবে আগুনের তীব্রতা এবং ঘন ধোঁয়ার কারণে উদ্ধারকাজ যথেষ্ট কঠিন হয়ে ওঠে।

প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, একটি এসি ইউনিট বিস্ফোরণের ফলেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে সঠিক কারণ জানতে ফরেনসিক দল তদন্ত শুরু করেছে। একই সঙ্গে বাড়িটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জামের উপস্থিতি ও রক্ষণাবেক্ষণ যথাযথ হয়েছিল কি না তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।


Share