Fly Dubai

ইজরায়েলে ক্র‍্যাশ করানোর পরিকল্পনা করেছিল ইসলামিক জঙ্গি হামাম! ভারতীয় ক‍্যাপ্টের প্রচেষ্টায় ভেস্তে যায় পরিকল্পনা, কী জানা গেল সহ- পাইলটের বিষয়ে?

প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৩ সালে ইংল্যান্ডের বাকিংহ্যামশায়ার নিউ ইউনিভার্সিটি থেকে বিমান পরিবহণ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে তিন বছরের ডিগ্রি কোর্স সম্পন্ন করে। গত ২০২৪ সালে ওমান এয়ারে সহ-পাইলট হিসেবে প্রশিক্ষণ নেয় হামাম আল-হাম্মামি।

ফ্লাইদুবাইয়ের সহ-পাইলট তথা ইসলামিক জঙ্গি হামাম আল-হাম্মামি।
নিজস্ব সংবাদদাতা, ইজরায়েল
  • শেষ আপডেট: ০৩ অক্টোবর ২০২৬ ০১:২৮

বিমান ছিনতাই করে ইজরায়েলে ক্র‍্যশ করানোর পরিকল্পনা করেছিল ফ্লাইদুবাইয়ের সহ-পাইলট তথা ইসলামিক জঙ্গি হামাম আল-হাম্মামি। এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। কিন্তু ভারতীয় ক‍্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর হামিমের নাশকতার চালানোর পরিকল্পনা ভেস্তে দেয় বলেও দাবি করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্ত সহ-পাইলটের নাম হামাম আল-হাম্মামি। হামিম ওমানের নাগরিক। সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতেই তার জন্ম হয়েছে। হামিমের বাবা ওমানের নাগরিক এবং মা সিরিয়ার বাসিন্দা। হামিম তার জীবনের বেশির ভাগ সময় ওমানের বাইরে কাটিয়েছে। বিশেষ করে সিরিয়াতে দীর্ঘ সময় থেকেছে। সেই সময় হামিম ইসলামের চরমপন্থী মতাদর্শে প্রভাবিত হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৩ সালে ইংল্যান্ডের বাকিংহ্যামশায়ার নিউ ইউনিভার্সিটি থেকে বিমান পরিবহণ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে তিন বছরের ডিগ্রি কোর্স সম্পন্ন করে। গত ২০২৪ সালে ওমান এয়ারে সহ-পাইলট হিসেবে প্রশিক্ষণ নেয় হামাম আল-হাম্মামি। সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তার মুছে ফেলা লিঙ্কডইন প্রোফাইল থেকে জানা যায়, প্রায় সাত বছর ওমান এয়ারে কাজ করেছিল। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেখান থেকে চাকরি ছেড়ে দেয়। সেই বছরের জুন মাসে হামিম রয়্যাল এয়ার মারোক-এ যোগ দেয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে সেই সংস্থা ছেড়ে ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেয়। হমাঙ্গ আল-হাম্মামি ফ্লাইদুবাইয়ে আট মাস কাজ করেছিল।

তবে ওমানে বিমান চালানোর কাজে নিয়োজিত থাকাকালীনই হামিমের কাছে ইসলামের চরমপন্থী মতাদর্শ সংক্রান্ত সামগ্রী পাওয়া যায়। বিশেষ করে ‘ইস্তেহাদ’ সংক্রান্ত কিছু নথি পাওয়া যায়। তার পরেই হামিমকে বিমান চালনা থেকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। তবে প্রশাসনিক কাজকর্মে রাখা হয়েছিল। কর্মক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ার পরেই ওমান এয়ার ছাড়ে হামিম। তাকে বিমান চালানোর অনুমতি দিলে নিরাপত্তায় ঝুঁকি থাকতে পারে এই হিসেবেই চিহ্নিত হওয়ার পর হামিমকে চালানো থেকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ওমান।

‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ফ্লাইদুবাইয়ের ঘটনাটির ন’ঘণ্টার মধ্যে ওই প্রোফাইল থেকে দু’টি পোস্ট করা হয়েছিল। দু’টি পোস্টই ছিল ইসলামিক সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে।

প্রথম পোস্টে, বোয়িং-৭৩৭ ম্যাক্স বিমানের ককপিটের একাধিক ভিডিয়ো ক্লিপ দেখা যায়। ভিডিয়োতে ক্যামেরা জুম করে ইজরায়েলের বিমান সংস্থা এল আল-এর একটি বিমানের দিকে তাক করা হয়। ভিডিয়োর শেষে আল-কায়দার প্রাক্তন প্রধান আয়মান আল-জাওয়াহিরির ছবি দেখানো হয়। ওসামা বিন লাদেনের মৃত্যুর পর আল কায়দার নেতৃত্বে এসেছিলেন আয়মান। এ ছাড়াও, ওই পোস্টে, হুমাম খলিল আবু-মুলাল আল-বালাওয়ির ছবিও ছিল। ২০০৯ সালে আফগানিস্তানে এক আত্মঘাতী বোমা হামলার জেরে ন’জনের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনায় হুমামের নাম জড়িয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দ্বিতীয় পোস্টে, এআই দিয়ে তৈরি একটি ছবি দেখা যায়। সেখানে ইসলাম ধর্মের তিনটি স্থান—মক্কা, মদিনা এবং জেরুজালেমকে দেখানো হয়েছিল। ছবির পটভূমিতে থাকা একটি কবিতায় অপমান মেনে না নেওয়া, মৃত্যুকে ভয় না করা এবং আত্মমর্যাদা রক্ষার কথা বলা হয়েছিল বলে সিএনএনের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। হামাম আল-হাম্মামির মুছে ফেলা এক্স অ্যাকাউন্টে তাঁর পরিচয় ছিল গভীরভাবে ধর্মপ্রাণ এবং চরম নারীবিদ্বেষী হিসেবে উল্লেখ করে। ইসলামের নারীদের সীমিত অধিকার নিয়ে সেই পোস্টে লেখা ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বুধবার সকালে দুবাই থেকে তেল আভিভ যাচ্ছিল ফ্লাইদুবাই বিমানটি। সেই সময় ককপিটে থাকা ক‍্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছের ওপরে হামলা করে হামাম আল-হাম্মামি। ছুরি নিয়ে তাঁর ওপরে চড়াও হয়। এলোপাথাড়ি কোপানো হয়। বিমানটি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলেগিয়েছিল। ১৪ হাজার ফুট নীচে নেমে যায় বিমানটি। কোনও ক্রমে ককপিটের দরজা খুলে দেন ভারতীয় নাগরিক বিমানের ক‍্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর। তাঁর উপস্থিত বুদ্ধির জেরেই বিমানে থাকা ১৮০ জন ইজরায়েলের নাগরিকদের প্রাণে বাঁচেন। তিনি আপাতত দুবাইয়ের হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে। গতকাল তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ভিডিয়ো কলে কথা বলেন।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, হামামের উদ্দেশ্য ছিল ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানটিকে ইজরায়েলে হাইজ‍্যাক করে নিয়ে গিয়ে ক্র‍্যাশ করার। ‘উম্মাহ’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সেখানেই বিমানটিকে ভেঙে ফেলে ধর্মীয় ভাবে শহিদ হতে চেয়েছিল বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও বিমানে থাকা ভারতীয় ক‍্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের সিংহের মতো ইসলামিক জঙ্গির সঙ্গে লড়াই চালিয়ে ১৮০ জন যাত্রীকে বাঁচিয়ে দিয়ে যাবতীয় পরিকল্পনা ভেস্তে দেন।

তাকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি কর্তৃপক্ষ গ্রেফতার করেছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই বিষয়ে তাদের বক্তব্য, তদন্ত প্রভাবিত হবে তাই বিষয়টি নিয়ে বেশি কিছু বলা যাবে না। তবে এমন ‘টেন্টেড’ পাইলটকে কীভাবে ফ্লাইদুবাই চাকরি দিল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পাশাপাশি দুবাই থেকে তেল আভিভগামী স্পর্শকাতর রুটে ছুরি নিয়ে ককপিটে কীভাবে ইসলামিক জঙ্গি হামাম প্রবেশ করল তা জানার চেষ্টা চলছে।


Share