Bangladesh Turmoil

চরম নৈরাজ‍্য বাংলাদেশে, জোরালো বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল মগবাজার এলাকা, নিহত অন্তত এক

ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে সিঙ্গাপুরে মারা যায় ইসলামিক নেতা ওসমান হাদি। মৃত্যুর পর ব্যাপক অস্থিরতা ছড়িয়েছে সমগ্র বাংলাদেশ জুড়ে। হিন্দু যুবকে হত‍্যা করা হয়। এই সময় বিক্ষোভকারীরা দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্র, প্রথম আলো এবং দ্য ডেইলি স্টারের অফিসে ভাঙচুড় চালায়।

জোরালো বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল ঢাকার মগবাজার এলাকা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, ঢাকা
  • শেষ আপডেট: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ১১:৩৫

চরম নৈরাজ‍্য বাংলাদেশে। এ বার জোরালো বিস্ফোরণে কাঁপল বাংলাদেশ। ঢাকার মগবাজার এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, সেখানকার নিকটবর্তী একটি উড়ালপুল থেকে একটি ককটেল বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে। বিস্ফোরণের ঘটনায় একজন মারা গিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

জানা গিয়েছে, নিহত ব্যক্তির নাম সইফুল। বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঘটনাটি ঘটেছে। জানা গিয়েছে, সইফুল রাস্তার পাশের একটি চায়ের দোকানে দাঁড়িয়ে খাচ্ছিলেন। বাংলাদেশের ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুসারে, সেই সময় উড়ালপুল থেকে কেউ বা কারা ককটেল বোমা নিক্ষেপ করে। গুরুতর জখম হন তিনি। ওই সংবাদমাধ্যম সূত্রের দাবি, সইফুল ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। সূত্র অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রবীণদের সংগঠনের অফিসের দিকে ককটেল বোমাটি নিক্ষেপ করা হয়েছে।

সম্প্রতি, বাংলাদেশ জুড়ে একের পর এক হিংসার ঘটনা ঘটেছে। গত ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকায় হিন্দু যুবককে দীপু দাসকে গণপিটুনি দিয়ে খুন করে ইসলামিক দুষ্কৃতীরা। এর পরে তাঁকে দড়ি দিয়ে বেঁধে গাছে ঝোলানো হয়। তার পরে মৃতদেহে আগুন ধরিয়ে দেয় ইসলামিক দুষ্কৃতীরা।

ইসলামিক সংগঠন ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর নেতা ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আক্রান্ত হয় সংবাদমাধ্যমও। ওই দিন রাতে সে দেশের প্রথম সারির বাংলা সংবাদমাধ্যম ‘প্রথম আলো’ এবং ইংরেজি দৈনিক ‘ডেইলি স্টার’-এর দফতরে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। এক সংবাদপত্রের সম্পাদক গুলিবিদ্ধ হন। জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছায়ানট, চট্টগ্রাম ও খুলনায় অবস্থিত ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনের অফিস, ভারতীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের অবশিষ্ট কাঠামোতেও হামলা চালানো হয়েছিল।

সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) এক নেতার সাত বছর বয়সী মেয়েকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। সোমবার আরও এক ইসলামিক দল, জাতীয় নাগরিক পার্টির শ্রমিক সংগঠনের নেতা মহম্মদ মোতালেব শিকদারকে গুলি করে খুনের চেষ্টা করা হয়। তার মাথায় গুলি লাগে। বর্তমানে মোতালেব হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। 

আবার সোমবার রাতেই চট্টগ্রামে পরপর হিন্দুদের বাড়িতে বাইরে থেকে তালা বন্ধ করে অগ্নিসংযোগ করে দেওয়া হয়। কোনও মতে বেড়ার দেওয়াল ভেঙে পালিয়ে বরাত জোরে প্রাণে বেঁচে দুই হিন্দু পরিবার। সেই ঘটনায় সাতটি হিন্দু পরিবারের বাড়ি ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে। এমন পরপর অশান্তির ঘটনা নৈরাজ্য আর আইনশৃঙ্খলার অবনতি প্রমাণ ছাড়া আর কী হতে পারে।


Share