Sukanta Majumdar

সোনারপুরে অভিষেকের উপর হামলা নিয়ে বিস্ফোরক সুকান্ত! ‘ওসব নাটক’, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নিয়েও তুললেন প্রশ্ন

সুকান্তের বক্তব্য, ‘অ্যাসিড হলেই যদি হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়, তা হলে তো হাসপাতালে এক লক্ষ করে বেড রাখতে হবে। আর আমরা জানি, ওসব নাটক।’

কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার
নিজস্ব সংবাদদাতা, পূর্ব বর্ধমান
  • শেষ আপডেট: ৩১ মে ২০২৬ ০৬:৫৫

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ও বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। রবিবার পূর্ব বর্ধমানে একটি দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে তিনি অভিষেকের হাসপাতালে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে কটাক্ষ করেন। সুকান্তের বক্তব্য, ‘অ্যাসিড হলেই যদি হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়, তা হলে তো হাসপাতালে এক লক্ষ করে বেড রাখতে হবে। আর আমরা জানি, ওসব নাটক।’

এ প্রসঙ্গে তিনি নিজের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন। সন্দেশখালিতে তাঁর উপর হামলার ঘটনার উল্লেখ করে সুকান্ত বলেন, সেই সময় তাকে দীর্ঘক্ষণ হাসপাতালের বাইরে অপেক্ষা করতে হয়েছিল।

বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধীদের উদ্দেশ্যে ‘ডিজে বাজানোর’ মন্তব্য করেছিলেন। তবে নির্বাচনের ফলাফলে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল ঘটে। ২০৮টি আসনে জয়লাভ করে প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করে বিজেপি।

নির্বাচনের ফল ঘোষণার প্রায় ২৬ দিন পর শনিবার প্রথম প্রকাশ্য কর্মসূচিতে অংশ নেন অভিষেক। সোনারপুরে ভোট-পরবর্তী হিংসায় নিহত এক তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে তিনি বিক্ষোভের মুখে পড়েন। অভিযোগ, তাকে লক্ষ্য করে ডিম, ইট-পাথর ছোড়া হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে হেলমেট পরে নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করেন তিনি। পরে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশের সহায়তায় তাকে নিরাপদে এলাকা থেকে বের করে আনা হয়।

ঘটনার পর অভিষেককে কলকাতার দুটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। প্রথমে ইএম বাইপাস সংলগ্ন একটি হাসপাতালে এবং পরে মধ্য কলকাতার আরেকটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও কোথাও তাঁকে ভর্তি রাখা হয়নি। হাসপাতাল সূত্রে দাবি, তাঁর শারীরিক অবস্থা ভর্তি হওয়ার মতো গুরুতর ছিল না।

এর পরেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উপর চাপ সৃষ্টির অভিযোগ তোলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্য দিকে সুকান্ত মজুমদার এই প্রসঙ্গেও কটাক্ষ করে বলেন, ‘সিআইডি সোমবার ডেকেছে। তার আগে যদি হাসপাতালে ভর্তি হওয়া যায়, তা হলে সিআইডির কাছে যেতে হবে না। তা-ও হতে পারে। ক্ষমতায় থাকলে উডবার্ন ওয়ার্ডে যেতেন। ভর্তি হওয়ার আগে জানতে হবে, রোগটা কী? মমতা বন্দোপাধ্যায় তো এমবিবিএস, এমডি সবই। আমাদের অত ডিগ্রি নেই।’

এ দিকে, শনিবারের ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে ধৃতদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েক জনের তৃণমূল-যোগের অভিযোগও উঠছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দাবি করেছেন, ‘এটা তৃণমূলের সঙ্গে তৃণমূলের গন্ডগোল। যাঁরা অভুক্ত ছিলেন, তাঁরা এখন আক্রমণ করছেন।’

সুকান্ত মজুমদারও প্রশ্ন তোলেন, ‘তারা কেন হঠাৎ পচা ডিম ছুড়ে মারল, তার উত্তর মমতা বন্দোপাধ্যায়কে দিতে হবে।’


Share