Middle East Conflict

হরমুজ প্রণালীতে সম্পূর্ণ অবরোধ! থমকে বিশ্ববাণিজ্য, তেলের দামে আগুন

ডোনাল্ড ট্রাম্প ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ইরানের ওপর এই অবরোধ যুদ্ধের দ্রুত অবসান ঘটাতে পারে। তাঁর মতে, এই চাপ দীর্ঘদিন সহ্য করা ইরানের পক্ষে সম্ভব নয় এবং শেষ পর্যন্ত তারা আলোচনায় বসতে বাধ্য হবে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, ইরান
  • শেষ আপডেট: ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ০৪:৩৯

শুধু তেলবাহী জাহাজ নয়, হরমুজ প্রণালী সহ ইরানের সমুদ্রপথে সব ধরনের পণ্যবাহী জাহাজের চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে এই অবরোধের কথা জানিয়েছে। সেন্টকমের দাবি, ভারতীয় সময় সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে অবরোধ শুরু হওয়ার পর এখনও পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী দিয়ে একটি জাহাজও যাতায়াত করতে পারেনি।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ইরানের ওপর এই অবরোধ যুদ্ধের দ্রুত অবসান ঘটাতে পারে। তাঁর মতে, এই চাপ দীর্ঘদিন সহ্য করা ইরানের পক্ষে সম্ভব নয় এবং শেষ পর্যন্ত তারা আলোচনায় বসতে বাধ্য হবে। ইতিমধ্যে আগামী সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার বৈঠকের প্রস্তুতিও শুরু করেছে মার্কিন প্রশাসন। এই বৈঠকে আমেরিকার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস-ও আশাবাদী যে পরবর্তী বৈঠকেই যুদ্ধবিরতি চূড়ান্ত হতে পারে।

তবে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতির পেছনে আরও একটি বড় কারণ রয়েছে। তাঁদের দাবি, ইরান হরমুজ প্রণালীতে বিপুল পরিমাণ ল্যান্ডমাইন পুঁতে রেখেছে। যদিও ইরান জলের নীচে মাইন থাকার কথা স্বীকার করেছে, তারা জানিয়েছে যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেগুলি সরানো সম্ভব নয়। ফলে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকার এটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

আমেরিকা সেন্ট্রাল কমান্ডের অ্যাডমিরাল ব্র্যান্ড কুপার জানান, ইরানের অর্থনীতির প্রায় ৯০ শতাংশই সমুদ্র বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল। অবরোধ শুরুর ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই ইরানে প্রবেশ ও বহির্গামী সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছে আমেরিকা বাহিনী।

প্রাথমিকভাবে আমেরিকা জানিয়েছিল, তারা ইরানের উপকূলে জাহাজের যাতায়াত বন্ধ করবে। এখন তাদের দাবি, ইরানের অভ্যন্তরীণ সমুদ্রপথেও এই অবরোধ কার্যকর হয়েছে। যদিও এই দাবির বিষয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

এই অবরোধ কার্যকর করতে আমেরিকা নৌবাহিনী ইরানের উপকূলে গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার মোতায়েন করেছে। প্রতিটি জাহাজে প্রায় ৩০০ জন দক্ষ নৌ-কমান্ডো রয়েছে, যারা প্রয়োজনে দ্রুত অভিযান চালাতে সক্ষম।

এই পরিস্থিতির ফলে ভারত-সহ বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। একই সঙ্গে, ইরান থেকে স্বল্পমেয়াদে তেল কেনার যে অনুমতি আগে দেওয়া হয়েছিল, সেটিও প্রত্যাহার করেছে আমেরিকা। ফলে ভারতের মতো দেশগুলোর জন্য ইরান থেকে তেল আমদানির পথ কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারে, যেখানে তেলের দাম দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে।


Share