Rahul Banerjee

অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের জলে ডুবে মৃত্যু, নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে মহিলা কমিশনের পদ ছাড়তে চান লীনা গঙ্গোপাধ্যায়

রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্তে নেমেছে ম্যাজিক মোমেন্টস মোশন পিকচার্স। স্বচ্ছতার আশ্বাস দিয়েছে সংস্থা। তদন্তে প্রভাবের অভিযোগ এড়াতে লীনা গঙ্গোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন।

(বাঁ দিক থেকে) লীনা গঙ্গোপাধ্যায় এবং রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০১ এপ্রিল ২০২৬ ০৭:৫৫

সম্প্রতি তালসারিতে শুটিং করতে গিয়ে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু হয়েছে। তারপর থেকেই তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। এই ধোঁয়াশা কাটাতে সামনে এল প্রযোজনা সংস্থা 'ম্যাজিক মোমেন্টস মোশন পিকচার্স'। সংস্থার তরফে একটি বিশদ বিবৃতি প্রকাশ করে জানানো হয়েছে, গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু করা হয়েছে। সমস্ত প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে পশ্চিমবঙ্গ মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন পদ থেকে ইস্তফা দিতে চান লীনা গঙ্গোপাধ্যায়। 

এই ঘটনার জেরে বিতর্কে জড়ান সংস্থার ক্রিয়েটিভ প্রধান লীনা গঙ্গোপাধ্যায়। সংস্থার তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে, তিনি মূলত লেখিকা ও ক্রিয়েটিভ হেড হিসেবে যুক্ত। প্রশাসনিক বা পরিচালনাগত দায়িত্বে তিনি নেই। তিনি পশ্চিমবঙ্গ মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন। তাই তদন্তে কোনও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ এড়াতে নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এ দিকে, শুটিং সংক্রান্ত অনুমতি ছিল না বলেই ওড়িশার পুলিশ জানিয়েছিল। তা নিয়েও সংস্থা মুখ খুলেছে। তাঁদের দাবি, সমস্ত প্রয়োজনীয় অনুমোদন যথাযথ ভাবেই নেওয়া হয়েছিল। সেই সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হবে। সংস্থার দাবি, ঘটনার সময় নিয়ে যে তথ্য ছড়িয়েছে—বিশেষ করে রাহুল প্রায় ৪০ মিনিট জলের নিচে ছিলেন—তা সঠিক নয়। তাঁদের প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, অভিনেতাকে জল থেকে তোলার সময় তিনি জীবিত ছিলেন। কথা বলার চেষ্টাও তিনি করছিলেন। দ্রুত তাঁকে একটি স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে অভিযোগ, সেখানে কোনও চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। প্রযোজনা সংস্থার মতে, প্রথমেই যথাযথ চিকিৎসা পেলে পরিস্থিতি অন্যরকম হতে পারত। পরে দিঘা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ দিকে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানতে শিল্পী, কলাকুশলী এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্ত প্রক্রিয়াকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করতে সংস্থা রাহুলের পরিবার, ঘনিষ্ঠ মহল বা ‘আর্টিস্ট ফোরাম’-এর পক্ষ থেকে একজন প্রতিনিধিকে পর্যবেক্ষক হিসেবে থাকার আমন্ত্রণ জানিয়েছে। শুটিংয়ের ফুটেজ, অনুমতিপত্র- সহ পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ সংক্রান্ত নথিও তাঁদের সামনে তুলে ধরার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

 ঘটনার নেপথ্যে কোনও রকম গাফিলতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে সংস্থা বদ্ধপরিকর। ইতিমধ্যেই সংস্থার ডিরেক্টর শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায় রাহুলের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেন। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে পরিবারের যেকোনও প্রশ্নের উত্তর দিতে এবং তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে তাঁরা প্রস্তুত।


Share