Assembly Election

বালিতে শুভেন্দু অধিকারীকে দেখে তৃণমূল কর্মীদের বিক্ষোভ, থানায় ওসিকে অপসারণের দাবি বিরোধী দলনেতার

দীর্ঘ তিন কিলোমিটারের বেশি রাস্তায় তিনি মিছিল করেন। মিছিলে যে পথ দিয়ে যায় সেই পথে মানুষ উচ্ছ্বাস ছিল দেখার মতো। মিছিল চলাকালীন শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “বালিতে সব পুকুর বুঝিয়ে দিয়েছে। এখানে সিন্ডিকেটরাজ চলছে। তা শেষ করতে হবে। এই বিধানসভার মানুষ পরিষেবা পান না। রাস্তা ধারে নংরা পাহাড়। রাস্তার বেহাল অবস্থা।”

বালিতে ভোটের প্রচারে শুভেন্দু অধিকারীর মিছিলে উত্তেজনা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৪২

আবার রাজ‍্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে ঘিরে বিক্ষোভ। বুধবার বিকেলে বালি বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী সঞ্জয় সিংহের সমর্থনে মিছিল করেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই সময় তৃণমূলের কার্যালয়ের সামনে দলীয় কর্মীরা তাঁকে দেখে বিক্ষোভ দেখান। পরে শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করে বলেন, বালি থানার ওসির মদতে লোক জড়ো করা হয়েছে। তাঁর অপসারণের দাবি তুলে নির্বাচন কমিশনকে জানাবেন বলেও জানান শুভেন্দু অধিকারী।

এ দিন বিকেল ৫টা নাগাদ পৌঁছোন শুভেন্দু অধিকারী। বেলুড়ের লালবাবা কলেজের সামনে থেকে মিছিল শুরু হয়। সেই মিছিল বেলুড় স্টেশনের পাশ দিয়ে পাঠকপাড়া হয়ে বালি বাজারের কাছে আসে। সেখানে ফ্ল‍্যাটের নিচে তৃণমূলের কার্যালয় রয়েছে। সেখানে পৌঁছোতেই শুভেন্দু অধিকারীকে দেখে ১০ থেকে ১২ জন তৃণমূল কর্মী বিক্ষোভ দেখান। তাঁকে দেখে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেয় তাঁরা। পাল্টা ‘চোর চোর’ স্লোগান দেয় বিজেপির কর্মীরা। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী রীতিমতো রেগে গিয়ে তৃণমূল কর্মীদের উদ্দেশ্য করে ‘চোর চোর’ বলে চিৎকার করতে থাকেন। তিনি বলেন, “তোদের মালিককে ২০২১ সালে হারিয়েছি। এ বারও ভবানীপুরে তোদের মালিককে হারাব।” পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছোয় শুভেন্দু ট‍্যাবলো গাড়ি থেকে নেমে তৃণমূল কর্মীদের মুখোমুখি হতে চান। কিন্তু গাড়ি থেকে নামতে গেলে তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দেহরক্ষীরা তাঁকে সামলে নেন।

শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “বালি থানার ওসি এটা করিয়েছে। ওর সাসপেনশন দাবি করছি। বালি থানার ওসিকে অপসারণ করতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে লিখিত অভিযোগ জানাব। যা করার করব।” তিনি আরও বলেন, “আমায় দেখে কেউ বিক্ষোভ দেখায়নি। ওরা কুকুর। তাই ঘেউ ঘেউ করবেই। গোটা তিন কিলোমিটার ওদের বুকের ওপর দিয়ে এসেছি। মিছিলে পাঁচ হাজার লোক ছিল। কোনও বাড়ি বা ফ্ল‍্যাটের ছাদ খালি ছিল না।” শুভেন্দু হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ৪মে দুপুরে ওদের জন‍্য কী অপেক্ষা করছে জানে না। সঞ্জয় সিংহ ২০ হাজার ভোটে জিতবে। গোটা হাওড়া জেলায় তৃণমূল সাফ হয়ে যাবে।”

রাজ‍্যে দিকে দিকে বিজেপির নেতাদের নির্বাচনী প্রচারের সময় তৃণমূলের বিক্ষোভ দেখানো হচ্ছে। এমনকী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে দেখেও তৃণমূল কর্মীরা বিক্ষোভ দেখায়। এ দিনও একই ছবি ধরা পড়েছে। এই ঘটনায় প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আদৌ শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব হবে কি না তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। ঘটনায় জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের কাছ থেকে রিপোর্ট তলব করেছে নির্বাচন কমিশন। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী ব‍্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন রাজ‍্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের এক কর্তা।

এ দিন দীর্ঘ তিন কিলোমিটারের বেশি রাস্তায় তিনি মিছিল করেন। মিছিলে যে পথ দিয়ে যায় সেই পথে মানুষ উচ্ছ্বাস ছিল দেখার মতো। মিছিল চলাকালীন শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “বালিতে সব পুকুর বুঝিয়ে দিয়েছে। এখানে সিন্ডিকেটরাজ চলছে। তা শেষ করতে হবে। এই বিধানসভার মানুষ পরিষেবা পান না। রাস্তা ধারে নংরা পাহাড়। রাস্তার বেহাল অবস্থা।” এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, “বালিতে পুরসভা ভোট হয়না। হেরে যাবে বলে ভোট করায় না। চোর তৃণমূলকে হটান। পাড়া ছাড়া করুন। তবেই রেহাই মিলবে। আপনারা ৩৪ বছর সিপিএমকে সুযোগ দিয়েছেন। ১৫ বছর তৃণমূলকে দিয়েছেন। এ বার বিজেপিকে সুযোগ দিন। উন্নয়ন হবেই।”


Share