Rahul Gandhi

'বিজেপিকে সুবিধা করে দিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস', রায়গঞ্জের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ শানালেন রাহুল গাঁধী

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রায়গঞ্জে কংগ্রেসের প্রার্থী মোহিত সেনগুপ্ত। তাঁর হয়েই প্রচার করেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা। সেই সভায় একই আসনে মুখ্যমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীকে বসিয়ে তিনি আক্রমণ করেন।

রাহুল গাঁধী
নিজস্ব সংবাদদাতা, রায়গঞ্জ
  • শেষ আপডেট: ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৫২

আর মাত্র ন'দিন। তারপরেই রাজ্যে প্রথম দফার নির্বাচন। সেই নির্বাচনকে ঘিরেই প্রচার চালাচ্ছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বরা। পাশাপাশি রাজ্যে আসছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-সহ লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধীও। সভা করতে এসে মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও নরেন্দ্র মোদীকে আক্রমণ করলেন রাহুল গাঁধী। রাজ্যে শাসক দলই বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রায়গঞ্জে কংগ্রেসের প্রার্থী মোহিত সেনগুপ্ত। তাঁর হয়েই প্রচার করেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা। সেই সভায় একই আসনে মুখ্যমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীকে বসিয়ে তিনি আক্রমণ করেন। বলেন, “এমনি এমনি নির্বাচন জেতে না বিজেপি। বিরোধীদের ভোট কেটে জেতে। আর ওদের সুবিধা করে দিচ্ছে কে? বাংলায় বিজেপি-কে সুবিধা করে দিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপি বাংলাকে টাকা দেয় না, দু'লক্ষ কোটি দেয়নি বাংলাকে। ১০০ দিনের কাজের টাকা কেটে নিয়েছে। কেন্দ্রীয় বাজেটে বাংলার জন্য কোনও প্রকল্প নেই। এসআইআর-এর মাধ্যমে এখন গণতন্ত্রের উপর আঘাত হানছে। কিন্তু তৃণমূলও নিজের স্বার্থ দেখছে। ওরাও বাংলার জন্য কাজ করছে না।"

রাজ্যের দুর্নীতির অভিযোগ তুলে রাহুল গাঁধী মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, "আপনারা বলেন, ছোট-মাঝারি কারখানা মমতাজীই ধ্বংস করেছেন! বাংলায় ডাবল ক্ষতি আপনাদের। দেবাংলার শিল্পকে ধ্বংস করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দেশের শিল্পকে ধ্বংস করেছেন নরেন্দ্র মোদি। নরেন্দ্র মোদি যদি দুর্নীতিগ্রস্ত হন, তৃণমূলও দুর্নীতির দৌড়ে পিছিয়ে নেই। সারদা চিটফান্ডে ১৭ লক্ষ বিনিয়োগকারীর টাকা, এক হাজার ৯০০ কোটি টাকা ফের দেওয়া হয়নি। রোজভ্যালি দুর্নীতিতে ৩১ লক্ষ বিনিয়োগকারীর ছ'হাজার ৬০০ কোটি টাকা ফেরত দেয়নি। কয়লা দুর্নীতি…বাংলার মানুষের কোনও ফায়দা নেই। শুধু তৃণমূলের সিন্ডিকেটকে ২৪ ঘণ্টা টাকা দিতে হয়।”

পাশাপাশি, তৃণমূলের হিংসা, দ্বন্দ্ব, এবং মিথ্যে প্রতিশ্রুতি নিয়েও অভিযোগ তোলেন রাহুল। "আমার মনে আছে, ২০২১ সালে তৃণমূল বাংলাকে কথা দিয়েছিল যে, পাঁচ লক্ষ কর্মসংস্থান হবে। ওদের প্রতিশ্রুতি ছিল। কত জন চাকরি পেয়েছেন? কত কারখানা, উৎপাদন কেন্দ্র বন্ধ হয়ে গিয়েছে? এখন ৮৪ লক্ষ যুবক-যুবতী বেকারভাতার জন্য আবেদন করেছেন। মমতাজী বলেন, 'পাঁচ লক্ষ যুবক-যুবতীকে চাকরি দেব'। আর ৮৪ লক্ষ বেকারত্ব ভাতার জন্য আবেদন করেছেন। বাংলার সঙ্গে এটা কি ছেলেখেলা হচ্ছে? বাংলা আগে শিল্পকেন্দ্র ছিল, এখানে শিল্প-কারখানা ছিল। প্রথমে কমিউনিস্ট এবং তার পর মমতাজী বাংলার শিল্প শেষ করে দিয়েছেন। আর হিংসা, মহিলাদের কথা যদি বলি, তাতে আর জি কর ধর্ষণ এবং খুনের কথাও বলতে হবে। বাংলায় কোনও দায়বদ্ধতা নেই। তৃণমূলের লোক, গুন্ডারা যা ইচ্ছে করতে পারে। কংগ্রেসের নেতাদের মারধর করা হয়, হিংসা ছড়ানো হয়। আমাদের তপন কুন্ডুকে খুন করেছে। বিজেপি এবং তৃণমূল, দুই দলই হিংসা ছড়ায়। কংগ্রেস হিংসা, ঘৃণা, ধর্মীয় বিভাজনের পক্ষে নয়। আমরা কারও বিরুদ্ধে কাউকে ভিড়িয়ে দিই না। আমরা নির্বাচনে বাংলাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি যে ১০ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্যবিমা পাবে প্রত্যেক পরিবার। বিনামূল্যে ক্যান্সার, ডায়লিসিস হবে। কৃষক সম্মানের আওতায় বছরে ১৫ হাজার টাকা, ২০০ ইউনিট ফ্রি বিদ্যুৎ। শিক্ষার আলোয় গ্র্যাজুয়েশন পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়াশোনা, মহিলাদের স্নাতকোত্তর পর্যন্ত। সরকারি চাকরিতে দ্রুত শূন্যপদ পূরণ করা হবে। মাসে ২০০০ টাকা জমা পড়বে মহিলাদের অ্যাকাউন্টে।"

এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাহুল গান্ধী প্রাক্তন কংগ্রেস নেতা প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সির কথাও স্মরণ করেন। তিনি বলেন, বাংলায় কংগ্রেসের অন্যতম শক্তিশালী নেতা ছিলেন প্রিয়রঞ্জন। তাঁর মতে, তিনি যদি এখনও সক্রিয় থাকতেন, তবে রাজ্যে কংগ্রেস সরকার গঠিত হতে পারত এবং তিনিই মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলাতেন। রাহুল আরও বলেন, "বাংলায় নির্বাচন হচ্ছে। একদিকে, বিজপি-র ঘৃণা, হিংসার রাজনীতি। ওদের প্রধানমন্ত্রী কম্প্রোমাইজ়। ওদের কথাই বলতে চাই না। আর একদিকে, তৃণমূল, যারা বিজেপি-র জন্য রাস্তা তৈরি করছে। তৃণমূল নিজের কাজ করলে, চাকরি দিলে, ঘৃণা না ছড়ালে, আজ এখানে বিজেপি-কে দেখাই যেত না। আণাদের প্রার্থীদের সমর্থন করুন। কংগ্রেসকে ভোট দিন। যত সম্ভব আসনে জেতান। বাংলাকে বদলে দেওয়ার কাজে শামিল হোন।"


Share