Coal Scam

জাল নথি, হাওয়ালার মাধ‍্যমে কয়লাচুরির কোটি টাকা পাচার, ধৃত আইপ‍্যাকের ডিরেক্টর বিনেশের ১০ দিনের ইডি হেফাজতের নির্দেশ আদালতের

বিনেশ চান্দেলের পক্ষে সওয়াল করে সিনিয়র আইনজীবী বিকাশ পাহওয়া। তাঁর দাবি, “এই মামলা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষিতে এটি করা হয়েছে।”

ধৃতের নাম বিনেশ চান্দেল।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ০৭:২৪

সোমবার রাতে কয়লাচুরি মাতলাম আইপ্যাক সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও ডিরেক্টর বিনেশ চান্দেলকে গ্রেফতার করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। মঙ্গলবার বিনেশকে দিল্লির পাতিয়ালা হাউস আদালতে পেশ করা হয়েছে। আদালত ১০ দিনের ইডি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।

মঙ্গলবার ইডি আদালতে আইপ‍্যাকের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ করেছে। কেন্দ্রীয় সংস্থার দাবি, চলতি মাসের শুরুতে তল্লাশি চালিয়ে সংস্থা ও তার সহযোগীদের কাছ থেকে আর্থিক লেনদেন এবং নির্বাচনী খরচ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ডিজিটাল প্রমাণ উদ্ধার করেছে। ইডি জানিয়েছে, একই ধরনের নথি একটি রাজনৈতিক দলের দফতর থেকেও পাওয়া গিয়েছে। যদিও তাঁরা কোনও দলের নাম উল্লেখ করেনি। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই নথিগুলি থেকে হিসাবরক্ষণে ব্যাপক অনিয়ম, অর্থে হিসেব ভাগ করে দেখানো এবং অঘোষিত লেনদেনের ইঙ্গিত মিলেছে। কোথা থেকে এই বিপুল অঙ্কের অর্থ কোথা থেকে এসেছে তার কোনও সদুত্তর তৃণমূলের ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক দেখাতে পারেনি।

বিনেশ চান্দেলের ভোটকুশলী সংস্থা ‘আইপ‍্যাক’-এ ৩৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। তাঁকে কয়লাচুরি কাণ্ডে আর্থিক তছরুপের মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। ইডির অভিযোগ, আইপ্যাক কোটি কোটি টাকার অবৈধ অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত। এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ কোটি টাকার লেনদেন শনাক্ত করা হয়েছে বলে আদালতকে জানিয়েছে ইডি।

ইডি আদালতে জানায়, তদন্তে উঠে এসেছে যে আইপ্যাক আয়কে দুই ভাগে ভাগ করে দেখাত। একাংশ ব্যাঙ্কের মাধ্যমে এবং বাকি অংশ নগদে গ্রহণ করা হতো। “৫০ শতাংশ চেক” সংক্রান্ত নথি থেকে এই বিপুল পরিমানের প্রমাণ মিলেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এই নগদ অর্থ নির্বাচনী খরচ এবং জনমতকে প্রভাবিত করার কাজে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

তাঁদের বক্তব্য, ২০১৯-২০ ও ২০২০-২১ অর্থবর্ষে রমাসেতু প্রাইভেট লিমিটেড-এর কাছ থেকে সাড়ে ১৩ কোটি টাকা সুদবিহীন ঋণ হিসেবে দেখানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইডি। সংস্থাটি কোনও ব্যাঙ্ক বা এনবিএফসি নয়। এই ঋণের ক্ষেত্রে কোনও চুক্তি, জামানত বা পরিশোধের কোনও শর্ত ছিল না। তদন্তকারীরা মনে করছে, এটি ছিল অঘোষিত অর্থকে বৈধভাবে দেখানোর একটি ছক।

ইডি আরও অভিযোগ করেছে, তৃণমূলের ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক ভুয়ো বিল তৈরি করেছে। তা তৈরি করে বিভিন্ন তৃতীয় পক্ষ সংস্থার কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করত। যে পরিষেবার নাম করে টাকা তোলা হয়েছিল, বাস্তবে ওই সংস্থাগুলিকে কোনও পরিষেবা দেওয়া হয়নি। এইভাবে অবৈধ অর্থকে বৈধ রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইডি।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, অর্থের একটি অংশ ব্যাঙ্কের মাধ্যমে ঘোরানো হলেও নগদ অংশ হাওয়ালা মাধ্যমে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। ইডির বক্তব্য, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অর্থের উৎস গোপন করে সেটিকে বৈধ আয় হিসেবে দেখানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় সংস্থার দাবি, আইপ্যাকের ডিরেক্টরদের মধ্যে বিনেশ চান্দেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। আর্থিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ওপর তাঁর নিয়ন্ত্রণ ছিল। ফলে অবৈধ অর্থ তৈরি, লুকানো এবং পাচারের প্রক্রিয়ায় তার সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল বলেই অভিযোগ। চান্দেল নিয়মিত বিদেশ সফর করেন। ফলে তিনি পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া, জানুয়ারিতে তল্লাশির পর সিস্টেম থেকে গুরুত্বপূর্ণ ইমেল ও আর্থিক তথ্য মুছে ফেলার অভিযোগও উঠেছে।

অন্যদিকে, চান্দেলের পক্ষে সওয়াল করে সিনিয়র আইনজীবী বিকাশ পাহওয়া। তাঁর দাবি, এই মামলা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষিতে এটি করা হয়েছে। তিনি বলেন, চান্দেলের তদন্তে সবসময় সহযোগিতা করেছেন। পাহওয়া আরও যুক্তি দেন, অভিযোগিত আর্থিক লেনদেনের বিষয়গুলি আয়কর আইনের আওতায় পড়ে। বেআইনি আর্থিক লেনদেন প্রতিরোধ আইন বা পিএমএলএ-এর আওতায় পড়ছে। তিনি বলেন, “মামলাটিকে জোর করে আওতায় পিএমএলএ-এর আনার চেষ্টা করা হয়েছে।” উল্লেখ্য, আইপ্যাক ভোটকুশলী সংস্থা। যা বিভিন্ন রাজ্যে রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে কাজ করেছে। ধৃত বিনেশ চান্দেল রাজ‍্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে মনে করা হয়।


Share