R N Ravi

অর্থনীতি থেকে আইনশৃঙ্খলা পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন রাজ্যপাল, ইসলামপুর থেকে কড়া জবাব মুখ্যমন্ত্রীর

অর্থনৈতিক প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, একসময় দেশের জিডিপির ১০ শতাংশের বেশি অবদান আসত পশ্চিমবঙ্গ থেকে। অথচ বর্তমানে সেই হার অনেকটাই কমেছে। আগে যেখানে মাত্র কয়েকটি রাজ্য মাথাপিছু আয়ে এগিয়ে ছিল, এখন বহু রাজ্য পশ্চিমবঙ্গকে ছাপিয়ে গিয়েছে।

রাজ্যপাল আর এন রবি ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ০৭:১০

পরিবর্তনের পথে এগিয়ে আসতে রাজ্যের তরুণ প্রজন্মকে আহ্বান জানালেন রাজ্যপাল আরএন রবি। পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে লোক ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি পশ্চিমবঙ্গের অতীত গৌরব ও বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির তুলনা টানেন এবং হারানো সম্মান পুনরুদ্ধারের ডাক দেন। তাঁর এই মন্তব্যের পরই মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাম না করে পাল্টা আক্রমণ শানান।

অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল বলেন, পশ্চিমবঙ্গ বরাবরই সাহিত্য, সংস্কৃতি, শিল্পচর্চা ও বৌদ্ধিক ক্ষেত্রে সমৃদ্ধ ছিল। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়েও অর্থনৈতিক দিক থেকে রাজ্য দেশের সেরা রাজ্যগুলির অন্যতম ছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই গৌরব অনেকটাই ম্লান হয়েছে বলে তাঁর মত। তিনি সকলকে একযোগে এগিয়ে এসে সেই হারানো মর্যাদা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান।

রাজ্যের তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে তিনি বলেন, “ইতিবাচক হওয়ার প্রতিজ্ঞা করুন। পরিবর্তনের অংশ হওয়ার প্রতিজ্ঞা করুন। উন্নততর হওয়ার, গৌরব পুনরুদ্ধার করার এই পরিবর্তন আকাশ থেকে এসে পড়বে না। এটা আমাদেরই করতে হবে। আমাদের প্রত্যেককে করতে হবে। আসুন, শপথ করুন। যখন দেশ এমন অভূতপূর্ব গতিতে এগিয়ে চলছে, তখন পশ্চিমবঙ্গ পিছিয়ে থাকতে পারে না। পশ্চিমবঙ্গকেও এর সঙ্গী হতে হবে। হয়তো নেতৃত্বও দিতে হবে।”

অর্থনৈতিক প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, একসময় দেশের জিডিপির ১০ শতাংশের বেশি অবদান আসত পশ্চিমবঙ্গ থেকে। অথচ বর্তমানে সেই হার অনেকটাই কমেছে। আগে যেখানে মাত্র কয়েকটি রাজ্য মাথাপিছু আয়ে এগিয়ে ছিল, এখন বহু রাজ্য পশ্চিমবঙ্গকে ছাপিয়ে গিয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে কম বলে দাবি করেন তিনি।

রাজ্যপাল আরও বলেন, “১৯৮০-র দশকের আগে গোটা দেশে মাত্র চারটি রাজ্যের মাথাপিছু আয় পশ্চিমবঙ্গের চেয়ে বেশি ছিল। দুর্ভাগ্যজনক ভাবে আজ ১৫টি রাজ্যের লোকের মাথাপিছু আয় পশ্চিমবঙ্গের চেয়ে ঢের বেশি। জাতীয় পুঁজিতে আমাদের ভাগ ১০.৬ শতাংশ থেকে কমে প্রায় পাঁচ শতাংশে নেমে এসেছে। আজ স্কুল এবং কলেজে নাম নথিভুক্তকরণের যে অনুপাত রয়েছে রাজ্যে, তা জাতীয় অনুপাতের চেয়ে অনেক কম।” তিনি দাবি করেন, বর্তমানে দেশে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি নথিভুক্ত এবং কার্যকর ক্ষুদ্র, কুটির এবং মাঝারি শিল্প রয়েছে। তার নিরিখে পশ্চিমবঙ্গের সংখ্যাটা প্রায় তিন লক্ষ এসে দাঁড়িয়েছে। রাজ্যের পরিস্থিতির কথা বোঝাতে গিয়ে তিনি বলেন, “কোথা থেকে কোথায় নেমে এসেছি আমরা। যে রাজ্য গোটা দেশকে প্রগতিতে পথ দেখাত, দুর্ভাগ্যজনক ভাবে আজ পরিস্থিতি খুব খারাপ।” একই সঙ্গে রাজ্যপাল আরও বলেন, “এই মাটি মা দুর্গার মাটি। পশ্চিমবঙ্গ যে নিজের গৌরব ফিরে পাবে, তা নিয়ে আমার মনে কোনও সন্দেহের অবকাশ নেই। ভারতের বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার পথে পশ্চিমবঙ্গেরও একটি অগ্রণী ভূমিকা থাকবে।”

রাজ্যপালের এই বক্তব্যের জবাবে উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুর থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘বাংলার লাটসাহেব, সবচেয়ে বড় বাড়িতে যিনি থাকেন, আমি নাম নেব না, আজ বিবৃতি দিয়েছেন। আজ নববর্ষ, বাংলার মানুষকে অভিনন্দন জানান। আমাকে গালি দিয়েছেন। আগে তো অশান্তি হত না। এখন আপনাদের অধীনে আসার পর প্রতি দিন অশান্তি হচ্ছে। এটা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে যায়। আমাদের হাতে এখন আইনশৃঙ্খলা নেই। নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রের কাছে রয়েছে।’’

উল্লেখ্য, গত মার্চ মাসেই রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন আরএন রবি। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম দিকে রাজ্য সরকারের সঙ্গে বড় কোনও সংঘাত দেখা না গেলেও নববর্ষের দিন তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে নবান্ন ও রাজভবনের সম্পর্ক কোন দিকে এগোয়, তা এখন দেখার বিষয়। 


Share