Drug Seized

ভোটের মুখে কলকাতায় ৫০ কোটির মাদক উদ্ধার, একবালপুরে গ্রেফতার আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের মূলচক্রীর স্ত্রী

এনসিবি সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত মহিলার নাম শায়েস্তা খান এবং অপর অভিযুক্ত জি রাসেল ডিক্রুজ। একবালপুর থানার অন্তর্গত তিনটি পৃথক ঠিকানায় তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৫ এপ্রিল ২০২৬ ১২:০৯

স্বামী আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের ‘মূলচক্রী’। কোটি কোটি টাকার মাদক পাচারের অভিযোগে ফিলিপিন্সে গ্রেফতার হয়েছেন তিনি। সেই সময় কলকাতায় বসেই চক্রের নিয়ন্ত্রণ সামলাচ্ছিলেন তাঁর স্ত্রী—এমনই দাবি করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা, নারকোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরো। অবশেষে একবালপুর এলাকা থেকে ওই মহিলা-সহ দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ মাদক, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে এনসিবি। ভোটের আবহে কলকাতা থেকে এত বড় মাদক উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

এনসিবি সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত মহিলার নাম শায়েস্তা খান এবং অপর অভিযুক্ত জি রাসেল ডিক্রুজ। একবালপুর থানার অন্তর্গত তিনটি পৃথক ঠিকানায় তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য। পাশাপাশি নগদ প্রায় চার লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা এবং কয়েক লক্ষ টাকার গয়নাও বাজেয়াপ্ত করেছেন তদন্তকারীরা। ধৃত দু’জনকে আলিপুর কোর্টে পেশ করা হলে আদালত শায়েস্তা খানকে জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। অন্যদিকে, রাসেল ডিক্রুজকে সাত দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।

তদন্তকারীদের দাবি, শায়েস্তা খান আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের পান্ডা শেখ মুনিরের স্ত্রী। দীর্ঘদিন ধরেই শেখ মুনিরের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছিল এনসিবি। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তিনি কলকাতা ছাড়েন। পরে ফেব্রুয়ারিতে কয়েকশো কোটি টাকার কোকেন নিয়ে আসার সময় ফিলিপিন্সে গোয়েন্দাদের হাতে ধরা পড়েন শেখ মুনির ও তাঁর এক সহযোগী।

এনসিবি-র দাবি, স্বামীর গ্রেফতারের পর একবালপুরে বসেই মাদক নেটওয়ার্ক চালাচ্ছিলেন শায়েস্তা। সম্প্রতি একটি বড় মাদকের চালান শহরে পৌঁছয়। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে এই উদ্ধার ও গ্রেফতারি হয়। তদন্তকারীদের অনুমান, এই আন্তর্জাতিক চক্রের আরও একাধিক সদস্য এখনও বিভিন্ন জায়গায় সক্রিয় রয়েছে।

এনসিবি-র আইনজীবী সুরেশপ্রসাদ সিংহের কথায়, “আন্তর্জাতিক ব়্যাকেট জড়িত। সম্ভবত এত টাকার নিষিদ্ধ মাদক এর আগে ধরা পড়েনি কলকাতায়।” তদন্তকারীদের দাবি, উদ্ধার হওয়া মাদকের মধ্যে এমন কিছু উপাদানও রয়েছে, যা আমেরিকা থেকে আনা হয়েছে। ভোটের সময় এত বিপুল পরিমাণ মাদক কোথায় পাচার হওয়ার কথা ছিল, তা নিয়েও উঠছে বড় প্রশ্ন। কলকাতায় মাদকপাচার চক্রের বিস্তার কতটা বেড়েছে, তা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


Share