Mysterious Death

লিলুয়ায় নেশামুক্তি কেন্দ্রে রহস্যমৃত্যু, মারধরের অভিযোগে আটক ম্যানেজার

মৃত মাধব সরকারের পরিবারের অভিযোগ, তাঁকে মারধর করে খুন করা হয়েছে। ঘটনায় কেন্দ্রের ম্যানেজারকে আটক করে তদন্ত শুরু করেছে লিলুয়া থানার পুলিশ।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, হাওড়া
  • শেষ আপডেট: ০৬ এপ্রিল ২০২৬ ১২:০১

হাওড়ার লিলুয়া এলাকায় একটি নেশামুক্তি কেন্দ্রে রহস্যমৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে। অভিযোগ, ওই কেন্দ্রের মধ্যেই এক ব্যক্তিকে মারধর করে খুন করা হয়েছে। মৃতের নাম মাধব সরকার (৪১)। লিলুয়া থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের ম্যানেজারকে আটক করা হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৩ মার্চ কামারপাড়ার একটি নেশামুক্তি কেন্দ্রে মাধবকে ভর্তি করানো হয়। সে লিলুয়ার আনন্দনগরের বাসিন্দা। পেশায় কাঠের মিস্ত্রি ছিলেন। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে হেরোইনের নেশায় আসক্ত ছিলেন। সেই কারণেই পরিবারের তরফে তাঁকে চিকিৎসার জন্য কেন্দ্রে রাখা হয়। তবে অভিযোগ, ভর্তি হওয়ার পর থেকে ধীরে ধীরে পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কয়েক দিন ধরে বাড়ির লোকজন তাঁর কোনও খোঁজ পাচ্ছিলেন না। এমনকী, তাঁর সঙ্গে পরিবারের লোকজনের সঙ্গে দেখা করার অনুমতিও দেওয়া হচ্ছিল না।

পরিবারের দাবি, কিছু দিন আগে কেন্দ্রের তরফে একটি ভিডিয়ো পাঠানো হয়েছিল। সেখানে মাধবকে অসুস্থ অবস্থায় দেখা যায়। এরপর রবিবার সকালে তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ বলে ফোন করে জানানো হয়। পরে জানা যায়, হাওড়া জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

এই খবর পাওয়ার পরই পরিবারের সদস্যরা নেশামুক্তি কেন্দ্রে ছুটে যান। তাঁদের অভিযোগ, মাধবকে পাইপ দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে।সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। দেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল বলেও পরিবারের তরফে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি, ওই কেন্দ্রে অন্যান্য রোগীদের ওপরেও নিয়মিত অত্যাচার চালানো হতো বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার পর জগদীশপুর পুলিশ ফাঁড়িতে মৃতের স্ত্রী ও ভাই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মাধবের দেহের ময়নাতদন্ত ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার অপেক্ষা করছেন তদন্তকারীরা। এই ঘটনায় রোহিত জয়সওয়াল নামে নেশামুক্তি কেন্দ্রের ম্যানেজারকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি, ওই কেন্দ্রটির সরকারি অনুমোদন ছিল কি না এবং সেখানে কোনও যোগ্য চিকিৎসক নিযুক্ত ছিলেন কি না, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্তকারীদের মতে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।


Share