TMC Councillors Resigned

ভদ্রেশ্বর পুরসভার চেয়ারম্যান-সহ আট জন কাউন্সিলর পদত্যাগ, তৃণমূলের পরাজয় বোর্ড চালাতে সমস্যা

বৃহস্পতিবার পুরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসারের কাছে তাঁরা পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। ভদ্রেশ্বর পুরসভার পুরপ্রধান প্রলয় চক্রবর্তী-সহ মোট আটজন তৃণমূলের দলীয় কাউন্সিলর পদত‍্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। যদিও তাঁরা প্রকাশ্যে কেউ কিছুই বলছেন না।

ভদ্রেশ্বর পুরসভার আটজন তৃণমূল কাউন্সিলর পদত্যাগ করলেন।
প্রীতম সাধুখাঁ, ভদ্রেশ্বর
  • শেষ আপডেট: ২৮ মে ২০২৬ ০৮:৪৫

বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবি হয়েছে। দলের হেভিওয়েট মন্ত্রী তথা চন্দননগরের  বিধায়ক ইন্দ্রনীল সেন পরাজিত হতেই বদলে গিয়েছে জেলার রাজনৈতিক সমীকরণ। তার জেরেই উত্তর ২৪ পরগনার ও কলকাতা পুরনিগমের ধাচে এ বার ভদ্রেশ্বর পুরসভার চেয়ারম্যান-সহ আটজন তৃণমূল কাউন্সিলর পদত্যাগ করলেন। 

বৃহস্পতিবার পুরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসারের কাছে তাঁরা পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। ভদ্রেশ্বর পুরসভার পুরপ্রধান প্রলয় চক্রবর্তী-সহ মোট আটজন তৃণমূলের দলীয় কাউন্সিলর পদত‍্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। যদিও তাঁরা প্রকাশ্যে কেউ কিছুই বলছেন না।

তৃণমূল সূত্রের খবর, দলের পরাজয়ে কারণে বোর্ড চালাতে সমস্যা হচ্ছে। তাই পুরপ্রধান-সহ বাকিরা পদত্যাগ করেছেন বলে খবর। যদিও আরেক পক্ষ মনে করছেন, এই পদক্ষেপের পরে পুরবোর্ড চালাতে খুব একটা অসুবিধা হবে না। আটজন তৃণমূল কাউন্সিলর পদত্যাগ করায় ভদ্রেশ্বর পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান ফিরোজ খানের নেতৃত্বে পুরবোর্ড চলবে বলে তৃনমূল সূত্রে জানা গিয়েছে। 

বিধানসভা ভোটে বিপর্যয়ের পরে হুগলি জেলায় কোনও পুরসভায় এই প্রথম এতগুলি একসাথে তৃণমূল কাউন্সিলর পদত্যাগ করল। চন্দননগর বিধানসভার অন্তর্গত ভদ্রেশ্বর পুরসভায় ২২টি ওয়ার্ড রয়েছে। বিরোধীশূন্য এই পুরসভার প্রায় ১৪ ওয়ার্ডেই বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল হার হয়েছে। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন চন্দননগর বিধানসভায় ১৩ হাজার ভোটে পরাজিত হয়েছেন। তারমধ্যে ভদ্রেশ্বরেও হার হয়েছে তাঁর। 

সূত্র এ-ও জানা গিয়েছে, ভদ্রেশ্বর পুরসভার তৃণমূল চেয়ারম্যান প্রলয় চক্রবর্তী দলের বিপর্যয়ে নৈতিক দায় স্বীকার করে নিয়ে পদত্যাগ করেছেন। এ দিন পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর পুরপ্রধান প্রলয় চক্রবর্তী বলেন, “আমাকে বিজেপি বা আমার দল তৃণমূল কেউই পদ ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেনি। নতুন সরকার মানুষের রায় নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। তাঁরা মানুষের জন্য কাজ করুক। আমি স্বেচ্ছায় এক্সিকিউটিভ অফিসারের কাছে আমার পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছি।” 

এ বিষয়ে চন্দননগরের বিজেপি বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহ বলেন, “মানুষ নাগরিক পরিষেবা পাচ্ছে না। এই পদক্ষেপের ফলে মানুষের মনে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। সেই কারণেই স্বতঃস্ফূর্ত জনরোষের উদয় হতে পারে। সেই ভয়ে এদের অন্তরআত্মা জাগ্রত হয়েছে।”


Share