Aushgram TMC Clash

জেলা কমিটির নাম ঘোষণা ঘিরে তৃণমূলের গোষ্ঠী সংঘর্ষ, আউশগ্রামে হামলা–ভাঙচুর ও বোমাবাজির অভিযোগ

তৃণমূলের জেলা কমিটি ঘোষণার পর পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামে তীব্র গোষ্ঠী সংঘর্ষ। হামলা, ভাঙচুর ও বোমাবাজির অভিযোগে উত্তেজনা ছড়াল একাধিক গ্রামে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় টহল দিচ্ছে পুলিশ।

এই বাড়িতেই ভাঙচুর হয়েছে
নিজস্ব সংবাদদাতা, পূর্ব বর্ধমান
  • শেষ আপডেট: ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ০১:০৩

পূর্ব বর্ধমানে তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা কমিটির নাম ঘোষণা হতেই গোষ্ঠী সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল আউশগ্রামের একাধিক এলাকা। হামলা, ভাঙচুরের পাশাপাশি বোমাবাজির অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় পুলিশি টহল চলছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার তৃণমূলের জেলা কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেই তালিকায় আউশগ্রামের বেরেণ্ডা গ্রামের বাসিন্দা সফিকুল আলম মণ্ডলকে জেলা কমিটির সহ-সভাপতি করা হয়। এরপর উক্তা ও পিচকুড়ি গ্রামের তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের একাংশ তাঁকে সম্বর্ধনা দেন। কালীদহ বাজার এলাকায় একটি মিছিলও হয়।

অভিযোগ, সম্বর্ধনা ও মিছিল শেষ করে বাড়ি ফেরার পর সফিকুলের অনুগামীদের উপর হামলা চালানো হয়। ভাঙচুর করা হয় তাঁদের গাড়ি ও বাড়ি। স্থানীয়দের দাবি, এই সময় বোমাবাজির ঘটনাও ঘটে।

এছাড়াও হামলার অভিযোগ উঠেছে ওই গ্রামের পঞ্চায়েত সদস্যা শেখ আজিফুন্নেসার বাড়িতে। তিনি ও তাঁর স্বামী সাজিদুর রহমান শেখের দাবি, নিয়ম মেনেই পঞ্চায়েত সদস্য ও কৃষি বিভাগের দায়িত্ব পালন করেন আজিফুন্নেসা। তাঁদের অভিযোগ, অঞ্চল সভাপতি আমদুল হক মল্লিক ওরফে চঞ্চলের গোষ্ঠী তোলাবাজির চেষ্টা করছিল। তাতে রাজি না হওয়াতেই একাধিক ব্যক্তি তাঁদের বাড়িতে হামলা চালায়। হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি বাড়ি ও গ্রামে বোমা ছোড়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।

এই ঘটনায় আউশগ্রামের বিধায়ক অভেদানন্দ থাণ্ডার বলেন, “বিষয়টি এখনও জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখছি।” তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ও প্রাক্তন সভাধিপতি দেবু টুডু জানান, গতকাল দল এবং শাখা সংগঠনের পদাধিকারীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তারপর কী হয়েছে আমার জানা নেই। যদি কেউ অশান্তি সৃষ্টি করে, দলের সিদ্ধান্ত না মানে তবে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলে শৃঙ্খলাই বড় কথা।

বিজেপি মুখপাত্র শান্তরূপ দে বলেন, ‘‘গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনীতি।’’ তাঁর অভিযোগ, পূর্ব বর্ধমান জেলায় সম্প্রতি যে জেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে, সেখানে নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য দলের উচ্চ নেতৃত্বকে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হয়। তবে তা দিলেও যে সকলের নাম কমিটিতে থাকে, এমন হয় না বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, যাঁরা অর্থ দেওয়ার পরেও কমিটিতে জায়গা পাননি, তাঁদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। আউশগ্রামের পিচকুরি গ্রামের ঘটনায় প্রমাণিত হয় যে সেই ক্ষোভই প্রকাশ্যে এসেছে।


Share