TMC Political Crisis

সব‍্যসাচী কান্ডে নাম জড়ানোর পরে রানাঘাটের বিজেপি সাংসদের বাড়িতে তৃণমূল নেত্রী! ‘সৌজন‍্য সাক্ষাৎ’ বলছেন টিনা

জগন্নাথ সরকার বলেন, “চুপিচুপি বা গোপনে আসেননি। দিনের আলোতেই সকলের সামনে এসেছিলেন। এতে হইচই বা জল্পনা ছড়ানোর মতো কোনও বিষয় নেই। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কিছু লোক এটাকে নিয়ে কুৎসা ছড়াচ্ছে।”

(বাঁ দিক থেকে) বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার এবং তৃণমূল নেত্রী টিনা ভৌমিক সাহা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, নদিয়া
  • শেষ আপডেট: ২৬ জুলাই ২০২৬ ০৪:২৭

রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকারের বাড়িতে দেখা করতে এলেন তৃণমূল নেত্রী টিনা ভৌমিক সাহা। তোলাবাজির মামলায় সব‍্যসাচী দত্ত গ্রেফতার হওয়ার পরে এই তৃণমূল নেত্রীর নাম জড়িয়েছিল। টিনা ভৌমিক সাহা নদিয়ার প্রাক্তন জেলা পরিষদের সদস্য। যদিও টিনার দাবি, তিনি সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন। রাজনৈতিক কোনও কারণেই তিনি আসেননি।

টিনা ভৌমিক সাহা রানাঘাট দক্ষিণের বাসিন্দা নন। তাঁর রাজনৈতিক ক্ষেত্র মূলত নদিয়া উত্তরে। ফলে বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার তাঁর লোকসভার সাংসদ নন। বরং কালীঘাটপন্থী তৃণমূল নেত্রী মহুয়া মৈত্র তাঁর সাংসদ। জানা গিয়েছে, গত কয়েক দিন আগেই টিনা রানাঘাটে বিজেপি সাংসদ জগন্নাথের বাড়িতে আসেন। সমাজমাধ‍্যমে ইতিমধ্যেই একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে। তার পরেই নদিয়া জেলা জুড়ে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে।

তবে এই সাক্ষাতকে সৌজন্যমূলক বলেই দু’জনে দাবি করেছেন। তৃণমূল নেত্রী টিনা ভৌমিক সাহা ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ’ বলে দাবি করে বলেন, “একজন জনপ্রতিনিধির বাড়িতে যে কেউ যেতে পারেন। কারণ জনপ্রতিনিধি সবার জন্যই উন্মুক্ত।” তাঁর বক্তব্য, রানাঘাট দক্ষিণও নদিয়ার জেলাশাসকের অধীনে রয়েছে। তাই অন‍্য এলাকার মানুষ হলেও জনপ্রতিনিধির কাছে যে কেউই যেতেই পারে। 

নির্বাচনে ভরাডুবির পরে নদিয়া জেলা পরিষদের বোর্ড ভেঙে গিয়েছে। সেখানে জেলাশাসককে প্রশাসক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। যদিও আসন্ন নদিয়া জেলা পরিষদে ভোটাভুটির সাথে এই সাক্ষাতের কোনও যোগসূত্র নেই বলে তৃণমূল নেত্রী টিনা দাবি করেছেন। এমনকী, সমাজমাধ্যমে  টিনা সাংসদের সঙ্গে সাক্ষাতের পরে একটি পোস্ট করেছেন। তাতে তিনি লিখেছেন, ‘দাদা,থ্যাংক ইউ’। এই বিষয়ে তিনি বলেন, “কাকে আমি ‘দাদা’ বলব বা ‘ধন্যবাদ’ জানাব, সেটা আমার একান্তই ব্যক্তিগত বিষয়। ভবিষ্যতে নদিয়া জেলা পরিষদে কী হবে তা সময় এলেই বিষয়টি প্রকাশ‍্যে আনবেন বলে টিনা জানিয়েছেন।

অন‍্য দিকে, রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকারের বক্তব্য, তিনি জনপ্রতিনিধি। তাঁর জন‍্য সমস্ত দলের মানুষের জন্য দরজা খোলা রয়েছে। জগন্নাথ বলেন, “চুপিচুপি বা গোপনে আসেননি। দিনের আলোতেই সকলের সামনে এসেছিলেন। এতে হইচই বা জল্পনা ছড়ানোর মতো কোনও বিষয় নেই। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কিছু লোক এটাকে নিয়ে কুৎসা ছড়াচ্ছে।” 

বিধাননগরের তৃণমূল নেতা সব‍্যসাচী দত্তকে গ্রেফতারির পরে এই টিনা ভৌমিক সাহার বাড়িতে পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে সোনা উদ্ধার করেছিল। সেই প্রসঙ্গে বিজেপি সাংসদের সাফাই, “আইন নিজস্ব পথেই চলবে। উপযুক্ত নথিপত্র থাকলে তিনি সোনা ফেরত পাবেন। কিছু পেয়েও গিয়েছেন। আর হিসাব না মিললে আইনানুগ ব্যবস্থা হবে।” একই সাথে জেলা পরিষদের রাজনীতি নিয়ে তৃণমূলকে আক্রমণ করে জগন্নাথ দাবি, স্বচ্ছ নির্বাচন হলে নদিয়ায় তৃণমূল একটি আসনও পেত না। গণনায় কারচুপি করেছে। বলপ্রয়োগ করে তারা জিতেছে। দুর্নীতিতে জর্জরিত তৃণমূলকে মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে।

তবে এই সাক্ষাৎ নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও উভয় নেতা-নেত্রীই সাক্ষাতের বিষয়টি স্বীকার করলেও রাজনৈতিক মাত্রা দিতে নারাজ। তাহলে কী বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন টিনা ভৌমিক সাহা নাকি এই সাক্ষাতের নেপথ‍্যে অন‍্য রাজনৈতিক সমীকরণ তা সময়ে স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।


Share