Protest

শান্তিপুরে হাসপাতাল যাওয়ার রাস্তার গর্তে পড়ে জখম গর্ভবতী মহিলা, দুর্নীতি ঢাকতে ব্যস্ত পুরসভা, দাবি বিজেপির

স্থানীয়দের দাবি, বারবার পুরসভাকে এ বিষয়ে জানানো সত্ত্বেও কোনো সুরাহা মেলেনি। কখনো রোলার ড্রাইভার না থাকার অছিলা। আবার কখনো গাাড়িতে তেল নেই বলে দায়িত্ব এড়িয়েছে পুর প্রশাসন।

বিজেপি কর্মীরা নিজেরাই রাস্তা সারাতে তৎপর।
নিজস্ব সংবাদদাতা, শান্তিপুর
  • শেষ আপডেট: ৩১ জুলাই ২০২৬ ০৫:৩১

তৃণমূল পরিচালিত শান্তিপুর পুরসভার উদাসীনতা ও পরিষেবা স্তব্ধ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শান্তিপুরে হাসপাতাল যাওয়ার রাস্তা ভেঙে বিপজ্জনক গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে পড়ে গিয়ে এক গর্ভবতী মহিলা জখম হন। যা এলাকার মানুষকে সাথে নিয়ে বিজেপি কর্মীরাই তা মেরামত করলেন। তাঁদের অভিযোগ, পুরসভার কাছে একটি রোলার চাওয়া হলেও তা মেলেনি।

শান্তিপুর এলাকার প্রতিটি ওয়ার্ডে উপচে পড়া জঞ্জাল, পানীয় জলের বেহাল দশা এবং ভাঙা রাস্তাঘাট—সব মিলিয়ে নাগরিক পরিষেবা এখন তলানিতে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুর প্রতিনিধিরা সাধারণ মানুষের পরিষেবা দেওয়ার বদলে নিজেদের চেয়ার আঁকড়ে রাখতে ব্যস্ত। পাশাপাশি ১৫ বছরের দুর্নীতি ঢাকতেই ব্যস্ত রয়েছে তাঁরা। 

ঘটনার সূত্রপাত শহরের প্রধান রাজপথ বাইগাছি মোড় থেকে হাসপাতালে যাওয়ার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলে। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে একটি বিপজ্জনক গর্ত হয়ে রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বারবার পুরসভাকে এ বিষয়ে জানানো সত্ত্বেও কোনও সুরাহা মেলেনি। কখনওই রোলার ড্রাইভার পাওয়া যায় না। আবার কখনও গাাড়িতে তেল নেই বলে দায়িত্ব এড়িয়েছে পুর প্রশাসন। ফলস্বরূপ, প্রায়শই ওই গর্তে পড়ে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছিল। সম্প্রতি এক গর্ভবতী মহিলা টোটো করে হাসপাতালে যাওয়ার পথে ওই গর্তে পড়ে যান। গুরুতর জখম হন তিনি। 

এই ঘটনার পরেই স্থানীয় নেতৃত্ব ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকা জুড়ে। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব, সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের সাথে নিয়ে শান্তিপুরের বিজেপি বিধায়ক স্বপন কুমার দাসের শরণাপন্ন হন। বিধায়ক সঙ্গে সঙ্গেই রাস্তা মেরামতের জন্য ইট ও ঘ্যাসের ব্যবস্থা করে দেন। কিন্তু অভিযোগ, পুরসভার কাছে একটি রোলার চাওয়া হলেও তা মেলেনি। বাধ্য হয়ে গতকাল রাতেই বিজেপি কর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেরাই কাজে নেমে পড়েন। সকালের দিকে কিছু সময়ের জন্য রাস্তার একদিকের যান চলাচল বন্ধ রেখে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বিপজ্জনক গর্তটি ভরাট করা হয়।

শুক্রবার সকালে নিজের গুরুত্বপূর্ণ কাজে বেরোনোর সময় বিধায়ক স্বপন কুমার দাস সেখানে দাঁড়িয়ে কর্মীদের এই জনসেবামূলক কাজ ঘুরে দেখেন। তাঁদের সাধুবাদ জানান। তিনি দলীয় কর্মীদের বিভিন্ন এলাকার সমস্যা লিপিবদ্ধ করে তালিকা তৈরি করার নির্দেশ দেন। তবে এ বিষয়ে কোনো রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি বিধায়ক। তিনি জানান, “কথা নয়, কাজেই বিশ্বাসী। অনেক কাজ বাকি রয়েছে, সেগুলো শেষ করার পর বলা যাবে। মানুষ সবই দেখছেন এবং বিচার করছেন।”

অন্যদিকে, বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, পৌরসভার চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে কাউন্সিলররা প্রতিনিয়ত এই পথ দিয়েই যাতায়াত করেন। অথচ তাঁদের চোখে এসব পড়ে না। তাঁরা ব্যস্ত দুর্নীতির তদন্ত থেকে নিজেদের বাঁচাতে। রাজ্য সরকার সম্পর্কে মানুষকে ভুল বোঝাতে। শান্তিপুর পৌরসভায় এখন কোনো পরিষেবাই পাওয়া যায় না। অথচ এরা লজ্জাহীনভাবে চেয়ার আঁকড়ে বসে রয়েছে। বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের হুঁশিয়ারি, পুরসভা ব্যর্থ হলে আগামীতে জঞ্জাল সাফাই থেকে শুরু করে নাগরিক পরিষেবার যাবতীয় কাজ তাঁরা নিজেরাই হাতে তুলে নেবেন। আগামী দিনে এলাকার মানুষই এই দুর্নীতিগ্রস্ত পুর প্রতিনিধিদের উপযুক্ত জবাব দেবে।


Share