Corruption

‘কোথায় গেল টাকা’, 'আমার পাড়া, আমার সমাধান' প্রকল্পে কাজ না হওয়ার অভিযোগে শান্তিপুরে পোস্টার

অভিযোগ অস্বীকার করে তৃণমূলের দাবি, ওয়ার্ডের প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে, বাকি কাজের ভবিষ্যৎ রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে।

ওয়ার্ডের বিভিন্ন অলিগলিতে পোস্টার লাগানো হয়।
নিজস্ব সংবাদদাতা, শান্তিপুর
  • শেষ আপডেট: ০২ আগস্ট ২০২৬ ০৯:৫৯

নদিয়ার শান্তিপুর পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডে 'আমার পাড়া, আমার সমাধান' প্রকল্পের একাধিক কাজ সম্পূর্ণ না হওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। রবিবার প্রকাশ্য দিবালোকে স্থানীয়দের তরফে ওয়ার্ডের বিভিন্ন অলিগলিতে পোস্টার লাগানো হয়। পোস্টারে দাবি করা হয়, বিদায়ী সরকারের আমলে প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ হওয়া সত্ত্বেও অধিকাংশ কাজ শেষ হয়নি। এমনকী, ঠিকাদার প্রকল্পের অর্থের একটি অংশ পেয়ে থাকলে সেই অর্থ কোথায় গেল, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

অভিযোগ, এলাকার বাসিন্দারা প্রয়োজনভিত্তিক যে উন্নয়নের দাবি জানিয়েছিলেন, তার অধিকাংশই আজও অসম্পূর্ণ। কোথাও কাজ শুরু হয়ে মাঝপথে থেমে রয়েছে। কোথাও শুধুমাত্র ছাদের কাজ হয়েছে কিন্তু মেঝের কাজ হয়নি। আবার কোথাও কোনও কাজই শুরু হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণ সামগ্রী নষ্ট হচ্ছে বলেও তাঁর অভিযোগ।

শুধু তাই নয়, ওয়ার্ডে নিয়মিত জঞ্জাল পরিষ্কার হয় না। বহু বাসিন্দার বাড়িতে এখনও বিনামূল্যে পানীয় জলের সংযোগ পৌঁছোয়নি। পাশাপাশি আবাস যোজনার সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে 'কাটমানি' নেওয়ার অভিযোগ নিয়েও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে বলে দাবি করেন।

সরকার পরিবর্তন হলেও পূর্বে অনুমোদিত প্রকল্পের অর্থ তো বাতিল হয়নি। তাহলে অসমাপ্ত কাজগুলি ভবিষ্যতে সম্পূর্ণ হবে কি না, সে বিষয়ে কাউন্সিলর কিংবা পুরসভার চেয়ারম্যানের স্পষ্ট অবস্থান জানানো উচিত।

অন্য দিকে, এই অভিযোগকে গুরুত্ব দিতে নারাজ স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর স্নিগ্ধা ব্যানার্জি। তিনি জানান, 'আমার পাড়া, আমার সমাধান' প্রকল্পের ক্ষেত্রে কাউন্সিলর বা রাজনৈতিক নেতৃত্ব নয়, স্থানীয় মানুষের মধ্য থেকেই একজন সভাপতিকে নির্বাচন করা হয়েছিল। তিনি সরকারি আধিকারিক ও ঠিকাদারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রকল্পের কাজ তদারকির দায়িত্বে ছিলেন। ফলে এই প্রকল্পে কাউন্সিলরের সরাসরি কোনও ভূমিকা ছিল না বলেই তিনি দাবি করেন।

তবে পোস্টারে উল্লেখ করা চারটি কাজ এখনও সম্পূর্ণ হয়নি, তা কাউন্সিলর স্বীকার করেছেন। যদিও তাঁর দাবি, ১১ নম্বর ওয়ার্ডে প্রকল্পের প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। বাকি কাজ আদৌ এগোবে কি না, তা বর্তমান সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে বলেও তিনি জানান।

অসমাপ্ত প্রকল্প, অর্থ বরাদ্দ এবং কাজের অগ্রগতি নিয়ে উঠতে থাকা এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে শান্তিপুর পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডে রাজনৈতিক বিতর্ক ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।


Share