Hospital Safety

মোবাইল নিয়ে হাসপাতালের ওয়ার্ডে প্রবেশ নয়, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করল পূর্ব মেদিনীপুরের সিএমওএইচ

বিজ্ঞপ্তিতে এই বিষয়ে বলা হয়েছে, ‘ফায়ার এক্সিট’ সবসময় খোলা রাখতে হবে, করিডর ফাঁকা রাখতে হবে এবং নিয়মিত মকড্রিল ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা পরিদর্শন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) পালনে কোনও ধরনের গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলেও স্পষ্ট জানানো হয়েছে।

পূর্ব মেদিনীপুরের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের কার্যালয়।
নিজস্ব সংবাদদাতা, পূর্ব মেদিনীপুর
  • শেষ আপডেট: ০২ আগস্ট ২০২৬ ০৩:১৬

মোবাইল ফোন নিয়ে ওয়ার্ডে পরিজনেরা আসতে পারবে না। রোগীদের নিরাপত্তা, গোপনীয়তা এবং হাসপাতালের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করল পূর্ব মেদিনীপুরের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (সিএমওএইচ)। ৩১ জুলাই ২০২৬ তারিখে জারি হওয়া প্রশাসনিক বিজ্ঞপ্তিতে জেলার সমস্ত সরকারি হাসপাতালকে এই নির্দেশ কঠোরভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, রোগী ও তাঁদের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা হাসপাতাল চত্বরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবে না। নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া হতে পারে। রোগীদের গোপনীয়তা বজায় রাখতে অনুমতি ছাড়া হাসপাতালের ওয়ার্ডে ছবি তোলাও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যদি এমন ঘটনা ঘটে তাহলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশের সহযোগিতা নিতে পারে। প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ করতে পারবে।

এমন নির্দেশিকায় পরে প্রশ্ন উঠেছে। বর্তমানে মোবাইল ফোন অপরিহার্য একটি বস্তু। একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে মোবাইল ফোনই ভরসা। হাসপাতাল চত্বরে রোগীর পরিজনদের মোবাইলের ব‍্যবহার প্রয়োজন পড়তেই পারে। এক চিকিৎসকের কথায়, হাসপাতালগুলির বেহাল অবস্থার চিত্র যাতে ওপর মহলে পৌঁছে গেলে আধিকারিকেরা সমস্যায় পড়বেন। তাই নিজেদের পদ বাঁচাতে এই বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন।

হাসপাতালে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখতেও সিএমওএইচ বেশ কিছু নির্দেশিকা জারি করেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, হাসপাতাল চত্বরে গুটখা, তামাক ও অন্যান্য চিবিয়ে খাওয়া যায় এমন নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন এবং ময়লা-আবর্জনা ফেলা দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের ঘটনা রুখতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। এমন কোনও ঘটনা সমক্ষে এলে দোষীদের জরিমানা করতে হবে। যদিও এই নিয়ম আগে থেকেই ছিল। সেই নিয়ম আবার জেলা হাসপাতালের কর্তৃপক্ষদের মনে করিয়ে দেওয়া হল। 

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, হাসপাতাল চত্বরে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও অপ্রয়োজনীয় ভিড় অবিলম্বে এড়াতে হাসপাতালের সুপার বা প্রধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সুপার বা প্রধানের বিশেষ অনুমতি ছাড়া কোনও ব্যক্তিকে ওয়ার্ডে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না। এই নির্দেশ কার্যকর করার দায়িত্ব হাসপাতালের নিরাপত্তা বিভাগ এবং ওয়ার্ডে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর থাকবে। শুধুমাত্র গুরুতর অসুস্থ রোগীর ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যতিক্রম করা যেতে পারে। পরিস্থিতির ওপরে সেটা নির্ভর করবে।

এ ছাড়াও, হাসপাতালে অগ্নি-নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশিকাও কঠোর ভাবে মেনে চলতে বলা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে এই বিষয়ে বলা হয়েছে, ‘ফায়ার এক্সিট’ সবসময় খোলা রাখতে হবে, করিডর ফাঁকা রাখতে হবে এবং নিয়মিত মকড্রিল ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা পরিদর্শন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) পালনে কোনও ধরনের গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলেও স্পষ্ট জানানো হয়েছে।


Share