TMC Political Crisis

মমতার ঘনিষ্ঠ শশী পাঁজাও কি ছাড়ছেন তৃণমূল! কাকলির সঙ্গে দু'ঘণ্টার বৈঠক, বাড়ল জল্পনা

এরই মধ্যে নতুন করে জল্পনা ছড়িয়েছে, তৃণমূল আমলের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা শ্যামপুকুরের প্রাক্তন বিধায়ক শশী পাঁজাও শীঘ্রই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ছাড়তে পারেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ছাড়তে পারেন শশী পাঁজা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০২ আগস্ট ২০২৬ ০৩:৪৭

রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের পর তৃণমূলে ভাঙনের জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত একাধিক নেতা ইতিমধ্যেই দল ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দিয়েছেন। তৃণমূলের ২০ জন সাংসদও এনসিপিআই-এ নাম লিখিয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। শিবির বদলকারীদের তালিকায় রয়েছেন কয়েক জন প্রাক্তন মন্ত্রীও। এরই মধ্যে নতুন করে জল্পনা ছড়িয়েছে, তৃণমূল আমলের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা শ্যামপুকুরের প্রাক্তন বিধায়ক শশী পাঁজাও শীঘ্রই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ছাড়তে পারেন।

শনিবার থেকেই রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়। সেদিন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি থেকে মাত্র ৮০০ মিটার দূরে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ফার্টিলিটি ক্লিনিকে দেখা যায় রাজ্যের প্রাক্তন নারী ও শিশুকল্যাণমন্ত্রী শশীকে। উল্লেখ্য, কাকলি তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া ২০ জন ‘বিদ্রোহী’ সাংসদের অন্যতম। এই সাংসদরা বর্তমানে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের শরিক। সম্প্রতি এনডিএ-র বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে একই সারিতে বসতেও দেখা গিয়েছিল এনসিপিআই-এর সংসদীয় দলের মুখ্যসচেতক কাকলিকে। ফলে শশী ও কাকলির এই সাক্ষাৎকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা ও তাৎপর্যের ইঙ্গিত মিলছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের দুই নেত্রীর মধ্যে রাজনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি রয়েছে আরও একটি মিল শশী ও কাকলি, দু’জনেই পেশায় চিকিৎসক। যদিও বর্তমানে কেউই চিকিৎসা পেশায় সক্রিয় নন। শনিবার কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ‘ঘোষ দস্তিদার ইনস্টিটিউট অফ ফার্টিলিটি রিসার্চ’-এ যান শশী। সেই সময় ক্লিনিকে উপস্থিত ছিলেন কাকলিও। শশীর দাবি, তিনি ‘এমনিই’ সেখানে গিয়েছিলেন। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই সাক্ষাৎকে নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ বলে মানতে নারাজ রাজনৈতিক মহলের একাংশ। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ক্লিনিকে প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে দুই নেত্রীর মধ্যে বৈঠক হয়।

জল্পনা আরও বাড়িয়ে রবিবার সকালে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেন কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পুত্র বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার। সেই পোস্টে তিনি দাবি করেন, “শশী পাঁজা খুব শীঘ্রই তৃণমূল ছাড়তে চলেছেন।” যদিও কিছুক্ষণ পরেই পোস্টটি মুছে দেওয়া হয়। এই ঘটনার পর থেকেই শশী পাঁজার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। এ বিষয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি এবং পাঠানো বার্তারও কোনও উত্তর দেননি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে এই প্রতিবেদনে তা সংযোজন করা হবে।

উল্লেখ্য, এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে শ্যামপুকুর কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী পূর্ণিমা চক্রবর্তীর কাছে ১৪,৬৩৩ ভোটে পরাজিত হন টানা তিন বারের বিধায়ক শশী পাঁজা। তাঁর কন্যা পূজা পাঁজা কলকাতা পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর ছিলেন, যা শ্যামপুকুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। ভোটের পর থেকে শশীকে প্রকাশ্যে খুব একটা দেখা না গেলেও, পূজাকে ২১ জুলাই কালীঘাটে তৃণমূলের শহিদ সমাবেশে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। সেই কারণে অনেকেই মনে করেছিলেন, শশী এখনও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই রয়েছেন। তবে সম্প্রতি শশীর সঙ্গে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সাক্ষাৎ রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।


Share