Child Death

ক্ষীরপাই গ্রামীণ হাসপাতালে দেড় বছরের শিশুর মৃত্যু, চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগে বিক্ষোভে সামিল পরিবার

পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণার ক্ষীরপাই গ্রামীণ হাসপাতালে শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হওয়া দেড় বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। যদিও এখনও পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, ক্ষীরপাই
  • শেষ আপডেট: ১৭ জুলাই ২০২৬ ০৫:৩৪

পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণার ক্ষীরপাই গ্রামীণ হাসপাতালে দেড় বছরের এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার উত্তেজনা ছড়ায়। হাসপাতালের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ ওঠে। মৃত শিশু পরিবারের সদস্যরা হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ দেখান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ক্ষীরপাই ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘাটাল থানার চন্দননগর গ্রামের বাসিন্দা অমিত সিং ও শম্পা সিং তাঁদের দেড় বছরের মেয়ে সঞ্চিতাকে ঠান্ডা লাগা, জ্বর ও শ্বাসকষ্টের কারণে ক্ষীরপাই গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করান। কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে তাকে ভর্তি করার পরামর্শ দেন। পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই শিশুটির শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। সেই সময় জরুরি বিভাগে চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না বলেও তাঁরা দাবি করেন।

অভিযোগ, একাধিকবার কর্তব্যরত নার্সদের শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতির কথা জানানো হয়। তবুও কোনো যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরিবারের দাবি, সময়মতো চিকিৎসা না মেলায় ভর্তি হওয়ার প্রায় দেড় ঘণ্টার মধ্যেই শিশুটির মৃত্যু হয়। পরে চিকিৎসক এসে শিশুটিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে কান্নায় বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যরা ভেঙে পড়েন। এরপর হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ শুরু হয়। খবর পেয়ে ক্ষীরপাই ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিবারের সঙ্গে কথা বলে। পরিস্থিতি শান্ত করে।

মৃত শিশুর বাবা অমিত সিং বলেন, “মেয়ের শ্বাসকষ্ট বাড়ছিল। বারবার নার্সদের ডেকেছি, কিন্তু কেউ গুরুত্ব দেননি। সময়মতো চিকিৎসা হলে হয়তো আমার মেয়েকে বাঁচানো যেত। এই ধরনের ঘটনা আর কোনও পরিবারের সঙ্গে যেন না ঘটে।”

যদিও এখনও পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

পশ্চিম মেদিনীপুরের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সৌম্যশঙ্কর ষড়ঙ্গী জানান, এখনও পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ না পেলেও ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের বিএমওএইচ-এর সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে কথা হয়েছে।


Share