Health Safety

হাসপাতালের ১০০ গজে আর নয় গুটখা-সিগারেটের দোকান! আইপিডিতে মোবাইলেও কড়া নিষেধাজ্ঞা, বড় সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের

এ বার হাসপাতালের ১০০ গজের মধ্যে বিড়ি, পান, সিগারেট, গুটখা-সহ কোনও নেশাজাত দ্রব্যের দোকানেরও অনুমতি দেওয়া হবে না। রবিবার এই সিদ্ধান্তের কথা জানান রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।

স্বাস্থমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০২ আগস্ট ২০২৬ ০৮:৩৫

রাজ্যে নেশাজাত দ্রব্যের বিক্রিতে আরও কড়া অবস্থান নিল সরকার। কয়েক মাস আগে স্কুল, কলেজ ও অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এক কিলোমিটারের মধ্যে নতুন মদের দোকানের লাইসেন্স না দেওয়ার নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল। এ বার হাসপাতালের ১০০ গজের মধ্যে বিড়ি, পান, সিগারেট, গুটখা-সহ কোনও নেশাজাত দ্রব্যের দোকানেরও অনুমতি দেওয়া হবে না। রবিবার এই সিদ্ধান্তের কথা জানান রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘হাসপাতাল চত্বরের একশো গজের মধ্যে কোনও পান, বিড়ি, সিগারেট, গুটখা, মদের দোকান থাকবে না। এটা আইন আছে। আমরা দেখে নিয়েছি। সেটাকে কঠোর ভাবে লাগু করা হবে। হাসপাতালের মধ্যে গুটখা, পান খাওয়া যাবে না।’ পাশাপাশি হাসপাতালের অন্তর্বিভাগ (আইপিডি)-এ ভর্তি রোগীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারেও কড়া বিধিনিষেধের কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, আইপিডিতে ভর্তি রোগীরা মোবাইল ব্যবহার করতে পারবেন না। তবে চিকিৎসকদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় যোগাযোগের স্বার্থে স্বাস্থ্যকর্মী ও নার্সদের মোবাইল ব্যবহারের অনুমতি থাকবে। বিশেষ করে মহিলা রোগীদের গোপনীয়তা ও শালীনতা রক্ষার স্বার্থে তাঁদের ছবি তোলা বা ভিডিয়ো করা যাতে না হয়, সেই লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

এর আগে, গত শুক্রবার তিন দিনের জেলা সফরে পূর্ব মেদিনীপুরে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সফরকালে জেলার চারটি মহকুমার একাধিক হাসপাতাল পরিদর্শন করেন তিনি। রবিবার তমলুকের নিমতৌড়িতে জেলাশাসকের দফতরে পূর্ব মেদিনীপুর ও নন্দীগ্রাম এই দুই স্বাস্থ্য জেলার আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন তিনি। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার, হলদিয়ার বিধায়ক প্রদীপ বিজলী এবং স্বাস্থ্য দফতরের অন্যান্য শীর্ষ আধিকারিকরা।

জেলার হাসপাতালগুলিতে পরিচ্ছন্নতা, অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা সঠিক আছে কি না, রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সব কিছুই পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় হাসপাতালগুলি পরিদর্শন করলাম। একটা রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। প্রথমে আমরা সাবধান করলাম। আগামী দিনে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স থেকে কর্মীদের পরিবর্তন না হলে এবং হাসপাতাল থেকে দালাল চক্র বন্ধ না হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’


Share