Assam Flood

জল নামলেও দুর্ভোগ কাটেনি! বন্যাবিধ্বস্ত অসমে ঘরে ফেরানোর রূপরেখা সরকারের, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য একাধিক বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

সরকারের এখন প্রধান লক্ষ্য ত্রাণ ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা। একই সঙ্গে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত স্কুল, কলেজ, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র-সহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান দ্রুত পুনরুদ্ধারের কাজও শুরু হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

অসমে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি।
নিজস্ব সংবাদদাতা, অসম
  • শেষ আপডেট: ০২ আগস্ট ২০২৬ ০৫:৪৮

অসমের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে এখনও অনেকটা পথ বাকি। বিভিন্ন এলাকায় জল নামতে শুরু করায় ধীরে ধীরে বাড়িতে ফিরছেন বাসিন্দারা। তবে অধিকাংশ বাড়িই এখনও বসবাসের অযোগ্য। ভাঙাচোরা ঘরবাড়ি নিজের সামান্য সম্বল দিয়েই মেরামতের কাজে নেমেছেন বহু মানুষ। এখনও রাজ্যের সাতটি জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন। এই ভয়াবহ বন্যায় এখনও পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ৮২ জন।

শনিবার অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা জানান, বন্যায় গৃহহীন হয়ে পড়া মানুষদের দ্রুত ঘরে ফেরানো এবং তাঁদের পুনর্বাসনের জন্য একটি বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করছে রাজ্য সরকার। তিনি জানান, বন্যার জল ধীরে ধীরে নামতে শুরু করায় অনেকেই নিজেদের বাড়িতে ফিরছেন। তবে এখনও বিপুল সংখ্যক মানুষ ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নিয়ে রয়েছেন। সরকারের এখন প্রধান লক্ষ্য ত্রাণ ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা। একই সঙ্গে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত স্কুল, কলেজ, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র-সহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান দ্রুত পুনরুদ্ধারের কাজও শুরু হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘‘ক্ষতিগ্রস্ত স্কুল, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের মতো প্রতিষ্ঠানগুলির মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। বন্যার জেরে রাজ্যে ক্ষতির পরিমাণ কত, আগামী ৭ অগস্ট থেকে সেই বিষয়ে খতিয়ে দেখার কাজ শুরু হবে।’’ অসমের বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিবসাগর ও চরাইদেও জেলা। এই দুই জেলার ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি স্কুলের মেরামতের জন্য দু'লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির সংস্কারের জন্য আড়াই লক্ষ টাকা করে অনুদান দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনাই এখন প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকার। শিবসাগর জেলাতেই প্রায় ৫৫০টি স্কুল বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া, বন্যাকবলিত জেলাগুলির বাসিন্দাদের স্বস্তি দিতে জুলাই মাসের বিদ্যুৎ বিল সম্পূর্ণ মকুব এবং চলতি বছরের সম্পত্তি করও মকুব করার ঘোষণা করেছে অসম সরকার।


Share