Child Theft

আরামবাগ মেডিকেলের গাফিলতিতে নবজাতক শিশুর হাতবদল, কবর থেকে উদ্ধার শিশুর দেহ

হুগলির আরামবাগ মেডিক্যাল কলেজে নবজাতক অদলবদলকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এক নবজাতকের মৃত্যু হলেও ভুল করে তার দেহ অন্য পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়, পরে সেই দেহ কবর থেকে তুলে আনা হয়।

আরামবাগ মেডিক্যাল কলেজ
নিজস্ব সংবাদদাতা, হুগলি
  • শেষ আপডেট: ২৮ নভেম্বর ২০২৫ ০৭:২৪

হুগলির আরামবাগ মেডিক্যাল কলেজে শিশু চুরির অভিযোগ। বৃহস্পতিবার এক নবজাতককে চুরির অভিযোগে উত্তেজনা ছড়ায়। পরিবারের সদস্যরা এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায় যে নবজাতকটি ইতিমধ্যেই মারা গেছে।

 ভুল করে তার মৃতদেহ অন্য একটি পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তার জেরেই এই বিভ্রান্তি। পুলিশ পরে কবর থেকে মৃতদেহটি তুলে এনে সেই পরিবারের হাতে তুলে দেয়। এই ঘটনায় পরিবারের লোকেরা হাসপাতালের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলছেন। ঘটনার তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন আরামবাগ মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ। পুলিশও ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জাসমিনা বেগম তারকেশ্বরের বালিগোড়ির বাসিন্দা। তিনি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তাঁকে আরামবাগ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরের দিন তিনি একটি পুত্র–সন্তানের জন্ম দেন। জন্মের পরপরই সদ্যোজাত শিশুটির অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে এসএনসিইউ বিভাগে ভর্তি করা হয়। বুধবার পরিবার শিশুটির খোঁজ করতে যায়।

তখন হাসপাতালের কর্মীরা মঙ্গলবার রাতে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।

 ভুল করে দেহটি আরামবাগের বড়ডোঙ্গলের বাসিন্দা শেখ আলমগির শাহের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তাঁর স্ত্রী–ও সন্তান প্রসবের জন্যই ওই হাসপাতালেই ভর্তি হয়েছিলেন। ওই পরিবারের দাবি, হাসপাতাল থেকে জানানো হয়েছিল, তাঁদের শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। সেই মতো হাসপাতাল থেকে দেহ নিয়ে গিয়ে তাঁরা কবর দিয়ে দেন।

বুধবার সন্ধ্যায় হাসপাতাল থেকে পরিবারেরর লোকেদের ফোন করে জানানো হয়, তাঁদের বাচ্চা এখনও জীবিত আছে। খবর পেয়েই পরিবারের লোকেরা বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ছুটে আসেন। তাঁরা তড়িঘড়ি শিশুটিকে হাসপাতাল থেকে বের করে নিয়ে যান। বিষয়টি শোনার পরই জাসমিনা বেগমের পরিবারের লোকেরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা অভিযোগ করেন, তাঁদের বাচ্চাকে সম্ভবত বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। সেই ঘটনা ধামাচাপা দিতেই বাচ্চা মারা গিয়েছে বলে গল্প ফাঁদা হচ্ছে। জীবিত শিশুর ডিএনএ পরীক্ষারও দাবি তুলেছেন তাঁরা।

বৃহস্পতিবার জাসমিনা বেগমের পরিবারের লোকেরা হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ দেখান। যাঁদের ভুলে এই কাণ্ড ঘটেছে, তাঁদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তোলেন। এ নিয়ে হাসপাতালে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে আরামবাগ থানা থেকে বিশাল পুলিশ বাহিনী আসে। পরিবারের লোকেদের বুঝিয়ে কোনো ক্রমে শান্ত করে পুলিশ।

মৃত শিশুটির বাবা মতি খান বলেন, ‘ছেলেকে জীবিত অবস্থায় এসএনসিইউ বিভাগে ভর্তি করে গিয়েছিলাম। তারপর থেকেই ছেলের কোনও খোঁজ পাচ্ছিলাম না। এখন বলা হচ্ছে, বাচ্চাটা মারা গিয়েছে। আমার ছেলের দেহ নাকি অন্য কোনও পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। কেন এমনটা ঘটল, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেই তার জবাবদিহি করতে হবে। আমরা বলেছি, যে বাচ্চাটা জীবিত আছে, তার ডিএনএ পরীক্ষা করতে হবে।’

আলমগিরের বক্তব্য, ‘আমাদের হাতে একটা মৃত শিশুর দেহ তুলে দেওয়া হয়েছিল। আমরা তাকে নিয়ে গিয়ে কবর দিয়ে দিয়েছি। আবার বৃহস্পতিবার হাসপাতাল থেকে ফোন করে বলা হয়, আমাদের শিশু বেঁচে আছে। কী ভাবে এটা ঘটেছে, সেটা আমরাও কিছু জানি না। শিশু চুরির যে অভিযোগ উঠছে, তার সঙ্গে আমরা কোনও ভাবেই জড়িত নই।’

আরামবাগ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ রমাপ্রসাদ রায় বলেন, ‘আমি গোটা ঘটনার রিপোর্ট চেয়েছি। সেই রিপোর্ট স্বাস্থ্য ভবনে পাঠিয়ে দেব। যাঁরা এই ভুল করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে নিশ্চয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনা যাতে আর না ঘটে, তার জন্য যাঁরা হাসপাতাল থেকে দেহ নিয়ে যাবেন, তাঁদের আধার কার্ডের জেরক্স জমা রাখা হবে।’


Share