Beldanga Incident

ফের উত্তপ্ত মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা! জাতীয় সড়ক অবরোধ, রেলগেটে ব‍্যপাক ভাঙচুর, কালকের পর আজও অব্যাহত তান্ডব

আপাতত শিয়ালদহ-লালগোলা শাখার ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পূর্ব রেল। কৃষ্ণনগরের পরে আর কোনও ট্রেন যাবে না। কলকাতা থেকে আরপিএফ, আরপিএসএফ মুর্শিদাবাদ যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পূর্ব রেলের এক কর্তা।

বেলডাঙায় আবার অশান্তি।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বেলডাঙা
  • শেষ আপডেট: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ০১:৩১

শুক্রবার পাঁচ ঘন্টা বন্ধ ছিল ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক। শনিবার ফের অবরুদ্ধ হয়ে গেল সেই একই রাস্তা। রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িতে অবাধে ভাঙচুর চালানো হল। শয়ে শয়ে লোকের জমায়েত হয়েছে। কালকের পরে আজও সংবাদমাধ্যমের কর্মীকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ।

শনিবার সকালে বড়ুয়া মোড়ে আচমকাই শয়ে শয়ে মানুষ রাস্তায় নেমে পড়ে। সেখানকার রেলগেটও ভেঙে ফেলে দিয়েছে দুষ্কৃতীরা। স্টেশনের পাশে থাকা রেলের সিগন‍্যালও ভাঙা হয়েছে বলে খবর। রেলের লাইনের নেমে পড়ে কার্যত তান্ডব চালানো হচ্ছে। ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্পার ভাঙচুর করা হয়েছে।

আপাতত শিয়ালদহ-লালগোলা শাখার ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পূর্ব রেল। কৃষ্ণনগরের পরে আর কোনও ট্রেন যাবে না। কলকাতা থেকে আরপিএফ, আরপিএসএফ মুর্শিদাবাদ যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পূর্ব রেলের এক কর্তা। জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ হওয়ার আবার উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। রাস্তায় লাইন দিয়ে গাড়ি দাঁড়িয়ে পড়েছে। হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে যাত্রীদের।

বিহারে এক পরিযায়ী শ্রমিকের মারধরের ঘটনায় শনিবার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে জেইউপি নেতা হুমায়ুন কবির ঘটনাস্থলে যান। বিক্ষোভকারীদের বোঝানোর চেষ্টা করেন। কড়া ভাষায় বলেন, বিক্ষোভকারীদের অবরোধ তুলে নিতে বলেন। তাতেও কাজ হয়নি। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে বিশাল পুলিশ। তাঁরা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন।

যুবকের রহস্য মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সকাল থেকে রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি নিয়েছিল মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা। রেল এবং সড়কপথ অবরোধ করা হয়। পরে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। তাঁদের সঙ্গেও চলে বচসা। দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা তান্ডবের পরে পুলিশের মধ‍্যস্থতায় অবরোধ উঠে গিয়েছে। অশান্তিতে ১২ জন জখম হওয়ার খবর মিলেছে। জখমদের মধ্যে বেশ কয়েক জন সাংবাদিক রয়েছে। তবে কালকের পরে আজও অশান্তি ছড়িয়ে পড়ায় প্রশাসনের দিকে আঙুল তুলেছেন বিরোধীরা।

কংগ্রেস নেতা তথা বহরমপুরের প্রাক্তন অধীররঞ্জন চৌধুরী বলেন, “বহরমপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আসছেন। তাই সমস্ত পুলিশ সেখানে রয়েছে। এতো পুলিশ তার কী দরকার। তাই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না প্রশাসনের।”


Share