Behrampore Accident

‘স্টেশন মাস্টার ট্রেন আসার খবর দেয়নি,’ দাবি বহরমপুর কান্ডে ধৃত অনুপের, মেডিকেল পরীক্ষায় মাদক সেবনের প্রমাণ নেই, খবর সূত্রের

রবিবার দুপুরে ধৃত অনুপ কর্মকারকে আদালতে হাজির করানো হবে। তিনি ঘটনার জন‍্য কর্ণসুবর্ণের স্টেশন মাস্টারকে দায়ী করেছেন। স্টেশন মাস্টার জানায়নি বলে তিনি ট্রেন আসার খবর জানতে পারেননি।

বহরমপুরের দুর্ঘটনায় পাঁচ জনের মৃত্যু।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বহরমপুর
  • শেষ আপডেট: ১৯ জুলাই ২০২৬ ১২:১৯

শুক্রবার ভোরে মুর্শিদাবাদের গোবিন্দপুর রেলগেটে দুর্ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনার জন্য কর্ণসুবর্ণের স্টেশন মাস্টারকে দায়ী করলেন রেলগেটে সেই সময়ে কর্তব্যরত গেটম্যান অনুপ কর্মকার। তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অনুপের দাবি, “প্রতিদিন আপ-ডাউনের গাড়ি ছাড়লে, স্টেশন মাস্টার বলে দেন। কিন্তু শুক্রবার ডাউনের গাড়ি ছেড়েছেন, আমাকে বলেননি।”

কর্ণসুবর্ণের স্টেশন মাস্টার ধর্মেন্দ্র কুমারের দাবি, তাঁর সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অধিকার নেই। যদিও পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক (সিপিআরও) শিবরাম মাঝি বক্তব্য, এই সময় অনেকে অনেক রকম কথা বলবেন। সে জন্যই তদন্ত হচ্ছে। অন‍্য দিকে, হাওড়া রেল পুলিশের সুপার ইন্দ্রজিৎ বসুর দাবি, প্রাথমিক তদন্তে গেটম্যানের গাফিলতি পাওয়া গিয়েছে।

শুক্রবার ভোরে গোবিন্দপুর রেলগেট পেরোতে যাওয়া পুলকারে সজোরে ধাক্কা মারে দ্রুত গতিতে আসা একটি প‍্যাসেঞ্জার ট্রেন। সেই ঘটনায় চার স্কুলপড়ুয়ার মৃত্যু হয়েছে। এক বৃদ্ধেরও মৃত্যু হয়েছে। বিক্ষুব্ধ জনতার হাতে মার খেয়ে মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজে ভর্তি ছিল গেটম‍্যান অনুপ কর্মকার। অনুপকে রেল পুলিশ সেখান থেকেই গ্রেফতার করে। 

ঘটনাস্থলে যান কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী। ঘটনায় তিনি রেলের গাফিলতির অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, গেটম্যান সারাক্ষণ মদ‍্যপান করে থাকেন। সকাল থেকে রাত কেবিনের ভিতরে নেশা করেন। সূত্রের খবর, মুর্শিদাবাদ মেডিকেলে অনুপের ডোপ/মাদক পরীক্ষা করানো হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে তাঁর শরীরে মাদক সেবনের কোনও প্রমাণ মেলেনি। আজ, রবিবার অনুপকে আদালতে হাজির করানো হবে।

সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে। ভিডিয়োতে অনুপকে বলতে শোনা যাচ্ছে, “প্রতিদিনের মতো আপের গাড়ি ছাড়লে স্টেশন মাস্টার বলে দেন। ডাউনের গাড়ি ছাড়লেও স্টেশন মাস্টার বলে দেন। শুক্রবার আপের গাড়ি চলে যায়। সে দিন ডাউন লাইনের সিগন্যাল লাল হয়ে ছিল। ডাউনের গাড়ি ছাড়ার কথাও তখনও জানাননি।” তাঁর সংযোজন, “খাগড়াঘাট থেকে প্যাসেঞ্জার ট্রেন আসার আগে পাঁচ-সাত মিনিট সময় পাব, সে হিসেবেই গেট খুলেছিলাম।”

তবে রেল পুলিশের এক কর্তার কথায়, তারা প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছেন, গেটম্যানকে স্টেশন মাস্টার আপ ও ডাউন লাইনে ট্রেন যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। স্থানীয় সূত্রের খবর, গোবিন্দপুর রেলগেটে যে সিসি ক্যামেরা রয়েছে, তা অনেক দিন ধরেই অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। এই বিষয়ে সিপিআরও শিবরামের সাফাই, তিনি বিষয়টি জানেন না। তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন। তদন্ত এখনও চলছে। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হবে।

ঘটনায় আহত ছাত্রছাত্রী ও গাড়ির চালক বিপন্মুক্ত হলেও এলাকায় এখনও আতঙ্ক কাটেনি। রেলগেট পেরিয়ে এক টোটোচালকের দাবি, তিনি রেলগেটে বাড়তি কিছু সময় অপেক্ষা করে টোটো চালাচ্ছেন। যাত্রীরাও তাড়াহুড়ো করতে চাইছে না। শুক্রবারের দুর্ঘটনায় মৃত তামান্না পারভিনের মা শুকুরুনেসা খাতুন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়। চিকিৎসার পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তামান্নার সঙ্গে একই পুলকারে রোজ স্কুলে যেত দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী শ্রেয়া দত্ত। শুক্রবার সে যায়নি। তার মা শুচিস্মিতা দত্ত বলেন, “মেয়ের শরীর ভাল না থাকায় শুক্রবার ভোরে ড্রাইভারকে ফোন করে জানিয়ে দিই, ও স্কুলে যাবে না। মেয়ে স্কুলে গেলে কী হত ভাবলে, হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে!”


Share