Special Intensive Revision

‘আইন মেনেই কাজ করা উচিত,’ রাজ‍্যের সাত সরকারি আধিকারিক সাসপেন্ড, স্পষ্ট বার্তা রাজ‍্যের মুখ‍্য নির্বাচনী আধিকারিকের

একমাত্র পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেই 'নজিরবিহীন' সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি কমিশনের। রাজ্যের সিইও জানান, ২০০০ সালের সুপ্রিম কোর্টের অর্ডার অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন চাইলে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে রাজ্যের আধিকারিকদের সাসপেন্ড করতে পারে।

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০১:৩৯

আইন মেনেই কাজ করা উচিত। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। সবার কাজের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। রাজ‍্যের সাতজন আধিকারিকের সাসপেন্ড করার বিষয়ে মুখ খুললেন রাজ‍্যের মুখ‍্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল।

রাজ্যে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এফআইআর)-এর শুনানি প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। সেই কাজের জন্য একাধিক নিয়ম বেঁধে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। জনপ্রতিনিত্ব আইন অনুযায়ী, তাঁদের অক্ষরে অক্ষরে সেই নিয়ম মেনে চলার কথা। কিন্তু অভিযোগ, সাসপেন্ড হওয়া সাতজন আধিকারিক কমিশনের নির্দেশ অমান্য করেছেন। তাঁদের কর্তব্যে গাফিলতি রয়েছে। এ ছাড়াও, এই সমস্ত রাজ‍্য সরকারি আধিকারিকেরা অসদাচরণ এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে বলেও অভিযোগ করেছে নির্বাচন কমিশন।

সোমবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল বলেন, এসআইআর যবে থেকে শুরু হয়েছে, একটাই বার্তা যে সবাইকে কমিশনের নিয়ম মেনে কাজ করতে হবে। সিইও-র কথায়, কেউ অপরিসীম ক্ষমতা পায়নি। কেউ ‘লাগামছাড়া’ হতে পারে না। আইন আছে। নিয়ম রয়েছে। তা মেনেই কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে। তাঁদেরকে তা মেনেই কাজ করতে হবে।” সবাইকে নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করতে হবে বলেও ফের একবার তাঁদের দায়িত্ব মনে করিয়ে দিয়েছেন রাজ‍্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের অনেক বার কাগজপত্র যাচাই করে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর এবং জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর কাগজপত্র যাচাই করেন। তিনি ইআরও এবং এইআরও-দের উদ্দেশ্যে এ-ও বলেন, তাঁরা অনেক অভিজ্ঞ। তাঁরা জানেন কী করতে হবে। তাই হাতে এখনও অনেকটাই সময় আছে। আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় আছে। তাই যত এন্ট্রি করা হয়েছে বা নিস্পতি বাকি রয়েছে তা পুনরায় একবার যাচাই করে নেবেন।” নির্বাচন কমিশনের কাজে আগে থেকেই অনেক অভিযোগ আসছিল।

বারবার বলা সত্ত্বেও তার পরেও ভুল না সংশোধন করে এই পথে হাঁটার কারণে এমন কঠর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হল নির্বাচন কমিশন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছে, এই সাত জন সরকারি আধিকারিককে সাসপেন্ড করায় বাকিদের মধ্যে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন।

পশ্চিমবঙ্গ-সহ ন'টি রাজ্য ও তিনটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর-এর কাজ চলছে। তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গেরই একমাত্র রাজ্য যেখানে এমন 'নজিরবিহীন' সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে কমিশনের। রাজ্যের মুখ‍্য নির্বাচনী আধিকারিকের কথায়, ২০০০ সালের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, কমিশন চাইলে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে রাজ্যের আধিকারিকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে পারে। এমনকী, তাঁদেরকে সাসপেন্ড পর্যন্ত করতে পারে।

সাসপেন্ড হওয়া সাত জনের মধ্যে তিন‌ জনই রয়েছেন মুর্শিদাবাদ জেলার, দু’জন দক্ষিণ ২৪ পরগনার, একজন জলপাইগুড়ির এবং এক জন পশ্চিম মেদিনীপুরের আধিকারিক। জানা গিয়েছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং পূর্বের দুই এইআরও সত্যজিৎ দাস এবং জয়দীপ কুণ্ডু, জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ির এইআরও ডালিয়া রায়চৌধুরী, মুর্শিদাবাদের সমশেরগঞ্জের এইআরও শেফাউর রহমান, ফরাক্কার এইআরও নীতীশ‌ দাস, সুতির এইআরও শেখ মুর্শিদ আলমকে এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরার এইআরও দেবাশিস বিশ্বাসকে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

মুখ্যসচিবকে পাঠানো চিঠিতে কমিশন‌ নির্দেশ দিয়ে জানিয়েছে, ওই সাত আধিকারিককে অবিলম্বে সাসপেন্ড করতে হবে। তাঁদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে পদক্ষেপ করতে হবে। এই নির্দেশ মানায় দেরি করা চলবে না। এই নির্দেশ পাওয়ার পরে রাজ্য কী পদক্ষেপ করছে, তা-ও নির্বাচন কমিশনকে জানাতে বলা হয়েছে। সোমবার পর্যন্ত কমিশনের নির্দেশ কার্যকর না হওয়ায় তাঁরাই এঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করল। এমন ঘটনা আগে কবে ঘটেছিল, রাজনৈতিক মহল তা স্মরণ করতে পারছে বলেই দাবি করা হয়েছে।

ভোটার তালিকায় বেআইনি ভাবে নাম নথিভুক্ত করার অভিযোগে ওঠে দুই বিধানসভার কেন্দ্রের ইআরও এবং এইআরও-দের বিরুদ্ধে। ওই চার আধিকারিক হলেন তথাগত মণ্ডল, দেবোত্তম দত্তচৌধুরী, বিপ্লব সরকার এবং সুদীপ্ত দাস। তাঁদের সাসপেন্ড (নিলম্বিত) করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সুরজিৎ হালদার নামে ডেটা এন্ট্রির কাজে যুক্ত কর্মীর বিরুদ্ধেও এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। অভিযোগ, তাঁরা বেআইনি ভাবে নিজেদের লগইন আইডি শেয়ার করেছেন। যাতে কমিশনের তথ‍্য নিরাপত্তাকে বিপদে ফেলেছে। এই চার সরকারি আধিকারিককে সাসপেন্ড করে এফআইআর করতে বলেছিল কমিশন। রাজ‍্যে এই চার আধিকারিককে সাসপেন্ড করলেও এফআইআর করেনি।

রাজ‍্যের মুখ‍্যসচিবকে ডেকে পাঠানোর পরের দিন শনিবার ফের নির্বাচন কমিশন চার সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ নবান্নকে দিয়েছে। এর আগে ‘রিমাইন্ডার’ দেওয়া হলেও এ বার পদক্ষেপ নেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দিল নির্বাচন কমিশন। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কমিশনের নির্দেশ কার্যকর করতে বলা হয়েছে। আগামীকাল কমিশনের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হচ্ছে। রাজ্য আদৌ কোনও পদক্ষেপ করবে কি না সেই দিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।


Share