Calcutta High Court

পেশ করা হয়নি ফরেনসিক রিপোর্ট, পুলিশের তদন্তে গাফিলতি, ধর্ষণ ও খুনে অভিযুক্তের শাস্তি মুকুব করল হাই কোর্ট

ঘটনার সূত্রপাত ২০০৮ সালের মার্চ মাসে, যখন সাত বছরের একটি শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর কংসাবতী নদী থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার হয়। প্রাথমিকভাবে স্বাভাবিক মৃত্যু মনে হলেও অন্ত্যেষ্টির সময় শরীরে আঘাতের চিহ্ন মেলায় পুলিশে অভিযোগ জানানো হয় এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টে ধর্ষণের বিষয়টি সামনে আসে।

কলকাতা হাই কোর্ট
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০২:৪২

পুলিশের তদন্তে চরম গাফিলতি এবং নিম্ন আদালতের বিচার প্রক্রিয়ার সীমাবদ্ধতার কারণে নিরপরাধ মানুষকে কীভাবে দীর্ঘ সময় জেল খাটতে হয়, কলকাতা হাই কোর্টের সাম্প্রতিক একটি রায় তার জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা শেখ জাহাঙ্গির নামে এক ব্যক্তি একটি নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের দায়ে দীর্ঘ নয় বছর কারাবাস করার পর অবশেষে উচ্চ আদালত থেকে বেকসুর মুক্তি পেয়েছেন। বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা ও বিচারপতি অজয়কুমার গুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চ পুলিশের তদন্তে একগুচ্ছ ত্রুটি ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণের অভাব খুঁজে পেয়ে এই সাজা রদ করার নির্দেশ দেয়।

ঘটনার সূত্রপাত ২০০৮ সালের মার্চ মাসে, যখন সাত বছরের একটি শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর কংসাবতী নদী থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার হয়। প্রাথমিক ভাবে স্বাভাবিক মৃত্যু মনে হলেও অন্ত্যেষ্টির সময় শরীরে আঘাতের চিহ্ন মেলায় পুলিশে অভিযোগ জানানো হয় এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টে ধর্ষণের বিষয়টি সামনে আসে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই শেখ জাহাঙ্গিরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ২০১৭ সালে নিম্ন আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। কিন্তু জেল থেকে হাই কোর্টের দারস্থ হন। মামলার বিচারে দেখা যায় যে, পুরো সাজাটিই ছিল অত্যন্ত দুর্বল সাক্ষ্যপ্রমাণের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছে।

উচ্চ আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, জাহাঙ্গির নিজেই নাবালিকার বাবা-মাকে জানিয়েছিলেন যে তিনি মেয়েটিকে কাঁদতে দেখেছিলেন একজন অপরাধী সাধারণত নিজেকে এ ভাবে ধরা দেওয়ার ঝুঁকি নেন না। সবচেয়ে বড় গাফিলতি ছিল ফরেনসিক ও মেডিকেল পরীক্ষার ক্ষেত্রে। অভিযুক্তের ডিএনএ বা বীর্যের নমুনার সঙ্গে নিগৃহীতার কোনও বৈজ্ঞানিক মিল পাওয়া যায়নি। এ ছাড়াও, ফরেনসিক ল্যাবরেটরির রিপোর্টও নিম্ন আদালতে পেশ করা হয়নি। এমনকী, যে পোশাকগুলি প্রমাণ হিসেবে উদ্ধার হয়েছিল, তা-ও উদ্ধার হয়েছিল অন্য এক অভিযুক্তের বাড়ি থেকে। সব দিক খতিয়ে দেখে বিচারপতিরা সিদ্ধান্ত নেন যে, জাহাঙ্গিরই ওই অপরাধ করেছেন তার কোনও প্রমাণ নেই। বরং পুলিশের তদন্তে রয়ে গিয়েছে বিরাট শূন্যস্থান। এই রায়ের মাধ্যমে এক নিরপরাধ মানুষের দীর্ঘ কারাবাসের যন্ত্রণার অবসান ঘটলেও তদন্তকারী সংস্থা ও বিচারব্যবস্থার একাংশের ভূমিকা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠে গেল।


Share