Mysterious Death

প্রেমের বিয়ের তিন বছরের মাথায় গৃহবধূর রহস্যমৃত্যু, খুনের অভিযোগ পরিবারের

মৃতার পরিবারের অভিযোগ, বৃষ্টিকে খুন করে আত্মহত্যার ঘটনা বলে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, হরিণঘাটা
  • শেষ আপডেট: ৩১ জুলাই ২০২৬ ১১:৩৬

নদিয়ার হরিণঘাটায় এক গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতার পরিবারের অভিযোগ, পণের দাবিতে মেয়ের ওপর শশুরবাড়ি নির্যাতন চালাত । তার পর তাঁদের মেয়েকে খুন করা হয়েছে। যদিও শ্বশুরবাড়ির দাবি, ওই গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতার নাম বৃষ্টি পাড়ুই। শুক্রবার তাঁকে হরিণঘাটা গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। বৃষ্টির শ্বশুরবাড়ি হরিণঘাটা পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের দিঘাপাড়া শিবমন্দির এলাকায়। তাঁর সাথে সুজিত ভৌমিকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল প্রায় তিন বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয়েছিল।

মৃতার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই পণের দাবিতে বৃষ্টির উপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চলত। তাঁদের দাবি, সুজিত প্রায়ই মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি ফিরে অশান্তি করতেন। এমনকি আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধুদের সঙ্গেও বৃষ্টিকে যোগাযোগ রাখতে দেওয়া হতো না বলেও অভিযোগ। মৃতার বাবা কৃষ্ণ পাড়ুই জানান, মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে তাঁকেও অপমান করা হয়। মারধরের মুখে পড়তে হয়।

শুক্রবার সকালে পরিবারের কাছে খবর আসে, বৃষ্টি গলায় ফাঁস দিয়েছে। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছে তাঁরা মেয়ের নিথর দেহ দেখতে পান। মৃতার পরিবারের অভিযোগ, বৃষ্টিকে খুন করে আত্মহত্যার ঘটনা বলে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁদের আরও দাবি, হাসপাতালে পৌঁছেও তাঁরা স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির কাউকে দেখতে পাননি।

মৃতার দাদা অভিযোগ করেন, সুজিত কোনও স্থায়ী কাজ করতেন না। প্রায়ই বৃষ্টির উপর বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য চাপ সৃষ্টি করতেন। প্রতিবেশীদের কাছ থেকেও বোনের উপর নির্যাতনের খবর পেতেন বলে তিনি দাবি করেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে পরিবার।

পুলিশ দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়নি।


Share