Murder

ভালোবাসার ফাঁদে মৃত্যু! বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অপহরণ ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ মুর্শিদাবাদে

বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক যুবতীকে অপহরণ করে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, আট দিন আগে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে যুবতীকে দীর্ঘদিন ধরে ভয় দেখিয়ে নির্যাতন করা হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে একটি বাড়ি থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, মুর্শিদাবাদ
  • শেষ আপডেট: ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ০৩:৪১

বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক যুবতীকে অপহরণ করে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়াল মুর্শিদাবাদে। বৃহস্পতিবার রাতে রঘুনাথগঞ্জ থানা এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যেই এক যুবককে আটক করেছে রঘুনাথগঞ্জ থানার পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত যুবতী স্থানীয় একটি স্কুলে একাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিলেন। ধৃত যুবকের বাড়ি ভরতপুর থানা এলাকায়। মৃতের পরিবার দাবি করেছে, আট দিন আগে যুবতী বাড়ি থেকে বেরোতেই অভিযুক্ত তাঁকে অপহরণ করে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

এর পর থেকে নিখোঁজ যুবতীর খোঁজে পরিবারের লোকেরা বিভিন্ন এলাকায় খোঁজাখুজি কোনও হদিশ মেলেনি। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পুলিশের পক্ষ থেকে পরিবারকে ফোন করে জানানো হয়, একটি বাড়ি থেকে ওই যুবতীর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ।

মৃতার বাবা অভিযোগ, “আমার মেয়েকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ডেকে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে খুন করেছে ওই যুবক। দিন আটেক আগে আমার মেয়ে যখন বাড়ি থেকে বার হয়ে হেঁটে যাচ্ছিল সেই সময়ে তাঁকে বাইকে করে তুলে নিয়ে যায়। বিভিন্ন জায়গায় আমি আমার মেয়ের খোঁজ করেছিলাম কিন্তু তাকে খুঁজে পাইনি। আমার মেয়ে গত কিছুদিন ধরে ‘ভয়েস মেসেজ’ পাঠাত। সে আমাদের ফোন করতে পারত না। বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ আমাকে ফোনে জানায় আমার মেয়ের প্রাণহীন দেহ রঘুনাথগঞ্জ থেকে উদ্ধার হয়েছে।”

মৃতার কাকা বলেন, “একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত এক যুবকের সঙ্গে আমার ভাইঝি প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিল। ওই যুবকের বাড়িতে দুই সন্তান এবং স্ত্রী রয়েছে। কিন্তু এই সম্পর্কের কথা গোপন করে আমার ভাইঝির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন ওই ব্যক্তি।”

মৃতার কাকার অভিযোগ, প্রায় ছ’মাস আগে অভিযুক্ত যুবক তাঁর ভাইঝিকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল। বহু চেষ্টা করে পরে সে বাড়ি ফিরে আসে। কিন্তু আট দিন আগে ফের একইভাবে তাঁকে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবারের দাবি, অভিযুক্ত যুবক তাঁকে নিজের ‘ডেরা’য় আটকে রেখে একাধিকবার নির্যাতন চালায়। পাশাপাশি, সেই সংক্রান্ত ছবি মোবাইল ফোনে তুলে রাখে।

কাকার আরও জানান, ওই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করলেই গোপন ছবি সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে যুবতীকে দীর্ঘদিন ধরে ভয় দেখানো হচ্ছিল। তাঁর দাবি, অভিযুক্তের এই কার্যকলাপের প্রমাণ পরিবারের হাতে রয়েছে এবং তা মোবাইল ফোনে সংরক্ষিত আছে।

তাঁর অভিযোগ, ভাইঝি এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছিল। সেই জন্যই ওই যুবক তাঁকে বৃহস্পতিবার রাতে শ্বাসরোধ করে খুন করেছেন। পরিবার ওই যুবকের কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন।


Share