Murder Case

ধারালো অস্ত্র দিয়ে যুবককে পরপর কোপ, ভাইয়কে খুনের প্রতিশোধ নিতে গ্রামে দাদা, পলাতক অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার ভাই

মৃতের দাদা নবী শেখের দাবি, পান্না শেখ গ্রামে ফেরার পর থেকেই তাঁরা আতঙ্কে ছিলেন। তাঁর অভিযোগ, এলাকায় নতুন করে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছিল পান্না। তবে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে, তা কল্পনাও করতে পারেননি তিনি।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, ফরাক্কা
  • শেষ আপডেট: ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ০২:৪৭

যুবকেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে পরপর কোপ! ভাইয়ের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতেই গ্রামে ফিরেন এসেছিলেন দাদা। এমনই অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল মুর্শিদাবাদের ফরাক্কায়। অভিযোগ, রবিবার গভীর রাতে ফরাক্কা থানার অন্তর্গত এনটিপিসির কেন্দুয়া অ্যাশপন্ড এলাকায় এক যুবককে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে। মৃতের নাম আলম শেখ (৪৮)। জানা গিয়েছে, আলম ওই অ্যাশপন্ডে নৈশপ্রহরীর কাজ করতেন।

পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার রাতে কাজে যাওয়ার সময় আচমকাই আলম শেখের ওপর হামলা চালানো হয়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপ মেরে তাঁকে খুন করা হয়। পান্না শেখ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, পান্না শেখ তাঁর ভাইয়ের হত্যার বদলা নিতেই এই হামলা চালান। ঘটনার তদন্তে নেমেছে ফরাক্কা থানার পুলিশ। তবে সোমবার সকাল পর্যন্ত অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৫ সালে গ্রাম্য বিবাদ-কে কেন্দ্র করে জোড়পুকুরিয়া গ্রামে একটি খুনের ঘটনা ঘটেছিল। অভিযুক্ত পান্না শেখের ভাই তৌফিক শেখকে বাড়ি থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ ওঠে। ঘটনায় মৃত আলম শেখ-সহ বেশ কয়েক জনের নাম জড়ায়। তাদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয় ফরাক্কা থানায়। পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। দীর্ঘদিন হাজতবাসের পর আলম শেখ জামিনে মুক্ত পায়। ভাই তৌফিক শেখের খুনের পর দাদা পান্না শেখ প্রাণের ভয়ে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যায়। মাস দু’য়েক আগে পান্না শেখ দীর্ঘদিন পর জোড়পুকুরিয়া গ্রামে ফিরে এসে বসবাস শুরু করে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। মৃত আলম শেখের দাদা নবী শেখ তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতা। নবী শেখের স্ত্রী হাসনারা বিবি তৃণমূল কংগ্রেসের ফরাক্কা পঞ্চায়েত সমিতির বর্তমান সদস্য।

রবিবার গভীর রাতে আলম শেখ এনটিপিসির কেন্দুয়া অ্যাশপন্ডে নৈশপ্রহরীর ডিউটিতে যাওয়ার সময় হামলার শিকার হন। অভিযোগ, পান্না শেখ ও তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েক জন আচমকাই আলম শেখের পথ আটকায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপ মেরে তাঁকে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার পর অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয়। ঘটনাস্থলেই আলম শেখের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় পুলিশ। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠায় তাঁরা। 

মৃতের দাদা নবী শেখের দাবি, পান্না শেখ গ্রামে ফেরার পর থেকেই তাঁরা আতঙ্কে ছিলেন। তাঁর অভিযোগ, এলাকায় নতুন করে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছিল পান্না। তবে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে, তা কল্পনাও করতে পারেননি তিনি।


Share